তারিখ পে তারিখ! উমর খালিদদের জামিন শুনানি ফের স্থগিত
Umar Khalid: ফলে একাংশের দাবি, এই গ্রেফতারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনেকেই মনে করেন, এই মামলায় প্রমাণের অভাব রয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই অভিযুক্তদের দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।

দিল্লি হিংসায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার উমর খালিদ, শারজিল ইমাম, মীরান হায়দার, গুলফিশা ফাতিমা এবং শিফা উর রেহমানের জামিন আবেদনের শুনানি শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট ফের স্থগিত রাখল। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর (সোমবার)। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা ওঠার পর দ্বিতীয়বার শুনানি পিছোল।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চে এই আবেদনগুলি তালিকাভুক্ত ছিল। লাইভ ল-এর রিপোর্ট অনুসারে, এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এই শুনানি স্থগিত করেছিল। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, এই মামলার সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলি রাত ২.৩০ মিনিটে পৌঁছেছে, ফলে শুনানি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Umar Khalid, Sharjeel Imam denied bail: একই সঙ্গে, বিচারপতি সুব্রমণিয়াম প্রসাদ এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের সমন্বয়ে গঠিত আরেকটি বেঞ্চ সহ-অভিযুক্ত তাসলিম আহমেদের জামিনের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে।
এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট খালিদ, ইমাম, হায়দার এবং ফাতিমা-সহ ন'জনের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি শালিন্দর কৌরের ডিভিশন বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যান্য আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন আথার খান, খালিদ সাইফি, মহম্মদ সেলিম খান, শিফা উর রেহমান এবং শাদাব আহমেদ। এই অভিযুক্তদের ২০২০ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁরা ট্রায়াল কোর্টের জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন।
একই দিনে দিল্লি হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ, বিচারপতি সুব্রামণিয়ম প্রসাদ এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্কর, সহ-অভিযুক্ত তাসলিম আহমেদের জামিনও খারিজ করে। এই অভিযুক্তরা গত কয়েক বছর বারবার জামিনের আবেদন করলেও আদালত স্থগিতাদেশই জারি করেছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Umar Khalid: ২০১৮ সালের ১৩ অগাস্ট, সংসদ ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে অজ্ঞাত পরিচয় দুই যুবক উমরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
উল্লেখ্য দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল দ্বারা নথিভুক্ত এফআইআর ৫৯/২০২০ অত্যন্ত বিতর্কিত। এই এফআইআর-এ ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি) এবং অবৈধ কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ) এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৯-২০২০ সালে ভারতজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল এনআরসি সিএএ আন্দোলন। পরবর্তীকালে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক আহত হন। এই ঘটনায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে উমর খলিদ গ্রেফতার হন। অন্যদিকে শার্জিলকে গ্রেফতার করা হয় বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার অভিযোগে।
আজ পর্যন্ত সেই মামলা বিশ বাও জলে। ফলে একাংশের দাবি, এই গ্রেফতারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনেকেই মনে করেন, এই মামলায় প্রমাণের অভাব রয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই অভিযুক্তদের দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির যুক্তি, ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইনের অপব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করা হচ্ছে। উমর খালিদ সিএএ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। একইভাবে শারজিল ইমামও প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। তারই মাশুল গুণতে হচ্ছে। শুনানিতে স্থগিতাদেশের ফলে অভিযুক্তদের কারাবাস আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপই এই মামলায় ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে পারে।






