মান্নার কণ্ঠে উত্তমের লিপে বাংলা গানে র‍্যাপের ছাপ! রইল তুমুল জনপ্রিয় সেই গানের ইতিহাস

Uttam Kumar-Manna Dey: পরিচালককে বললেন, “‘আমি আগন্তুক, আমি বার্তা দিলাম’— মান্নাদার মতো ভারতবর্ষের কোনও শিল্পীই গাইতে পারবে না।” খুব একটা ভুল যে বলেননি, তার প্রমাণ তো হাতেনাতেই। মান্না দে-ই নেপথ্যসঙ্গীতে রয়ে গেলেন।

Sindhu Som
৫ মিনিট
মান্নার কণ্ঠে উত্তমের লিপে বাংলা গানে র‍্যাপের ছাপ! রইল তুমুল জনপ্রিয় সেই গানের ইতিহাস

সিনেমার জগতেও আর চার পাঁচটা উপস্থাপনার ক্ষেত্রের মতো গতের চল বেশি। ধরুন, আপনার বাড়িতে অতিথি এসেছে। আপনি কিছু মিষ্টি, তেলেভাজা সাজিয়ে পরিবেশন করলেন। দেখা গেল মিষ্টি তিনি তেমন পছন্দ করছেন না। তেলেভাজাতেই তাঁর ঝোঁক বেশি। পরেরবার থেকে খাবার পরিবেশনের সময় আপনি সেইটেই মাথায় রাখবেন। ঠিক সেরকম, মাচায় যদি কেউ রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে নাচ করে, তবে ফলাফল খুব একটা সুখকর হবে না। এই যে একটি বিশেষ জিনিস স্থানকালপাত্র ভেদে গ্রহণ, এ যেমন প্রেক্ষিত নামক একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার তৈরি করে, যার কাঁধে ভর দিয়ে সমস্ত অর্থ-অনর্থের জগৎ দাঁড়িয়ে রয়েছে, আবার এই প্রেক্ষিতই সময় বিশেষে এক একটা সীমাবদ্ধতার খোপ টেনে দেয়। পূর্বনির্ধারিত এই খোপ কাজের থেকে অকাজ করে বেশি। একেই বলে গত। বাংলা সিনেমাতেও এই গতের বিপুল প্রভাব ছিল, আছেও। যে কয়েকজন হাতে গোনা পরিচালক সেটা ভেঙে কাজ করার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের মধ্যে সরোজ দে অন্যতম। সরোজ দে-র নাম বললেই অনিবার্যভাবে ‘কোনি’-র নাম চলে আসবে। এ সেই গতের প্রভাব। তবে ‘কোনি’ ছাড়াও বাংলা ছবির জগতে আরও বেশ কয়েকটি অভূতপূর্ব কাজ তিনি করে গেছেন। তার মধ্যে একটি হল উত্তমের লিপে মান্নার কণ্ঠে গান। এমনকি র‍্যাপ মিউজিকের ছোঁয়া পর্যন্ত ছিল তাতে। আজ তাই নিয়ে আড্ডা জমুক বরং।

নতুন গায়ক-গায়িকদের নিয়ে কাজ করা সরোজ দে-র একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল বলা যায়। সুধীন দাশগুপ্তের মতো মানুষকে ছবির জগতে প্রথম সুযোগ দিয়েছিলেন এই সরোজ বাবুই। ‘ডাক হরকরা’ ছবিতে তারাশঙ্করের লেখায় সুর করলেন সুধীন দাশগুপ্ত। কোনও বাদ্যযন্ত্র ছাড়া কেবলমাত্র একটি দোতারার রিদমে মান্না দে-কে গাইতে বললেন সরোজ দে। “ওগো তোমার শেষ বিচারের আশায় আমি বসে আছি”! সে গান যে কী পরিমাণ হিট হয়েছিল, সে কথা সকলেরই জানা। আজও একটি প্রজন্মের অবহেলায় অবজ্ঞায় দুঃখ ভারাক্রান্ত মন সেই গানের কাছে ফিরে ফিরে আসে। আশ্রয় চায়। কাছের মানুষদের কাছে সরোজবাবু ছিলেন কালুদা। এই কালুদার হাত ধরেই আরতির ‘বিলম্বিত লয়’ ছবির একের পর এক হিট গান। “এক বৈশাখে দেখা হল দুজানায়/ জষ্ঠিতে হল পরিচয়”—সবাই চাইছিলেন লতার কণ্ঠ। কিন্তু পরিচালকের জেদের কাছে হার মানতে হয়। রয়ে যায় এক অনন্য সৃষ্টি।

ওঁর এক সাগরেদ জয়ন্ত ভট্টাচার্য নিয়ে এসেছিলেন আরেক গায়িকাকে। কলকাতা বেতারে তখন কাজ করতেন অতন্দ্র ঘোষ দস্তিদার। তাঁর মাধ্যমেই দীনেন্দ্র চৌধুরীর পল্লীগীতির দলে একটি মেয়ের গান খুব পছন্দ হয় তাঁর। নিয়ে আসেন সুরকার বাহাদুর খানের বাড়িতে। সবারই খুব পছন্দ। কিন্তু সরোজ বাবু এঁকে দিয়ে আধুনিক গান গাওয়াতে নারাজ। বললেন, রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়াব। পল্লীগীতি গায়িকার কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত পেল এক অনন্য মাত্রা। আর প্লে ব্যাকের জগতে আমরা পেলাম অরুন্ধতী হোমচৌধুরীকে। যে ছবি সরোজ দে-র কথা উঠলেই মানুষের মুখে মুখে ঘোরে, সেই ‘কোনি’ ছবিতেও সঙ্গীত-পরিচালক কাকে নিয়েছিলেন জানেন? রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হিসাবে খ্যাত চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়কে। সরোজ বাবুর চিন্তা স্বাভাবিকভাবেই এমন উলটোপথে চলত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, তা গ্রহণ করতে দর্শকের কোনও অসুবিধা তো হয়ইনি, বরং বিপুল সাফল্য পেয়েছে সেইসব কাজ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাথরুমে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল উত্তমকুমারকে! কী ঘটেছিল সেদিন

Uttam Kumar: সংগীত পরিচালক হিসেবে কীভাবে অভিষেক হলো মহানায়কের?

সেই সরোজবাবু ‘শঙ্খবেলা’ করছেন, নায়কের ভূমিকায় উত্তম। বেশ জটিল একটি চরিত্র। নায়কের লিপে নেপথ্যসঙ্গীতের জন্য ভেবেছেন মান্নাকে। এদিকে সুরকার সুধীন দাশগুপ্ত তাঁর কালুদাকে বলেছেন, “আপনার মতো আমারও উত্তমকুমার মানেই হেমন্তের গান বড় একঘেয়ে লাগছে। বরং আমার আর পুলকবাবুর তৈরি গানগুলো কিশোরকে দিয়ে গাওয়ান। ‘বেটার রেজাল্ট’ হবে।” তাই শুনে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতামত চাইলেন পরিচালক। গীতিকার দীর্ঘদিন এই সুযোগটিই খুঁজছিলেন। উত্তমের লিপে মান্নার একটা গান হোক— তাঁর বড় ইচ্ছা। তিনি পরিচালককে বললেন, “‘আমি আগন্তুক, আমি বার্তা দিলাম’— মান্নাদার মতো ভারতবর্ষের কোনও শিল্পীই গাইতে পারবে না।” খুব একটা ভুল যে বলেননি, তার প্রমাণ তো হাতেনাতেই। মান্না দে-ই নেপথ্যসঙ্গীতে রয়ে গেলেন।

সেই গানেরই একটি অংশ খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, বর্তমানে যাকে আমরা র‍্যাপ মিউজিক বলি, তার আদল এসে গিয়েছিল সেই ১৯৬৬তেই। তখন অবশ্য র‍্যাপ কাকে বলে গায়ক, সুরকার, গীতিকার, পরিচালক কেউই জানতেন না। জানার কথাও নয়। কিন্তু “মাঝখানে গোটা দুই স্টেডিয়ামে ফুটবল নেই/ সাহারার দুপুরেতে গায়ে কেন কম্বল নেই/ আল্পসের চুড়োতে উটপাখি উড়ছে/ ভদকার ডুব জলে সিগারেট পুড়ছে/ কার টুপি হল যে নিলাম”— এই অংশটিতে র‍্যাপ মিউজিকের একটা আদি ছাপ লক্ষ্য করা যায়। সেদিক দিয়ে দেখলে, উত্তমই এই জাতীয় গানের জনপ্রিয়তা বাড়ান বাংলায়। উত্তমের লিপে জনপ্রিয় ছবির গান না হলে অমন একটি ‘উদ্ভট’ গান সে সময় কতদূর চলত বলা মুশকিল।

‘দম্পতি’ ছবিতেও কমল দাশগুপ্ত এই স্টাইল ব্যবহার করেছিলেন। রবীন মজুমদারের গাওয়া ‘নীলপরী স্বপ্নে জাগালোরে জাগালো’ গানটি ইউটিউবে পাওয়া যায়। তার শুরুর অংশটুকু শুনলে দেখবেন, “নীলপরি গো নীলপরি/ স্বপ্নলোকের অপ্সরী/ বাসন্তিকার সঙ্গিনী গো কল্পলতার মঞ্জরী/ নীলপরী/ যৌবনেরই কুঞ্জবনে ছন্দ মধুর গুঞ্জরনে/ চাঁদের আলোর ঢেউ তুলে আজ মর্তে এসো রূপ ধরি/ নীলপরি”— এই অংশটা বিটের সঙ্গে র‍্যাপের মতোই গাওয়া। তবে বলাবাহুল্য কৃষ্ণাঙ্গদের যে সঙ্গীতদর্শন র‍্যাপের প্রাণ, তা এতে ছিল না, কিন্তু অধুনা বিখ্যাত ভারতীয় র‍্যাপের কোনটিতেই বা তার ছাপ রয়েছে? কেবল পোশাক পরিচ্ছদ অনুকরণটুকু ছাড়া! যাই হোক, এ ধরনের উদাহরণ বাংলা গানে সে সময়ই পাওয়া যাচ্ছে— এটা নেহাত মামুলি ব্যাপার না। বরং বাঙালির গর্ব তারা কমল দাশগুপ্ত বা সুধীন দাশগুপ্তের মতো সুরকার পেয়েছে। তবে প্রতিদানে বাঙালি বরাবরই কাতর। কমল দাশগুপ্তের মতো সুরকার বিস্মৃত বহুদিন। তাঁকে নিয়ে পরে কখনও ফের আড্ডা দেওয়া যাবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্টিয়ারিং বুকে লেগে স্পট ডেথ— সিনেমায় আর ফেরা হয়নি ছবি বিশ্বাসের

Chhabi Biswas: ইন্দ্রপুরীর বন্ধ গেটের সামনে একট চেয়ার নিয়ে বসে আছেন ছবি বিশ্বাস। তাঁর দু’পাশে মাটিতে রাজ্যের টেকনিশিয়ান। রাস্তা দিয়ে বাস যাচ্ছে, ধুলো উড়ছে, লোকে বলাবলি করছে, “আরে ছবি বিশ্বাস রে। ছবি বিশ্বাস।”

‘শঙ্খবেলা’র গান নিয়ে উত্তমের খানিক সংশয় ছিল। আদৌ মান্নার গলায় গানটা চলবে কিনা তা ঠিক আঁচ করতে পারছিলেন না মহানায়ক। “কে প্রথম কাছে এসেছি” গানটা নিয়ে মামাকে বলেছিলেন, “মামা গানটা লিখেছে ভালো। কিন্তু নিজেই নিজের সর্বনাশ করেছে। ওর বন্ধু মান্না দে-কে দিয়ে গানটা গাইয়েছে। আমার গলার সঙ্গে মান্না দের গলা মিলবে না, গানটা মার খাবে।” অথচ সে বছরই সত্যজিতের পরিচালনায় ‘নায়ক’ করছেন উত্তম। এইখানে তাঁর ভিতরের টানাপোড়েনের একটা ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্ল্যামার ছেড়ে বিনা প্রসাধনে বসন্তের দাগ মুখে যিনি অভিনয় করতে রাজি হচ্ছেন, রাজি হচ্ছেন গ্ল্যামারকে বিনির্মাণ করতে, প্রায় একই সময়ে তিনি মান্নার গলা তাঁর সঙ্গে মিলবে না, অর্থাৎ পাবলিক যা শুনতে অভ্যস্ত, তা শুনতে না পেয়ে গানটা চলবে না বলে আশঙ্কা করছেন। এইখানেই অরিন্দমের পর্দার বৃত্ত ছাড়িয়ে উত্তম খোদ ট্র্যাজিক নায়ক।

পুলকবাবু ভরা সভায় সে কথা শুনে একটু অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন বটে। তবে পরিচালক বসেছিলেন গীতিকারের পাশেই। কানে কানে বললেন, “যা খুশি বলুক, শুনবেন না। গান হিট করবেই।” সেবার কার কথা ফলে গিয়েছিল, তা আর নাই বা বললাম। তার নজির পরের ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’-র গানগুলোতে রয়েছে গিয়েছে। চিরকালীন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম। বাংলা ছায়াছবির গানের ইতিহাসে সে এক নতুন মোড়। এবং যার কৃতিত্ব কেবল এবং কেবলমাত্র সরোজ দে ওরফে কালুদার। ফের সময়ের নিরিখের ব্যাপারটা খানিক আসে। একটা সময়ে জনস্রোত যাঁকে ‘পাগল’ বলে, সেই দলছুট যে কত বড় মাইল ফলক রেখে যাচ্ছেন, তা বোঝে আগামী। আদতে আগামীর জন্যেই তো পায়ের ছাপ রেখে যাওয়া। সে যতটুকুই হোক না কেন! বর্তমান আত্মকেন্দ্রিক হলে বিচারের খাতায় অতীতের যে বাকির ঢের জমে উঠবে! সেই ঋণ সে শুধবে কীসে? ভেবে দেখুন, আমাদের যা কিছু অর্জন, যেগুলি মানুষের স্বীকৃতি পেয়েছে, সবই তো অতীতের। বর্তমান গড়ায় অতীতে। তাই দোষারোপ থাক। বরং চেষ্টা হোক অতীতের দূরত্ব কমানোর! তাতে সোনার সেঁউতিও মেলে, দুধভাতের অভাবও আর তেমন ফোটে না।

তথ্যঋণ-

কথায় কথায় যে রাত হয়ে যায়

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।