বারবার আইনি নোটিশ, সত্যিই বিশ্বভারতীর জমি দখল করে রেখেছেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন?

Amartya Sen Visva-bharati University : তাঁর গবেষণা, কাজ আজও অনেক মানুষকে প্রভাবিত করেন। সেই অমর্ত্য সেনই নাকি জমি কেড়ে নিয়েছেন!

Aritra Som
৩ মিনিট
বারবার আইনি নোটিশ, সত্যিই বিশ্বভারতীর জমি দখল করে রেখেছেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন?

সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২৩-র নভেম্বরে তিনি ৯০ বছর পূর্ণ করবেন। গোটা বিশ্বের কাছে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন তিনি। অর্থনীতি ও দর্শনের মানচিত্রে এক আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। তিনি কেবল শান্তিনিকেতন, প্রেসিডেন্সি, কলকাতার নন। তিনি ‘ভারতরত্ন’, অমর্ত্য সেন। তাঁর হাত ধরে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেখেছে এই দেশ। তাঁর গবেষণা, কাজ আজও অনেক মানুষকে প্রভাবিত করেন। সেই অমর্ত্য সেনই নাকি জমি কেড়ে নিয়েছেন! ‘জমি কব্জা’ করে রেখেছেন!

এমন অভিযোগই করেছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একবার নয়, বারবার সেই অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। খবরের শিরোনামে জায়গা পেয়েছে সেটি। শান্তিনিকেতনের ওই অঞ্চলেই রয়েছে অমর্ত্য সেনের বাড়ি ‘প্রতীচী’। সেই বাড়িতে তাঁর জন্ম, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নামকরণ করেছিলেন। তাঁর দাদু ক্ষিতিমোহন সেন ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য। মা অমিতা সেন ছিলেন খোদ রবি ঠাকুরের ছাত্রী। এই বাড়ি বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর সেই বাড়িটাই আজ বিশ্বভারতীর রোষে পড়েছে! কিন্তু, কেন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য! কেন এমনটা বললেন অমর্ত্য সেন?

CM Mamata Banerjee Amartya Sen : তৃণমূলের বিধায়ক থেকে শুরু করে সাংসদ-মন্ত্রী, সাধারণ কর্মী, প্রত্যেকের বক্তব্য একটাই। ‘ভারত এবার মেয়েকে চায়’।

২০২৩-র জানুয়ারিতে শান্তিনিকেতনে এসেছেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন। তারপরই ফের একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ডেসিম্যাল জমি (প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গফুট) অমর্ত্য সেন দখল করে রেখেছেন। জমি মাপজোকের সময় সেই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। অবিলম্বে সেই জমি ফেরত দেওয়ার কথা সেই নোটিশে বলা হয়েছে। এটাই অবশ্য প্রথমবার নয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বিশ্বভারতীর জমি দখল করে রয়েছেন, সেই কথা বারবার বলা হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। এমনও বলা হয়েছে, রাজ্যের ভূমি সংস্কারের নিয়ম মেনে দুই তরফেরই প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জমির মাপজোক নেওয়া হোক।

প্রতিবারই অমর্ত্য সেন বলেছেন, বিশ্বভারতীর এই দাবির কোনও ভিত্তি নেই। বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ব্যবহার করেছেন ‘কল্পনাপ্রসূত’ শব্দটি। অমর্ত্য সেন বারবার বলেছেন, এই জমি তাঁর বাবা নিজে কিনেছিলেন। সামান্য কিছু অংশ বিশ্বভারতীর থেকে কেনা। প্রায় ৫০ বছর হয়ে গেল এই জায়গায় তাঁরা বসবাস করছেন। তাহলে হঠাৎ এখন কেন এই বিতর্কের সূত্রপাত? এতদিন তো কোনও কিছু হয়নি!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অভিজিৎ থেকে বিদ্যুৎ, উপাচার্য-ছাত্র সংঘাত অব্যাহত, সমস্যাটা কোথায়?

Vice Chancellor and Student Clash: পড়ুয়াদের গুলি মারার নিদান কি দিতে পারেন উপাচার্য? কোন পরিস্থিতিতে রাজ্যের ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক?

১৩ ডেসিম্যাল জায়গাটি আদতে কার, সেই বিতর্কে যাওয়ার অবকাশ নেই। কার জমি, সেটা অবশ্যই প্রমাণ সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু বেশকিছু জায়গায় একটু নজর দেওয়া দরকার। প্রথমত, অমর্ত্য সেন জমি দখল করে রেখেছেন, এই বিতর্ক ঠিক কবে থেকে শুরু হল? সত্যিই তো, আগে এই ব্যাপারে কিছুই শোনা যায়নি! রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরাসরি ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর দিকে। ২০১৮ সাল থেকে তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। প্রায় সেই সময়ের পর থেকেই অমর্ত্য সেনের সঙ্গে জমি সংঘাতের শুরু। এছাড়াও বিশ্বভারতীর নানা বিষয় নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি করেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। অনেকেরই মত, তিনি নাকি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ মেনে চলেন। রাজ্য সরকারের সঙ্গেও তাঁর সংঘাত অব্যাহত।

এর ঠিক উল্টোপিঠে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। তিনি ভারতরত্ন, দেশকে সর্বোচ্চ জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন। অথচ তাঁকেই এখন শুনতে হয়, তিনি ভারতের জন্য কী করেছেন? সারাজীবন বিদেশে পড়ে থেকেছেন, আর দেশের নাম খারাপ করেছেন। যদি সত্যিই তাই হয়, তাহলে ‘ভারতরত্ন’ কী করে দেওয়া হল?

আর এই কথাগুলি আগে শোনা যায়নি। ২০১৪-র পর থেকে অমর্ত্য সেনকে ঘিরে যাবতীয় বিতর্কের জন্ম। কারণ? অধ্যাপক সেন ঘোষিতভাবে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরোধী। প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন। বিজেপি সরকারের বিভিন্ন কাজ, নীতির সমালোচনা করেন। দেশের ইতিহাস বদলে দেওয়ার চেষ্টাকে তিরস্কারও করেন। সেজন্য বারবার গেরুয়া শিবিরের রোষানলে পড়েন তিনি। ‘বিজেপি এক হিন্দু ভারতের জন্ম দিয়েছে’ – অধ্যাপক সেনের এমন মন্তব্য ভালো চোখে নেননি বিজেপির শীর্ষ নেতারা।

তাই বারবার তাঁর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে গেরুয়া শিবির। কী এমন করেছেন অধ্যাপক সেন? বাইরে গিয়ে কেবল দেশের বদনাম করেছেন! তাঁর থেকে ভালো অর্থনীতি নাকি অনেকেই বোঝেন! এমন অনেক ‘বুলি’ আউরে থাকেন বিজেপি নেতারা। সম্প্রতি বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী উপাসনা গৃহে বলেছেন, আজকাল জমি কব্জাকারীরাও রাবীন্দ্রিক! ইঙ্গিত কার দিকে, সেটা নতুন করে বলে বোঝাতে হবে না। সেই বিরোধিতারই একটি অংশ এই জমি বিতর্ক? ইঙ্গিত তো সেদিকেই যাচ্ছে।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।