মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য! কেন এমনটা বললেন অমর্ত্য সেন?

CM Mamata Banerjee Amartya Sen : তৃণমূলের বিধায়ক থেকে শুরু করে সাংসদ-মন্ত্রী, সাধারণ কর্মী, প্রত্যেকের বক্তব্য একটাই। ‘ভারত এবার মেয়েকে চায়’।

inscript
২ মিনিট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য! কেন এমনটা বললেন অমর্ত্য সেন?

‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য’ – বক্তা হলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন!

কেবল এটুকুই সাড়া ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যিনি বলছেন, তিনি তো হেলাফেলার কেউ নন! অমর্ত্য সেন! নোবেলজয়ী পণ্ডিত, অর্থনীতিবিদ, সেইসঙ্গে ভারতরত্ন! সেই তিনিই কিনা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের দাবিদার মানছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে! বহুদিন ধরে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসেরই এমনটা বক্তব্য ছিল। ঘাসফুলের নিচুস্তরের কর্মী থেকে বিধায়ক-সাংসদ-মন্ত্রী, প্রত্যেকের বক্তব্য একটাই। ‘ভারত এবার মেয়েকে চায়’। এ নিয়ে বিশেষ ক্যাম্পেনও শুরু হয়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে খোদ অমর্ত্য সেনের এমন বক্তব্য শুধু অক্সিজেন নয়, জীবনদায়ী ওষুধও দিল তৃণমূল কংগ্রেসকে।

ঘটনাটি ঠিক কী? সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে একটি সাক্ষাৎকার দেন অমর্ত্য সেন। সেখানে দেশ ও বিশ্বের অর্থনীতি ছাড়াও উঠে আসে রাজনীতির প্রসঙ্গ। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর বছর পেরোলেই ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচন। কাজেই রাজনীতির প্রসঙ্গ যে আসবে না, সেটা মনে করাটাই অন্যায়। আর অমর্ত্য সেন এর আগেও নিজের মতামত, আদর্শ সব খোলাখুলিই বলেছেন। সেজন্য বহুবার বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরাগভাজনও হয়েছেন। ঘোষিতভাবেই বিজেপি বিরোধী তিনি। দেশজুড়ে ধর্ম নিয়ে হিংসা, বেকারত্ব, মন্দা বাদ দিয়ে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বের দিকে বেশি মন, ইতিহাস বিকৃতি – সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করেছেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ।

২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, বিজেপি এর আগে সহজেই জিতেছে। গুজরাত ভোটেও রেকর্ড হারে জিতেছে। কিন্তু ২০২৪ নির্বাচন গেরুয়া ব্রিগেডের জন্য খুব একটা সহজ হবে না। অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, আঞ্চলিক দলগুলি আগামী লোকসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। সাম্প্রতিক বেশকিছু নির্বাচনে এই আঞ্চলিক দলগুলির প্রভাবই দেখা গিয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি থেকে বাংলায় তৃণমূল – বিজেপিকে পরাস্ত করেছে তারা। ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলিও হেলাফেলার নয়।

এই প্রসঙ্গেই চলে আসে তৃণমূলের কথা। বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির মতো সাপে নেউলে সম্পর্ক নয় অমর্ত্য-মমতার। বরং নোবেলজয়ীর স্বাস্থ্য নিয়েও খেয়াল রাখেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। একেবারে মতবিরোধ হয় না, তা হয়তো নয়। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী হিসেবে দেখছেন? এর উত্তরেই ফের একবার আঞ্চলিক দলগুলির প্রসঙ্গ সামনে আনেন অমর্ত্য সেন। বিজেপির বিরুদ্ধে এই দলগুলির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসও যে একটা ভূমিকা নিতে পারে, জানান তিনি।

সেইসঙ্গেই বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আছে। তিনি যোগ্য। কিন্তু তিনি আদৌ বিজেপি বিরোধী হাওয়া তুলতে পারবেন কিনা, মানুষের হতাশার জায়গা বুঝে সেখানে পৌঁছতে পারবেন কিনা সেটা জানা নেই। এর ওপরেই অনেকটা নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ। সবাইকে এক ছাতার তলায় আনতে পারলে তবেই মমতা মুখ হয়ে উঠবেন, এমনটাই মনে করেন অমর্ত্য সেন। আঞ্চলিক দলগুলিও বড় ভূমিকায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।