লাসসা জ্বর কতটা ভয়ানক? জেনে নিন এই রোগের লক্ষণগুলি...

Piya Saha
৩ মিনিট
লাসসা জ্বর কতটা ভয়ানক? জেনে নিন এই রোগের লক্ষণগুলি...

করোনা অতিমারীর প্রকোপ শুরু হতেই বিশ্বের নানাপ্রান্তে এমন কিছু ভাইরাসের মধ্যে খোঁজ মিলেছে যা অনায়েসেই হতে পারে আরও এক মহামারীর কারণ। সদ্য আফ্রিকায় হদিশ মিলেছে তেমনই এক ভাইরাসের। ইতিমধ্যেই সে দেশে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে ' লাসা ভাইরাস'। নাইজেরিয়ার এক শহরের নামেই এই ভাইরাসের নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এখনও পর্যন্ত ৪০০-রও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন লাসসা জ্বরে।তবে এই সংখ্যাটা বাস্তবে কয়েক হাজার বলেই মনে করছেন চিকিসকেরা।শুধু আফ্রিকাতেই এখনও পর্যন্ত এই জ্বরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭০ জনের। সিরিয়ার দা ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের দেওয়া এই তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশ পেয়েছে।

তবে শুধু আফ্রিকা নয় যুক্তরাজ্যেও তিনজন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন এই জ্বরে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যুও হয়েছে গত ১১ ফেব্রুয়ারি।চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ভাইরাসের সাতসতেরো-

লাসসা জ্বর কী ?

নাইজেরিয়ার দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড পলিউশন অনুসারে, ১৯৬৯ সালে প্রথম নাইজেরিয়ার লাসা শহরে এই ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়।এটি একধরনের রক্তক্ষরণজনিত রোগ। লাসা ভাইরাসের কারণে মানুষের শরীরে যে জ্বর হয় তার মূল বাহক ইঁদুর। পশ্চিম আফ্রিকার অন্ডো,বাদুনা, ডেল্টা, গিনিয়া, ঘানা প্রদেশের কয়েকশো মানুষ এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।তবে এখনও এন্ডেমিক অবস্থাতেই রয়েছে সংক্রমণ।

কীভাবে মানুষের ছড়িয়ে পড়তে পারে এই সংক্রমণ?

লাসা ভাইরাসে আক্রান্ত ইঁদুরের লাল , প্রস্রাব এবং মলের সংস্পর্শে এলে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস।কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যবস্তু বা অন্যান্য কোনো ব্যবহার্য জিনিস সংক্রমিত ইঁদুরের সংস্পর্শে এলেও মানুষের শরীরের সঞ্চারিত হতে পারে এই রোগের ভাইরাস।

মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের সম্ভাবনা

আক্রান্ত ব্যক্তির মলমূত্র কিংবা শারীরিক যেকোনো ধরনের তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া আলিঙ্গন, হ্যান্ডশেক বা সংক্রামিত ব্যক্তির কাছে গেলেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে সুস্থ মানুষের দেহে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এই ভাইরাস পরীক্ষারগার থেকেও মানবদেহে সঞ্চারিত হতে পারে।

লক্ষণগুলি কী?

লাসসা জ্বরের উপসর্গগুলির সাথে করোনার উপসর্গের অনেকটাই মিল রয়েছে। চিকিৎসক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এর সাথে ইবোলার কিছু মিলও খুঁজে পেয়েছেন।

ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার এক থেকে তিন সপ্তাহ পরে ব্যক্তির দেহে বিভিন্ন লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়। জ্বর, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মত উপসর্গ দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে। গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট,বুকে ব্যথা, পেশীতে ব্যথার মত লক্ষণগুলিও দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তির মুখ ফুলে উঠতে পারে।মুখ,নাক বা যৌনাঙ্গ থেকেও রক্তপাতও ঘটতে দেখা গেছে অনেকের ক্ষেত্রে। লক্ষণ প্রকাশিত হওয়ার দু - তিন সপ্তাহের মধ্যে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। মূলত মাল্টি অরগান ফেইলিওরের কারণে ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

চিকিৎসা

এখনো পর্যন্ত লাসসা জ্বরের চিকিৎসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই।২০১৯ সালে দুটি ভ্যাকসিন প্রথম ধাপের ট্রায়ালের জন্য আনা হয়েছিল।সেগুলির ট্রায়াল এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়নি।

তবে সাধারণত এ জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ৬ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,লাসসা জ্বরে আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। রিভাভিরিন এন্টিভাইরাল নামক একটি প্রতিষেধক এই জ্বরে ভালো কাজ করে।

রোগের পরবর্তী প্রভাব

সংক্রমণ থেকে সেরে উঠলেও বিভিন্ন মাত্রার বধিরতার সমস্যা দেখা গিয়েছে অনেকের ক্ষেত্রে। প্রতি তিন আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে একজনের মধ্যে বধিরতার সমস্যা ধরা পড়েছে। চিরকালের মতোও শ্রবণশক্তি হারিয়ে গেছে অনেকের।

চিন্তার বিষয়

মাত্র ১ শতাংশ রোগীদের ক্ষেত্রেই এই ভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। রোগীদের হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয় এবং ভর্তি রোগীদের ১৫ শতাংশের মৃত্যু হতে পারে। তবে ৮০ শতাংশ রোগীর দেহেই এর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না ফলে সঠিক চিকিৎসাও হয়না।ইউরোপীয় সেন্টার ফর দিসিজ প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোল অনুসারে কিছু কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাস মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়েই এই রোগ মারাত্মক রূপ নেয়।

আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় মাত্র পাঁচটি ল্যাবরেটরিতে এ মুহূর্তে এই রোগ সনাক্তকরণের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।