৩ দিনেই ৭০ হাজার সদস্য, কে এই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে?

Who is Abhijit Dipke, Cockroach Janta Party: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কে? কেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠা করা হলো? দলের সদস্য হওয়ার শর্ত কী কী?

inscript
৩ মিনিট
৩ দিনেই ৭০ হাজার সদস্য, কে এই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে?

রাজনীতিতে নতুন দল গড়া মানে সাধারণত দীর্ঘ সাংগঠনিক প্রস্তুতি, বিপুল অর্থবল এবং বহু বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। কিন্তু ডিজিটাল যুগে সেই সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। এখন একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট কিংবা একটি ভাইরাল মিমও কয়েক দিনের মধ্যে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসতে পারে। ঠিক এমনভাবেই আলোচনায় এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। নামটি শুনতে হাস্যকর হলেও, এর ভিতরে রয়েছে বেকারত্ব, সামাজিক হতাশা এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ। এই অনলাইন আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছেন এক তরুণ রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, অভিজিৎ দীপকে। মাত্র ৩ দিনের মধ্যেই ৭০ হাজার তরুণ এই পার্টির সদস্য হয়েছেন।

অভিজিৎ দীপকে কে?

অভিজিৎ দীপকের বয়স ৩০ বছর। তিনি পেশায় রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ। ডিজিটাল মাধ্যমে কী ভাবে জনমত গড়ে ওঠে, রাজনৈতিক বার্তা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটিই তাঁর কাজের মূল ক্ষেত্র।

মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা অভিজিৎ প্রথমে পুনেতে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। বস্টন ইউনিভার্সিটিতে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি ডিজিটাল যুগে জনমত নির্মাণের কৌশল নিয়ে পড়াশোনা করেন।

মিম, ছোট ভিডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের মাধ্যমে কী ভাবে রাজনৈতিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

আম আদমি পার্টির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা

২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অভিজিৎ দীপকে আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন।

বিশেষ করে ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মিম-ভিত্তিক ডিজিটাল প্রচারে যুক্ত ছিলেন। সেই সময় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে আম আদমি পার্টি বড় জয় পায়। অভিজিৎ ও তাঁর সহকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তাকে সহজ, রসিক এবং তরুণদের উপযোগী করে তুলেছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন বেকার যুবদের ‘পরজীবী’, ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি?

CJI Surya Kant: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, অনেক তরুণ আইনজীবী কাজ না পেয়ে সামাজিক মাধ্যম, আরটিআই আন্দোলন বা নানা ধরনের অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং সেখান থেকে 'সবাইকে আক্রমণ' করতে শুরু করছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি 'তেলাপোকা'র মতো শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন।

কেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠা?

সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করেন, বেকার যুবকদের ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পরে ওই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও বিষয়টি তরুণদের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

অভিজিৎ দীপকে এই শব্দটিকেই প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত করেন। তাঁর ভাবনা ছিল সহজ। সমাজ যদি কিছু তরুণকে অপ্রয়োজনীয় বা উপেক্ষিত বলে মনে করে, তবে সেই পরিচয়কেই তারা ব্যঙ্গের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে। এইভাবেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র।

প্রথমে অনেকেই এটিকে নিছক মজা বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু খুব দ্রুতই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ চাকরি, পরীক্ষা, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অস্বচ্ছতা নিয়ে হতাশ তরুণ প্রজন্মের মনের কথা তুলে ধরে।

দলের সদস্য হওয়ার শর্ত

প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলির মতো এখানে আদর্শগত আনুগত্য বা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা জরুরি নয়।

এই দলে যোগ দিতে হলে—

• প্রথম শর্ত— চাকরি না থাকা।

• দ্বিতীয় শর্ত— নিজেকে ‘অলস’ বলে মেনে নেওয়া।

• তৃতীয় শর্ত— সোশ্যাল মিডিয়ায় পেশাদারের মতো ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ক্ষমতা থাকা।

• এই শর্তগুলি বাস্তব নিয়ম নয়, বরং ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক বার্তা।

বেকারত্ব, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং সামাজিক চাপের বিরুদ্ধে তরুণদের হতাশাকেই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আজকের বহু তরুণ চাকরির অভাব, পরীক্ষার চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাকে মিম, পোস্ট এবং ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সেই ডিজিটাল সংস্কৃতিকেই রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।

ব্যঙ্গের আড়ালে রাজনৈতিক বক্তব্য

দলটির ঘোষিত অবস্থানের মধ্যে রয়েছে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতার মতো বিষয়। অর্থাৎ নামটি যতই ব্যঙ্গাত্মক হোক, উত্থাপিত প্রশ্নগুলি যথেষ্ট গুরুতর।

অভিজিৎ দীপকের মতে, এটি যুবসমাজের একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উদ্যোগ। তাঁর কথায়, তরুণদের ক্ষোভ ও হতাশাকে একজায়গায় এনে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টি

ভঙ্গি তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আরশোলা কর্মী শেখ আব্দুল হাফিজকে বেআইনিভাবে আটক, কী ঘটেছিল?

Cockroach abdul Detained for Dissent: ৮ অক্টোবর, ২০২৬, কলকাতা পুলিশ বাঁকুড়ার সিজেপি কর্মী শেখ আব্দুল হাফিজ ও তাঁর দলকে আটক করে। অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে মারধর ও মহিলা সদস্যদের নিগ্রহের। ৯ ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। ১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তর সমাবেশ ঘিরে, ১০ হাজার কর্মী আটকের অভিযোগ করেছে সিজেপি। অগাস্ট মাসে সিজেপির 'স্কুল ঠিক করো' অভিযানের পর, আব্দুলের বাবার মৃত্যু হয়েছিল।

বিপাকে ভারতীয় কর্মীরা, গ্রিন কার্ডের আবেদন থেকে কেন বাদ টিসিএস, উইপ্রো- সহ ৮ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা?

US Green Card Restrictions: মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক সংস্থা এমন ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছে, যার ফলে আমেরিকার নাগরিকদের চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও অভিবাসন ব্যবস্থার উপর নজরদারি আরও কঠোর করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ছ’বছর ধরে জেলবন্দি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষক সম্মান পেলেন উমর খালিদ

Umar Khalid Human Rights Award: এ বছর তাঁর সঙ্গে আরও চার জন মানবাধিকারকর্মী এই সম্মান পেয়েছেন। তাঁরা হলেন ইরানের মৃত্যুদণ্ড-বিরোধী আন্দোলনকর্মী আহমদরেজা হায়েরি, অ্যাঙ্গোলার গণতন্ত্রকর্মী লরিন্ডা ম্যানুয়েল গুভেইয়া, ব্রাজিলের ব্ল্যাক ট্রান্স নারী ও অধিকারকর্মী আদ্দা ভিক্টোরিয়া কায়েতানো এবং সার্বিয়ার শান্তি ও নারীবাদী আন্দোলনের কর্মী লিলিয়ানা নেশিচ।

তিন দিনে তিনবার আটক রাহুল, রাজঘাটে বিরোধীদের ধর্না: SIR নিয়ে সংঘাত কোথায় গিয়ে ঠেকল?

Rahul Gandhi SIR protest: গত তিন দিন ধরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে দিল্লি। মঙ্গলবার সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে পদযাত্রা দিয়ে শুরু হয় এই প্রতিরোধ। পুলিশ বাধা দিলে রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডে উঠে জাতীয় পতাকা নাড়ান এবং সহকর্মীদের নিয়ে ঢুকে পড়েন সংলগ্ন আকাশবাণী ভবনে।

বেঙ্গালুরুতে জনতার ট্রাইব্যুনাল, এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সরব প্রকাশ রাজ-ধ্রুব রাঠী

Bengaluru Protest Against SIR: এসআইআর-এর বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে পথে নামলেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করলেন প্রকাশ রাজ, ধ্রুব রাঠী-সহ প্রতিবাদীরা। ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ উঠল?

মোদির ২৫ বছর: গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের দীর্ঘতম সরকারপ্রধান

Modi's Quarter Century in Power: ৭ অক্টোবর ২০২৬, গুজরাটের ভূমিকম্পোত্তর পুনর্গঠন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে, টানা ২৫ বছর সরকারপ্রধানের পদে রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদি। গত ১০ জুন, তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর আমলে ভারতের জিডিপি হয়েছে তিনগুণ, বৈদেশিক রফতানি পৌঁছেছে বিলিয়ন ডলারের হিসাবে, কিন্তু শিক্ষিত যুবদের বেকারত্বও হয়েছে আকাশছোঁয়া, তাঁর করা নোটবাতিলে দরিদ্রতমরা হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত, একাডেমিক ফ্রিডমের প্রশ্নে দেশের নাম ডুবেছে বারবার। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, মোদিযুগের অর্জন, ব্যর্থতা ও গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের হিসাব।

গাজা ধ্বংসের তিন বছর: স্কুল নেই, শিক্ষক নেই, হারিয়ে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম

Gaza education crisis: ইউনিসেফের হিসেব অনুযায়ী, গাজার ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি প্রায় ৭ লক্ষ শিশু টানা তিন শিক্ষাবর্ষ ধরে নিয়মিত স্কুলশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়েও গাজার প্রায় ৪ লক্ষ ২০ হাজার শিশু সরাসরি স্কুলে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

এসআইআর: সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা নিয়েও কথা হোক

SIR controversy: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যখন একের পর এক অভিযোগ উঠছে, তখন সুপ্রিম কোর্টের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও কি প্রশ্ন উঠবে না? ফর্ম ৬, ভোটার তালিকা থেকে বাদ এবং ট্রাইবুনালে দীর্ঘসূত্রিতার মতো ঘটনায় সর্বোচ্চ আদালত কি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে?