বারুইপুর কাণ্ডে কেন চর্চায় বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল? ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
স্থানীয়দের একাংশ এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিযোগ, অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন শান্তনু মণ্ডল। যিনি বারুইপুর পশ্চিম ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক।
বারুইপুরর থানার অন্তর্গত ধপধপি-২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায় ১২ বছরের এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এই আবহে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নাম— শান্তনু মণ্ডল। যিনি বারুইপুর পশ্চিম ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়দের একাংশ এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিযোগ, অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শান্তনু মণ্ডল। বরং তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরাই সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন।
ঠিক কী অভিযোগ শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে?
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, নাবালিকার দেহ উদ্ধারের আগে শান্তনু মণ্ডল স্থানীয়দের পুকুরের কাছে যেতে বাধা দেন এবং মূল অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এই অভিযোগ সামনে আসার পরই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ শুরু করেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা অরূপ নস্করও। তাঁর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করার পর তাঁদের আটক করা হয়েছিল। কিন্তু পরে শান্তনু মণ্ডল তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। অরূপ নস্করের আরও দাবি, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সন্তোষজনক ছিল না এবং শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রাই তল্লাশি চালিয়ে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
কী বলছেন শান্তনু মণ্ডল?
সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের পালাতে সাহায্য করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং ঘটনাটি জানার পর তাঁরাই বারুইপুর থানার আইসির কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান।
শান্তনুর দাবি, স্থানীয়দের সহযোগিতায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়। পরে তাঁরা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই ব্যক্তি অপরাধের কথা স্বীকার করে এবং ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়, যেখানে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়।
শান্তনু মণ্ডলের আরও দাবি, ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে মোট চারজন মিলে এই অপরাধে জড়িত ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “নাবালিকার উপর নৃশংস যৌন নির্যাতন চালানোর পর পা দিয়ে মেয়েটির গলা চেপে ধরা হয়েছিল। এবং পরে দেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Baruipur case: বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে কীভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা? কীভাবে উদ্ধার হল বস্তাবন্দি দেহ, কেন জারি করা হল BNSS-এর ১৬৩ ধারা, কতজন গ্রেফতার হয়েছেন এবং SIT তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য সামনে এসেছে?
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক চক্রান্ত নেই। সারারাত স্থানীয়দের সঙ্গে তিনিও নিখোঁজ শিশুটিকে খোঁজার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শান্তনু মণ্ডলকে এক অভিযুক্তকে ধরে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।
সিপিআইএমের অভিযোগ আরও তীব্র
এই ঘটনায় বিজেপিকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন সিপিআইএম নেতা লাহেক আলি। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তদের স্থানীয় মানুষ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরেও বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডলের নির্দেশে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।
পুলিশের অবস্থান
এখনও পর্যন্ত পুলিশ শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে শান্তনু মণ্ডলকেও আটক করেছে পুলিশ।
তবে, শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও কোনও তদন্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।






