বারুইপুর কাণ্ডে কেন চর্চায় বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল? ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?

স্থানীয়দের একাংশ এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিযোগ, অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন শান্তনু মণ্ডল। যিনি বারুইপুর পশ্চিম ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক।

inscript
৪ মিনিট
বারুইপুর কাণ্ডে কেন চর্চায় বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল? ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?

বারুইপুরর থানার অন্তর্গত ধপধপি-২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায় ১২ বছরের এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এই আবহে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নাম— শান্তনু মণ্ডল। যিনি বারুইপুর পশ্চিম ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়দের একাংশ এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিযোগ, অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শান্তনু মণ্ডল। বরং তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরাই সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন।

ঠিক কী অভিযোগ শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে?

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, নাবালিকার দেহ উদ্ধারের আগে শান্তনু মণ্ডল স্থানীয়দের পুকুরের কাছে যেতে বাধা দেন এবং মূল অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এই অভিযোগ সামনে আসার পরই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ শুরু করেন।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা অরূপ নস্করও। তাঁর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করার পর তাঁদের আটক করা হয়েছিল। কিন্তু পরে শান্তনু মণ্ডল তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। অরূপ নস্করের আরও দাবি, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সন্তোষজনক ছিল না এবং শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রাই তল্লাশি চালিয়ে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার, কী উঠে এল ময়নাতদন্তে? বারুইপুর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।

কী বলছেন শান্তনু মণ্ডল?

সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের পালাতে সাহায্য করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং ঘটনাটি জানার পর তাঁরাই বারুইপুর থানার আইসির কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান।

শান্তনুর দাবি, স্থানীয়দের সহযোগিতায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়। পরে তাঁরা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই ব্যক্তি অপরাধের কথা স্বীকার করে এবং ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়, যেখানে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়।

শান্তনু মণ্ডলের আরও দাবি, ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে মোট চারজন মিলে এই অপরাধে জড়িত ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “নাবালিকার উপর নৃশংস যৌন নির্যাতন চালানোর পর পা দিয়ে মেয়েটির গলা চেপে ধরা হয়েছিল। এবং পরে দেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বারুইপুর কাণ্ড: ২৮ ঘন্টা পার, ঘটনাপ্রবাহ এক নজরে

Baruipur case: বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে কীভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা? কীভাবে উদ্ধার হল বস্তাবন্দি দেহ, কেন জারি করা হল BNSS-এর ১৬৩ ধারা, কতজন গ্রেফতার হয়েছেন এবং SIT তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য সামনে এসেছে?

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক চক্রান্ত নেই। সারারাত স্থানীয়দের সঙ্গে তিনিও নিখোঁজ শিশুটিকে খোঁজার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শান্তনু মণ্ডলকে এক অভিযুক্তকে ধরে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।

সিপিআইএমের অভিযোগ আরও তীব্র

এই ঘটনায় বিজেপিকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন সিপিআইএম নেতা লাহেক আলি। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তদের স্থানীয় মানুষ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরেও বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডলের নির্দেশে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।

পুলিশের অবস্থান

এখনও পর্যন্ত পুলিশ শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে শান্তনু মণ্ডলকেও আটক করেছে পুলিশ।

তবে, শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও কোনও তদন্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।