মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার, কী উঠে এল ময়নাতদন্তে? বারুইপুর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর আবারও এক নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। বারুইপুরে ১২ বছরের এক কিশোরীর ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি নতুন করে সরগরম। তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত অন্য দুই অভিযুক্তের নাম দিবাকর সর্দার এবং প্রভাস মণ্ডল। এ ছাড়া আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সোমবার পুলিশি তৎপরতায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে দাবি, তিনিই এই মামলার মূল অভিযুক্ত। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হতে পারে।
গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছরের ওই কিশোরী। রবিবার একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক সন্দেহভাজনকে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। একইসঙ্গে কিশোরীর দেহ ঘিরে রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ এবং রেল চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Baruipur case: বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে কীভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা? কীভাবে উদ্ধার হল বস্তাবন্দি দেহ, কেন জারি করা হল BNSS-এর ১৬৩ ধারা, কতজন গ্রেফতার হয়েছেন এবং SIT তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য সামনে এসেছে?
রবিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ মোট চারটি মামলা রুজু করেছে। তার মধ্যে একটি নাবালিকাকে খুনের অভিযোগে। দ্বিতীয়টি গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায়। তৃতীয়টি পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত এবং আটক ব্যক্তিরা নাবালিকাকে খুনের মামলারই অভিযুক্ত।
নতুন করে যাতে পরিস্থিতি অশান্ত না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানার অন্তর্গত এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া এবং গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “চারটি মামলা হয়েছে। একটি জঘন্যতম অপরাধের মামলা ছাড়া তিনটি হয়েছে। বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিচার চেয়েছেন।”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Egg-Throwing Politics in Bengal: ডিম ছোড়া কি সত্যিই জনরোষের বহিঃপ্রকাশ, নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অপমান করার নতুন কৌশল? আইনের শাসনের বদলে কি জনতার হাতে বিচার তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে?
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “পরিবারের তরফে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। তিন জন আটক, যাঁদের সঙ্গে পলাতক দুই আসামির কথোপকথন হয়েছে। আইজি, এসটিএফ কাজ করছেন। সরকারের কাছে পরিবার যা যা চেয়েছে, তা করা হচ্ছে। ওঁরা সহযোগিতা চেয়েছেন। পাবেন।”
তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। তবে গণপিটুনির ঘটনার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গণপিটুনির ঘটনায় সাম্প্রদায়িক যোগ ছিল। এখনই কিছু বলব না। যে ভাবে রেললাইন উপড়ানো হয়েছে, অতীত মনে পড়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে সিএএ বিরোধী আন্দোলন বা কিছু দিন আগে ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলন। সিআরপিএফ-এর দুই জওয়ান আহত। একটা পুলিশের গাড়ি পোড়ানো হয়েছে।”
ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাতও স্পষ্ট। রবিবারই কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ভবানীভবনে ডাকা হয়েছে মৃতার বাবাকে। অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এদিকে সোমবার আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির বারুইপুর সফরের কর্মসূচি থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর দল।
বারুইপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা, নারীর নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেরই নজর।






