মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার, কী উঠে এল ময়নাতদন্তে? বারুইপুর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।

inscript
৪ মিনিট
মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার, কী উঠে এল ময়নাতদন্তে? বারুইপুর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর আবারও এক নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। বারুইপুরে ১২ বছরের এক কিশোরীর ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি নতুন করে সরগরম। তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত অন্য দুই অভিযুক্তের নাম দিবাকর সর্দার এবং প্রভাস মণ্ডল। এ ছাড়া আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সোমবার পুলিশি তৎপরতায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে দাবি, তিনিই এই মামলার মূল অভিযুক্ত। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হতে পারে।

গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছরের ওই কিশোরী। রবিবার একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক সন্দেহভাজনকে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। একইসঙ্গে কিশোরীর দেহ ঘিরে রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ এবং রেল চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বারুইপুর কাণ্ড: ২৮ ঘন্টা পার, ঘটনাপ্রবাহ এক নজরে

Baruipur case: বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে কীভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা? কীভাবে উদ্ধার হল বস্তাবন্দি দেহ, কেন জারি করা হল BNSS-এর ১৬৩ ধারা, কতজন গ্রেফতার হয়েছেন এবং SIT তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য সামনে এসেছে?

রবিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ মোট চারটি মামলা রুজু করেছে। তার মধ্যে একটি নাবালিকাকে খুনের অভিযোগে। দ্বিতীয়টি গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায়। তৃতীয়টি পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত এবং আটক ব্যক্তিরা নাবালিকাকে খুনের মামলারই অভিযুক্ত।

নতুন করে যাতে পরিস্থিতি অশান্ত না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানার অন্তর্গত এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া এবং গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “চারটি মামলা হয়েছে। একটি জঘন্যতম অপরাধের মামলা ছাড়া তিনটি হয়েছে। বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিচার চেয়েছেন।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ডিম ছোড়া আসলে জনরোষ নাকি ‘মব লিঞ্চিং’-এর নতুন রূপ? রাজনীতির নতুন ট্রেন্ড ঘিরে বড় প্রশ্ন

Egg-Throwing Politics in Bengal: ডিম ছোড়া কি সত্যিই জনরোষের বহিঃপ্রকাশ, নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অপমান করার নতুন কৌশল? আইনের শাসনের বদলে কি জনতার হাতে বিচার তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে?

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “পরিবারের তরফে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। তিন জন আটক, যাঁদের সঙ্গে পলাতক দুই আসামির কথোপকথন হয়েছে। আইজি, এসটিএফ কাজ করছেন। সরকারের কাছে পরিবার যা যা চেয়েছে, তা করা হচ্ছে। ওঁরা সহযোগিতা চেয়েছেন। পাবেন।”

তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। তবে গণপিটুনির ঘটনার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গণপিটুনির ঘটনায় সাম্প্রদায়িক যোগ ছিল। এখনই কিছু বলব না। যে ভাবে রেললাইন উপড়ানো হয়েছে, অতীত মনে পড়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে সিএএ বিরোধী আন্দোলন বা কিছু দিন আগে ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলন। সিআরপিএফ-এর দুই জওয়ান আহত। একটা পুলিশের গাড়ি পোড়ানো হয়েছে।”

ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাতও স্পষ্ট। রবিবারই কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ভবানীভবনে ডাকা হয়েছে মৃতার বাবাকে। অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এদিকে সোমবার আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির বারুইপুর সফরের কর্মসূচি থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর দল।

বারুইপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা, নারীর নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেরই নজর।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।