১২৩ বছরের রেকর্ড ভাঙল অগাস্ট মাস! যে বিপজ্জনক দিকে এগোচ্ছে ভারত...
Driest August 2023: উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ অগাস্ট মাসে চেরাপুঞ্জি, মৌসিনরামের রেকর্ড ভেঙেছে কারণ ২৫ অগাস্ট পর্যন্ত এখানে ১,৯০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে!

শ্রাবণ শেষ, অগাস্টও বিদায় নিয়েছে। মানে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষা গত। অথচ বৃষ্টি কই তেমন? আশ্চর্য করা এক তথ্য রীতিমতো আশঙ্কায় ফেলছে ভারতকে। গত ১২৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্কতম অগাস্ট ছিল এই ২০২৩ সালের মাসটি! আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এল নিনোর তীব্রতার ফলেই এবার এই দুর্দশা। এই দেশে মাসের প্রথম ২১ দিনে রেকর্ড ১১৫.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ২০০৫ সালের ১৯০.১ মিলিমিটারের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছে। তবে, এই মাসে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি নয়া রেকর্ড গড়েছে! ১৯০১ সালের পর থেকে সবচেয়ে শুষ্কতম আগস্ট এবং ২০১৫ সালের পর থেকে সবচেয়ে শুষ্কতম বর্ষা টের পাওয়া গেছে অগাস্টে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৩ শতাংশ বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ঘটেছে গত মাসে।
অগাস্ট মাসে দেশে ২৫৪.৯ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা বর্ষাকালে মোট বৃষ্টির প্রায় ৩০ শতাংশ। ভারতে গত মাসে ৩২ শতাংশ বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা গেছে। সব নথি বলছে, ১৯০১ সালের পর থেকে এটিই শুষ্কতম অগাস্ট।
ভারতে ২০০৫ সালের অগাস্টে ২৫ শতাংশ বৃষ্টিপাতের ঘাটতি হয়েছিল, ১৯৬৫ সালে ২৪.৬ শতাংশ; ১৯২০ সালে ২৪.৪ শতাংশ; ২০০৯ সালে ২৪.১ শতাংশ এবং ১৯১৩ সালে ২৪ শতাংশ ঘাটতি ছিল।
কেন এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির ঘাটতি?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Chicken Pox in Monsoon: অনেকেই বলেন, এক বার চিকেন পক্স হলে দ্বিতীয় বার হয় না। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, দ্বিতীয়, তৃতীয়বার হতেই পারে।
IMD-এর প্রধান মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলছেন, অগাস্টে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের প্রাথমিক কারণ হল এল নিনো। এল নিনো হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যাতে দক্ষিণ আমেরিকার কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে জলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়, বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে জলের পরিচলন কমায় এই এল নিনো প্রভাব।
এল নিনো সাধারণত ভারতের দুর্বল মৌসুমী বায়ু এবং শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে যুক্ত। MJO বা Madden Julian Oscillation হচ্ছে এক বড় আকারের অন্তঃমৌসুমী বায়ুমণ্ডলীয় ব্যাঘাত। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আফ্রিকায় এর উৎপত্তি হলেও তা ক্রমে পূর্ব দিকে সরতে থাকে। এটি একটি পালস বা তরঙ্গের মতো যা প্রায় ৩০ থেকে ৬০ দিন স্থায়ী হয়।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এমন বহু বাউল-ফকিরের সঙ্গে দেখা হয়েছে, যাঁরা গান করেন না, ছবি আঁকেন কিংবা পদ লেখেন বা কিছুই করেন না সেভাবে, তাঁরা শুধুই তত্ত্বসাধনায় মশগুল।
MJO-এর সক্রিয় পর্যায়ে বায়ুমণ্ডল বৃষ্টিপাতের জন্য আরও অনুকূল হয়ে ওঠে। মেঘের আচ্ছাদন বাড়ে, ঝোড়ো বাতাস বয় এবং পরিবাহী কার্যকলাপে বৃদ্ধি ঘটে যার ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। জুলাই মাসে, MJ-র অনুকূল পর্যায়ের কারণেই দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ঘটেছে। অগাস্টে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের আরেকটি কারণ ছিল দক্ষিণ চিন সাগরে নিম্নচাপের সংখ্যা কমা।
ঋষিকেশে এত বৃষ্টি কেন?
আরও এক রেকর্ড গড়েছে অগাস্ট মাস। চেরাপুঞ্জি এবং মৌসিনরাম তো ভারত এবং বিশ্বের সবচেয়ে আর্দ্র স্থান হওয়ার রেকর্ড ধরে রেখেছে, তবে এই অগাস্টে দেশের সবচেয়ে আর্দ্র শহর ছিল না চেরাপুঞ্জি। উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ অগাস্ট মাসে চেরাপুঞ্জি, মৌসিনরামের রেকর্ড ভেঙেছে কারণ ২৫ অগাস্ট পর্যন্ত এখানে ১,৯০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে! চেরাপুঞ্জি এবং মৌসিনরামে যথাক্রমে ১,৮৭৬.৩ মিমি এবং ১,৪৬৪ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ঋষিকেশে অগাস্ট মাসে দু'বার ৪০০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে- ১০ অগাস্ট এবং ১৩ অগাস্ট। ঋষিকেশে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক বন্যা হয়েছে। এই মাসে অনেক দিন ধরেই গঙ্গা তার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
অনিয়মিত বর্ষা
জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষা মরসুম শেষ হতে চলেছে। আর ভারতে কমপক্ষে ৮ শতাংশ বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ঘটেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরে সবচেয়ে শুষ্ক অগাস্টের মুখোমুখি হলো দেশ। এবারের বর্ষা ছিল চরম অসম। জুনের বৃষ্টিপাত ছিল গড়ের চেয়ে ৯ শতাংশ কম এবং জুলাইয়ের বৃষ্টিপাত ছিল গড়ে ১৩ শতাংশ বেশি। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে যথাসময়ে বা ১৭ সেপ্টেম্বরের স্বাভাবিক তারিখের সামান্য আগে সরতে শুরু করবে।






