জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের 'রাজ্যসঙ্গীত' থাকা কতটা জরুরি?

State Song of West Bengal: তবে কি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই লিখবেন রাজ্যের সঙ্গীত?

inscript
৩ মিনিট
জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের 'রাজ্যসঙ্গীত' থাকা কতটা জরুরি?

সারা দেশ জাতীয় সঙ্গীতের সুরে নিজেদের এক দেশের এক নাগরিক বলে গর্ব করে। সিনেমা শুরুর আগে দাঁড়াতে হওয়াতে বিরক্তি কিছুকাল থাকলেও, দিন বিশেষে জাতীয় সঙ্গীতই তো দেশের পরিচয়। দেশ তো নানা ভাষা, নানা ধর্ম, নানা বস্ত্রের! অখণ্ড ভারতের মধ্যে খণ্ড খণ্ড বৈচিত্র্য। এই খণ্ড খণ্ড বৈচিত্র্যের স্বতন্ত্র পরিচয় আছে। জাতীয় ফুল যেমন আছে, জাতীয় পশু বা পাখি যেমন আছে, প্রতি রাজ্যের পৃথক ফুল বা পাখিও তো আছেই। তাহলে একখানা রাজ্য সঙ্গীত থাকলে অসুবিধা কী? তাই জাতীয় সঙ্গীতের আদলে এই রাজ্যের নিজস্ব সঙ্গীত তৈরি করার কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। জন গণ মন যদি সারা দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, দেশের মানুষকে এক সুরে বেঁধে রাখার গান হয় তাহলে রাজ্যের মানুষের জন্য পৃথক একটি সঙ্গীত হতেই পারে। বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক হচ্ছে, কিন্তু এখানে অবশ্যই মনে রাখা দরকার পশ্চিমবঙ্গে প্রথম রাজ্য সঙ্গীত হবে এমন নয়। ভারতের বহু বহু রাজ্যের নিজস্ব রাজ্যসঙ্গীত রয়েছে।

বাংলায় সমস্ত স্কুলে বাংলা পড়াতেই হবে ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলার আবেগকে তিনি মর্যাদা দেন। বাঙালির জাত্যাভিমানকে বাঁচাতে বাংলা বাধ্যতামূলকের মাস্টারস্ট্রোকটিকে রাজনৈতিকভাবেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সারা দেশে হিন্দিভাষাকে জোর করে চাপানোর বিরুদ্ধে যে ধারাবাহিক আন্দোলন করে চলেছে বিজেপি বিরোধীরা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজ্যে নিজেদের ভাষাকে এই স্থান দিয়ে সেই সব আন্দোলনে নতুন দিশা জুড়েছেন বলেও মনে করছেন অনেকে। সেই পথেই একে একে আসছে রাজ্য সঙ্গীত, আসছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস! বাঙালির আবেগকে সব দিক থেকেই ধরতে চাইছেন মমতা। তাই পশ্চিমবঙ্গ দিবস নির্ধারণ কমিটি পয়লা বৈশাখ দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে অনুমোদন করার সুপারিশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পয়লা বৈশাখ দিনটিকে সারা রাজ্য জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ করে তুলতে চান তাহলে, আগামী বছর থেকেই রাজ্যে পালিত হবে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস'।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উপাচার্য কে হবেন, সেই নিয়েও রাজনীতি! রাজ্যপাল-সরকারের দ্বন্দ্বে গোল্লায় যাচ্ছে উচ্চশিক্ষা

Vice Chancellor Crisis of West Bengal: এখানে একগাদা বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে বটে, কিন্তু পরিকাঠামোগত উন্নয়ন কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

রাজ্যের একটি নিজস্ব সঙ্গীতের ভাবনাটিও এই আবেগের ফসলই। কিন্তু সারা রাজ্যের প্রাণ হয়ে উঠবে এমন গান লিখবেন কে? 'রাজ্য সঙ্গীত' বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কমিটি গঠন করা হবে একথা সত্য। তবে কি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই লিখবেন রাজ্যের সঙ্গীত? দেশের বহুরাজ্যেরই নিজস্ব সঙ্গীত আছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, বিহার, ছত্তিশগড়, গুজরাত, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, ওড়িশা, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতে নিজস্ব রাজ্য সঙ্গীত রয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'জয় বাংলা'-ই অস্ত্র! স্কুলে বাংলা বাধ্যতামূলক করে কতটা এগিয়ে রইলেন মমতা?

Bengali Language Mandatory in Schools: রাজ্য শিক্ষানীতি অনুযায়ী, চাকরি পাওয়ার পর প্রথম পাঁচবছর শিক্ষকদের গ্রামের স্কুলে পড়াতেই হবে।

২০২০ সালে ওড়িশার রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘বন্দে উৎকল জননী’ গানটি। ২০১২ সালে বিহারের রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয় ‘মেরে ভারত কে কণ্ঠহার’। বিশ্ববিখ্যাত বাঁশিবাদক হরি প্রসাদ চৌরাসিয়া এবং সন্তুর বাদক শিবকুমার শর্মা এই গানটির সুর বাঁধেন। ‘ও মুর আপুনার দেশ’ অসমের রাজ্য সঙ্গীত। অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্য সঙ্গীত 'মা তেলুগু থাল্লিকি'। ছত্তিশগড়ের রাজ্যসঙ্গীত 'অর্পা পাইরি কে ধর’। গুজরাতের মানুষ রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে গান 'জয় জয় গারভি গুজরাত’। কর্ণাটকে 'জয় ভারত জননীয়া তনুজাতে, জয় হে কর্ণাটক মাতে', মধ্যপ্রদেশে 'মেরা মধ্যপ্রদেশ’, মহারাষ্ট্রে 'জয় জয় মহারাষ্ট্র মাজা’ গাওয়া হয় রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে। উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে সাম্প্রতিক উদ্ধব ঠাকরে ও শিন্ডে শিবিরের বিভাজনের পরেই রাজ্যসঙ্গীতের বিষয়টি ঘোষণা হয়। একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভা জয় জয় মহারাষ্ট্র মাজাকে রাজ্যসঙ্গীত হিসাবে মনোনীত করে। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি, ছত্রপতি শিবাজির জন্মবার্ষিকী থেকে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে এই গানটিও বাজানো হতে থাকে। ১৯৬০ সালে রাজ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই প্রথম রাজ্যসঙ্গীত পেয়েছে মহারাষ্ট্র। শুধু সরকারি অনুষ্ঠানে নয়, প্রতিদিনের প্রার্থনায় জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি সমস্ত স্কুলে রাজ্যসঙ্গীত গাওয়া হয় সেখানে।

পুদুচেরিতে আর তামিলনাড়ুতে 'তামিল থাই ভালথু', উত্তরাখণ্ডে 'উত্তরাখণ্ড দেবভূমি মাতৃভূমি’ রাজ্যসঙ্গীত রয়েছে। জাতি হিংসায় জর্জরিত মণিপুরেরও রয়েছে নিজস্ব সঙ্গীত, 'সানা লেইবাক মণিপুর' অর্থাৎ সোনার ভূমি মণিপুর। পশ্চিমবঙ্গের এই রাজ্যসঙ্গীতও কি স্কুলে প্রার্থনা সঙ্গীতে বাধ্যতামূলক হবে? প্রচলিত কোনও গানই কি রাজ্যের গান হয়ে উঠবে, নাকি বাঙালির অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যকে নিয়ে পৃথক গান রচিত হবে, সুরই বা দেবেন কে? এক বছরের মধ্যে এটুকু রাজ্য জেনেই যাবে নিশ্চিত।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।