'জয় বাংলা'-ই অস্ত্র! স্কুলে বাংলা বাধ্যতামূলক করে কতটা এগিয়ে রইলেন মমতা?

Bengali Language Mandatory in Schools: রাজ্য শিক্ষানীতি অনুযায়ী, চাকরি পাওয়ার পর প্রথম পাঁচবছর শিক্ষকদের গ্রামের স্কুলে পড়াতেই হবে।

inscript
৩ মিনিট
'জয় বাংলা'-ই অস্ত্র! স্কুলে বাংলা বাধ্যতামূলক করে কতটা এগিয়ে রইলেন মমতা?

বিজেপিকে এ রাজ্যে জাঁকিয়ে বসতে দেওয়া যাবে না। তাই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোট কাটতে হলে উগ্র হিন্দুত্বকে যেমন কোণঠাসা করতে হবে, বাংলার গরিমাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে ততোধিক। গো-বলয়ের সংস্কৃতি যে বাংলার ঐতিহ্য নয়, হিন্দি যে কোনওভাবেই রাষ্ট্রভাষা নয়, বাংলার রাম আর গেরুয়া রাম যে আলাদা- এই বোঝাবুঝির খেলাতে বাংলার নিজস্বতাকে তুলে ধরতে হবেই। অস্ত্র বাংলা ভাষা! বাঙালিদের সংবেদনশীল মন জয়ে মোক্ষম অস্ত্র দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিরোধীরাও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা অন্তত করবেন না প্রকাশ্যে। বাংলার স্কুলে বাংলা পড়াতেই হবে, ঠিক হয়েছে রাজ্যের শিক্ষানীতিতে। মনে রাখতে হবে, জাতীয় শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে সারা দেশেই বিশেষত বাম বিরোধীরা লড়াই করে এসেছেন সবথেকে বেশি। কেন্দ্রের শিক্ষানীতির পাল্টা এবার রাজ্যের বিধানসভাতে পাশ হলো রাজ্য শিক্ষানীতি। প্রায় এক বছরের উপর, বিশেষজ্ঞ কমিটি রাজ্যের নিজস্ব শিক্ষানীতি বিষয়ে কাজ করে এসেছে। কেন্দ্রের হিন্দিমুখী শিক্ষা থেকে সোজা মাতৃভাষা বাধ্যতামূলক করার পথে এগোল রাজ্য। শুধু অবশ্য বাংলা বাধ্যতামূলক প্রসঙ্গই না, জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে এই রাজ্যের আলাদা শিক্ষানীতি নানাক্ষেত্রেই আলাদা।

বিধানসভায় সপ্তাহখানেক আগেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়ে দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি রাজ্য সরকার মেনে নেয়নি তো বটেই, বরং রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে নতুন শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে। সব যে বদলে গিয়েছে এমন নয়। স্নাতকস্তরে এতদিন পড়ুয়ারা তিন বছর পড়াশোনা করতেন। তারপর দুই বছরের স্নাতকোত্তর পাঠ চলত। উচ্চশিক্ষার এই ক্ষেত্রে এবার বদল এসেছে, চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রম চালু হতে চলেছে। তিন বছরের ডিগ্রি কোর্স রেখে দিলে নাকি সমস্যায় পড়তে হতো পড়ুয়াদের। তাই এই বদলকে মেনে নিয়েছে রাজ্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শুধুই কি ঘৃণা? মাছে-ভাতে বাঙালিকে যেভাবে রোহিঙ্গা-বাংলাদেশি করে তুললেন পরেশ

Fish and Paresh Rawal: মুখের ভাষা বাংলা হওয়ার ভিত্তিতে অসমে ১২ লক্ষ হিন্দু বাঙালি ও ৫ লক্ষ মুসলমান বাঙালি, মোট ১৭ লক্ষ বাঙালিকে নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্কুলশিক্ষাতে কেন্দ্রের থেকে দূরেই হেঁটেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যের এই শিক্ষানীতি। জাতীয় শিক্ষানীতিতে কেন্দ্র বলেছিল, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়ারা নিজেদের ইচ্ছেমতো বিষয় নির্বাচন করতে পারবেন। রাজ্য বলছে, মাধ্যমিক আর উচ্চমাধ্যমিকে কোনও বদল হবে না। জীবনের এই দুই 'বড়' পরীক্ষা দিতেই হবে ছাত্রছাত্রীদের। তবে মাধ্যমিক স্তরেই আলাদা করে বিষয় বাছতে পারবেন না তারা। প্রাক প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি, পঞ্চম থেকে অষ্টম, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ নিয়মই বহাল থাকছে রাজ্যে।

আস্তে আস্তে সেমেস্টার ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে রাজ্য। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও এই ব্যবস্থাকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য বলছে, আগামী ৩ বছরে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি থেকে সেমেস্টার চালু হবে। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতেও তা জারি হবে। রাজ্য সরকার আরেকটি যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই শিক্ষানীতিতে যোগ করেছে তাতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য শিক্ষানীতি অনুযায়ী, চাকরি পাওয়ার পর প্রথম পাঁচবছর শিক্ষকদের গ্রামের স্কুলে পড়াতেই হবে।

তবে জাতীয় শিক্ষানীতির চাপিয়ে দেওয়া ভাষাকে কোণঠাসা করে রাজ্য শিক্ষানীতির সবচেয়ে বড় অস্ত্রটি হচ্ছে বাংলা ভাষা। স্কুলে বাংলা ভাষা পড়ানো বাধ্যতামূলক। প্রথম ভাষা ও দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে বাংলা ও ইংরেজি নিতেই হবে। এখানে হিন্দি কোনওভাবেই প্রথম ও দ্বিতীয় ভাষা না। তৃতীয় ভাষা হিসেবে যে অঞ্চলে যে ভাষার কার্যকরিতা বেশি সেই অঞ্চলে সেই ভাষাই পড়া যাবে। সেই ভাষা হিন্দিও হতে পারে, সাঁওতালিও হতে পারে। ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলগুলিতেও বাংলা ভাষা পড়াতেই হবে। বাংলা পক্ষ এই রাজ্যে এমন দাবিতে বহুকাল ধরেই লড়েছে। বাঙালির আবেগকে সঠিক সময়ে ব্যবহার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই বাংলা ভাষার মই বেয়ে ২০২৪ লোকসভা ভোটে কতটা উচ্চতা ছুঁতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস সেটিই বড় প্রশ্ন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।