ফ্রান্স না আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ কার হাতে? আগাম-বচনে জানিয়ে দিলেন জীবিত 'নস্ত্রাদামুস'!
World Cup Football Final 2022: আর্জেন্টিনা নিয়ে তিনি বলে রেখেছিলেন, প্রথম দিকে ভালো না খেললেও এবারের বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলবেই আর্জেন্টিনা। আর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্স!

মেলালেন, তিনি মেলালেন! একবার-দু'বার নয়, একাধিকবার! তিনিই নাকি একের পর ঘটনার আভাস দিয়ে দিচ্ছেন নিমেষে! মাত্র ৩৬ বছরেই হাসতে-হাসতে, খেলতে-খেলতে বলে দিচ্ছেন, কী ঘটবে আগামী দিনে! অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন, এই যুগেও রয়েছেন কোনও 'নস্ত্রাদামুস'! যিনি বহুযুগ আগেই লিখে গিয়েছিলেন বিশ্বের ভবিষ্যৎ-ইতিহাস। একের পর ঘটনায় মিলিয়ে দিয়েছেন স্ব-বাণী। প্রত্যেক মুহূর্তে ভয় ধরিয়েছেন। ভাবতে বাধ্য করেছেন, এবার আবার কী! সেই স্মৃতিই যেন ফের ফিরিয়ে এনেছেন এ যুগের এক যুবক।
অ্যাথস সালোম। ব্রাজিলীয় মডেল। পেশায় প্যারাসাইকোলজিস্ট, শখের মডেলিং ছেড়ে এখন যিনি ভবিষ্যৎ বাতলে দেন মুহূর্তেই। কী বলছেন সালোম? 'জীবিত নস্ত্রাদামুস' উপাধিতে ভূষিত অ্যাথস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল মারাত্মক কঠিন হতে চলেছে অধিনায়ক মেসির আর্জেন্টিনা দলের জন্য। ব্রাজিলীয় হলেও এই ভবিষ্যতদ্রষ্টা নিজেও আর্জেন্টিনার ভক্ত। তিনি বলছেন, সেমিফাইনাল পর্যন্ত জিতে ফাইনালে উঠলেও আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের পক্ষে বিশ্বকাপ জয় বেশ কঠিন। যদিও একেবারে যে সম্ভব নয়, একথাও বলছেন না তিনি। তাঁর দাবি, সামনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মরক্কো থাকলে লড়াই খানিকটা সহজ হতো মেসিদের কাছে। কিন্তু মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। আর বিপক্ষে ফ্রান্সের সঙ্গে লড়াই তুলনায় কঠিন হবে। জিরোড, এমবাপেদের সরিয়ে ২০২২-এর বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফি ছিনিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে আর্জেন্টিনার পক্ষে। জয় আসতে পারে টাইব্রেকারে। দুই দলের ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য বলে মনে করেন এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা।
তাহলে জিতছে কোন দল? 'জীবিত নস্ত্রাদামুস' বলছেন, ফ্রান্সের জেতার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাঁর গণনায় এই দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণ রয়েছে বলেই দাবি করছেন তিনি। মেসি ভক্তের আরও দাবি, খেলোয়াড় জীবনের শেষ বিশ্বকাপে আবারও খালি হাতে ফিরতে হতে পারে মেসিকে। যদিও তাঁর যুক্তি, কঠিন লড়াইয়ের পরে একটুও এধার-ওধার না হতে দিলে আর কঠিন লড়াই ঠিকঠাক সম্পন্ন করতে পারলেই শেষ হাসি হাসতে পারেন মেসিরাও। এখানেই তিনি জিইয়ে রেখেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা।
কিন্তু অ্যাথসের এই ভবিষ্যদ্বাণীকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব? কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, কাতারে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার অনেক আগেই থেকে নস্ত্রাদামুসের মতো ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি। মিলিয়ে দিয়েছেন তাঁর বলা একের পর এক কথা। এই যুবক বলেছিলেন, বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ব্রাজিলের ফুটবল দল ভালো খেলে নক-আউট পর্যায়ে উঠবে। কিন্তু সেখানে হার হবে এই দলের। ফাইনাল তো দূর, সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলতে পারবে না এই দল। হট-ফেভারিট ব্রাজিলকে নিয়ে এমনই জানিয়ে দিয়েছিলেন অ্যাথস। আবার বেলজিয়ামকে নিয়েও এমন বলেছিলেন এই ব্যক্তি। ক্রোয়েশিয়ার বিদায় প্রসঙ্গে আগেভাগেই অনেকটা এগিয়ে ছিলেন সালোম। আবার সেমিফাইনালে যে মরক্কো হারবে একথাও বলে রেখেছিলেন এই ব্যক্তি।
আর আর্জেন্টিনা নিয়ে তিনি বলে রেখেছিলেন, প্রথম দিকে ভালো না খেললেও এবারের বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলবেই আর্জেন্টিনা। আর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্স! এখানেই শেষ নয়, একাধিক খেলোয়াড়ের চোটের ভবিষ্যৎ জানিয়েও নজর কেড়েছেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Julián Álvarez: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি ছবি। ছবিটি বছর দশেক আগের। সেখানে দেখা যাচ্ছে এক ১১-১২ বছর বয়সী কিশোর মেসির সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
করোনা-কাণ্ডে অ্যাথস-বার্তা
'জীবিত নস্ত্রাদামুস' বিখ্যাত হন করোনা সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বলে। ২০২০-র করোনা মহামারীর কথা নাকি ২০১২ সালেই বলে দিয়েছিলেন ২৬ বছরের অ্যাথস। কী বলেছিলেন তিনি? করোনা আসার প্রায় ৮ বছর আগে এক বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনে তিনি জানান, ২০২০ সালে এমন কিছু আসবে যা ভয় ধরাবে বিশ্বকে। এর ছোঁয়ায় মহামারী সৃষ্টি হবে পৃথিবীতে। এর আঁচ থেকে বাদ যাবে না বিশ্বের কোনও দেশ। মৃত্যু হবে বহু মানুষের- যা আকস্মিকভাবে মিলেও যায়। ২০২০ সালে আসা করোনা মহামারী ভয় ধরায় বিশ্বের কোণায় কোণায়।

রানির মৃত্যু: রাজ পরিবারে 'অ্যাথস-আতঙ্ক'
২০২২-এ মৃত্যু হবে ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের! কয়েক বছর আগেই একথা নাকি জানিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলীয় এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা। তিনি বলেন, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শরীর খুব খারাপ হবে ২০২২-এ এবং তাঁর মৃত্যু হবে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Fifa World Cup : ৪০-এর দোরগোড়ায় এসেও কী ভয়ানক স্কিল লুকার, একে নায়ক না বলে উপায় কি!
শুধু রাণীর মৃত্যু নয়, ব্রিটেনের রাজ পরিবারের একের পর এক সদস্যের ভবিষ্যৎ আগেভাগেই জানিয়ে রেখেছেন জীবিত নস্ত্রাদামুস। তিনি বলেছেন, আগামী বছরের প্রথম দিকের তিন মাসের মধ্যেই যুবরাজ হ্যারির জীবনে ইতিহাস সৃষ্টি হবে। বাদ যাবেন না তাঁর স্ত্রী মেগানও। এমন কিছু নাকি ব্রিটেনের রাজপরিবারে ফের ঘটবে, যা চমকে দেবে বিশ্বকে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
শত শত বছর আগে নস্ত্রাদামুস বলে গিয়েছিলেন বহু কথা। তাঁর লেখায় মহামারীর আগমন থেকে শুরু করে এলিয়েন, বাদ যায়নি কিছুই। এই যুগের নস্ত্রাদামুসও কম যান কীসে! কয়েক বছর আগেই সালোম বলেন, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সম্পর্কে মারাত্মক সমস্যা আসতে চলেছে। ২০২২ সুখের হবে না দুই দেশের জন্য। বড় বিপদে পড়বেন ওই দুই দেশের নাগরিকরা। বিশ্বের সর্বাধিক আলোচিত বিষয় হবে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। যুদ্ধের সম্ভাবনার কথাও অনেক আগেই বলে দেন তিনি! এছাড়াও একাধিক তারকার ভবিষ্যৎ নিয়েও বার্তা দেন এই ব্রাজিলীয়।
আর এখানেই গুরুত্ব পেয়েছেন অ্যাথস। ভবিষ্যৎ, জ্যোতিষবিদ্যা সম্পর্কে সন্দিহান থাকলেও বহু মানুষের মনে এই বিষয়ের প্রতি মারাত্মক অনীহা থাকলেও অ্যাথস-বাণী উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই। ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর বলা কথা যে আর খাটবে না, এমনও বলছেন না অনেকেই।
কে এই নস্ত্রাদামুস?
১৯৮৬ সালের ২ অক্টোবর, ব্রাজিলের মিনাস জেরেসে জন্ম নেন অ্যাথস সালোম। ছোট থেকেই মেধাবী এই যুবকের অভিনয়কে পেশা করার ইচ্ছা ছিল বরাবর। কিন্তু একটু বড় হতেই মডেলিংয়ের পাশাপাশি তাঁর ঝোঁক গিয়ে পড়ল 'প্যারাসাইকোলজি'র উপরে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উইনস্টন চার্চিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হল পড়াশোনা। প্যারাসাইকোলজি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেন তিনি। এরপর পেশাগতভাবে শুরু করলেন কাজ। প্রথমে মডেলিং নিয়ে শুরু অন্যরকম কাজ। আয়োজন করলেন প্রতিযোগিতার। মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে তিনিও হয়ে ওঠেন পেশাদার মডেল। ক্রমেই হয়ে ওঠেন পরিচিত। সুদর্শন যুবকের মডেলিংও নজর কাড়তে শুরু করে। যদিও এর সঙ্গেই চলছিল পড়াশোনা। বয়স বাড়তেই আর মডেলিং নয়, সেদিক থেকে নজর প্রায় ঘুরিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন কেরিয়ার-কাউন্সিলর। মডেল পেশায় আসা ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ কী! তা নিয়েও শুরু করলেন কাজ। মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝা শুরু তখন থেকেই।
সমাজমাধ্যমে পরিচিত এই ব্রাজিলীয় যুবক ক্রমেই একের পর এক ব্যক্তিকে বলতে শুরু করলেন তাঁদের ভবিষ্যৎ। হয়ে উঠলেন জনপ্রিয়। মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলতে-খেলতে, ধীরে ধীরে দেশের-দশের আগামীর কথা বলতে বলতেই তাঁর কপালে জুটল 'জীবিত নস্ত্রাদামুস' আখ্যা।
কীভাবে করেন এই কাজ? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি নিজেই। বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সাক্ষাৎকারে অ্যাথস বলেন, এই কাজের নেপথ্যে তাঁকে সাহায্য করে প্যারানর্মাল বা অতিপ্রাকৃতিক কোনও শক্তি। যা তাঁকে বুঝতে সাহায্য করে, মানুষের-পরিবেশের-দেশের-পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। এর সঙ্গেই তিনি কাজে লাগান নিজস্ব শেখার গতিপ্রকৃতিও।
এই বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ফল কী হবে কেউ জানেন না। বিশ্বজয়ের খেতাব আর্জেন্টিনা নাকি ফ্রান্সের মাথায়, তা নিয়েও উত্তর অধরা এখনও। কিন্তু ভবিষ্যদ্বাণী? একটু হলেও তা চিন্তায় রেখেছে মেসি ভক্তদের। যদিও আশার কথা এই, একালের নস্ত্রাদামুস নিজেও আর্জেন্টিনার ফুটবলের ভক্ত, মেসি তাঁরও পছন্দের খেলোয়াড়। তাই, এখনও আশা হারাননি তিনি নিজেও।







