করোনামুক্তির স্বপ্ন থেকে মঙ্গলজয়ের হাতছানি- একুশে মৃত্যুর মিছিলের মধ্যেও জ্বলেছিল যে অনির্বাণ আলো

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
করোনামুক্তির স্বপ্ন থেকে মঙ্গলজয়ের হাতছানি- একুশে মৃত্যুর মিছিলের মধ্যেও জ্বলেছিল যে অনির্বাণ আলো

দুঃখ-দুর্দশার ২০২১ শেষ হতে চলেছে । বিশ্বের কোনও জনগোষ্ঠীর কাছেই খুব সহজ ছিল না এই বছরটা। অনেকেই হারিয়েছি কাছের মানুষদের। যে বিজ্ঞান এক লহমায় ডায়াজিপাম থেকে আনবিক বোমা হাতে তুলে দিয়েছে আমাদের, অসহায় দিনগুলিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে যেন সেই জ্ঞানকাণ্ডই। বিজ্ঞানের অপ্রতিরোধ্য জয়রথ কি করোনার সামনে নতজানু হয়েই থাকবে, এই প্রশ্নটা ঘুরেছে আট থেকে আশির মনে। অজুত মৃত্যুর কালো দিনগুলি পেরিয়ে আজ যখন ক্যালেন্ডার বদলের সময় এল, তখন বিজ্ঞান-বিজ্ঞানসেবকরা এই বছরটায় কতটা লড়তে পারল, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজে মন।

যখন ভ্যাকসিন হার মানছে কোভিড ভ্যারিয়েন্টের কাছে:

অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আগামী সপ্তাহেই ভারতে গুরুতর ভাবে বাড়বে ওমিক্রন আক্রান্তদের সংখ্যা। এই মাঝেই উদয় হয়েছে ডায়ামাইক্রণের, যা নভেল করোনা ভাইরাসের আরেকটি ভ্যারিয়েন্ট। অনেক আগে, কোভিডের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের সাথে পরিচিত হয়েছি। আলফা, বিটা, গামা এবং ডেল্টা নামে এদের নামকরণও হয়েছে। ২০২১-এর শুরুতে ডেল্টার ভয়াবহ রূপ দেখেছিল ভারত। সেই দিনগুলি মনে করলে এখনও চোখে ভাসবে আমরা প্রিয়জনের জন্যে অক্সিজেন পাইনি, হাসপাতালে বেড পাইনি, একেরপর এক ডাক্তার-নার্স শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে উঠেছিলেন পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামাল দিতে। কিন্তু ভারত কোভিড-ভ্যাকসিন পরিকল্পনায় বেশ পিছিয়ে তখনও। তবে ধাপে ধাপে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে সেরাম ইন্সটিটিউট-অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রোজেনেকার ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড বা ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে সঞ্জীবনী সুধা। নীলগ্রহ অবশ্য ততদিনে পেয়েছে স্পুটনিক, ফাইজারের মতো টিকাগুলি।

ভ্যাকসিন পেলেই তো হল না, একশো তিরিশ কোটির দেশে তাকে বন্টন করা কঠিন কাজ। ততদিনে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টটি আমাদের হাতেনাতে দেখিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল ভাইরাস এবং তার ক্রমাগত মিউটেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা কত তুচ্ছ, কত অসহায়। কারণ যে ভ্যাকসিনগুলি তখন নির্মাণ করা হয়েছিলো, সেগুলি সমস্ত কোভিড ভ্যারিয়েন্টকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও, ডেল্টার রীতিমত ক্ষমতা ছিল ভ্যাকসিন থেকে সৃষ্ট রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বুড়ো আঙুল দেখানোর। সেই স্মৃতি এই নভেম্বরে ফিরে এসেছে, যখন গবেষকরা ভ্যাকসিন দিয়ে ওমিক্রনকেও আটকাতে পারছিলেন না। অবশ্য শেষ হাসি হেসেছেন তারাই, বুস্টার ডোজ় দিয়ে তাকে আপাতত বশে আনা গেছে।

মঙ্গলের মাটি ছুঁল প্রিজা়র্ভেরেন্স রোভার - শুরু একটি নতুন অধ্যায়

২০২১-এর ১৮ই ফেব্রুয়ারি, নাসার প্রিজা়রভেরেন্সে রোভার ছুঁলো মঙ্গলের মাটিকে আর সেদিন থেকেই মঙ্গল অভিযানের এক নতুন অধ্যায় শুরু হল। সেপ্টেম্বর মাসে প্রিজা়রভেরেন্স রোভার মঙ্গলের গর্ভ থেকে প্রথম সংগ্রহ করল মঙ্গলের মাটি - উদ্দ্যেশ্য লাল গ্রহ সৃষ্টির ইতিহাসকে জানা, লাল গ্রহের ভৌগোলিক প্রকৃতিকে জানা। তার কিছুদিন পরে পৃথিবীর সাথে প্রিজা়রভেরেন্স রোভারের সমস্ত যোগাযোগ বিছিন্ন হলেও, খুব বেশিদিন সময় লাগেনি যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করতে, থেমে থাকেনি গবেষণাও।

প্রিজা়রভেরেন্স রোভার একাধিক ছবি পাঠাল মঙ্গলের দক্ষিণ গোলার্ধের, জানা গেল লাল গ্রহেও একদিন বয়ে চলেছিল কল্লোলিনী কোনও নদী। সেই সব ছবি দেখে গবেষকরা জানান, কোনোদিন মঙ্গলের জলবায়ুও পৃথিবীর মত ছিল। কিন্তু তা ধীরে ধীরে কী ভাবে শুষ্ক এক গ্রহে পরিণত হল, প্রিজা়রভেরেন্স রোভার যে তা জানতে সাহায্য করবে, সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই।

মিউওন সম্পর্কে নতুন তথ্য বদলে দিল পদার্থবিদ্যার পুরোনো অনেক তত্ত্ব:

২০২১ সালের ৭ ই এপ্রিল মিউওন জি-২ এর গবেষণার সাথে নিযুক্ত ফার্মি ন্যাশালান এক্সেলেটর ল্যাবরেটরির গবেষকরা তাদের ওয়েবকাস্টে জানান, মিউওন কণা তাঁরা যা আভাস দিয়েছেলেন, তার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী চুম্বকত্ব বিচারে। মিউওন ইলেকট্রনের মতো, আকারে বড়, অস্থিতিশীল কণা। মিওয়ন সম্পর্কে নতুন এই অবিষ্কার বদলে দিতে পারে পদার্থবিদ্যার অজস্র সমীকরণ এবং তত্ত্ব।

অ্যালঝাইমার ড্রাগ এক নতুন দিগন্ত আনল (আর তার সঙ্গে এল একাধিক বিতর্ক) :

আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) আঠেরো বছরে এই প্রথম অ্যালজাইমারের ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দিল। আর তাতে যারা অ্যালঝাইমার রোগে আক্রান্ত ছিলেন ভয়াবহ ভাবে, তারা যেন কিছুটা আলোর সন্ধান পেলেন। এটি কেম্ব্রিজের বায়োজেন নামের একটি সংস্থার তৈরি অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগ যা মস্তিষ্ক থেকে অ্যামাইলয়েড বিটা প্রোটিনকে সম্পূর্ণভাবে দূর করে। মনে করা হয় এই অ্যামাইলয়েড বিটা প্রোটিনই অ্যালঝাইমার রোগের মূল কারণ। যদিও দেখা যায় ক্লিনিকাল ট্রায়ালে এই ওষুধ আশাপ্রদ ফল দেখায়নি বেশ কিছু ক্ষেত্রে।ক্রিস্পারের সাহায্যে এডিট করা জিন, সরাসরি শরীরে প্রবেশ করানো হল:

ক্রিস্পার ত্রুটিবিহীন ভাবে জিন-এডিট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিঃন্দেহে। কিন্তু তা বাস্তবে রূপায়ণ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। পাশাপাশি এটাও প্রমাণ করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই সম্পূর্ণ প্রযুক্তিটির সাহায্যে মানুষের জিন এডিট করলেও, পরবর্তীতে তার বিরূপ প্রভাব মানুষের উপর পড়বে না।

২০২১ সালের ২৬ শে জুন, কেম্ব্রিজ, ম্যাসাচ্যুসেটসের ইন্টেলিয়া থেরাপিউটিকস এবং নিউইয়র্কের রেজেনরন নামের দুটি সংস্থা ঠিক এই ভাবনাকে মানুষের দেহে প্রবেশ করিয়ে, বাস্তবে রূপায়ণ করে। এই দুই বায়োটেকনলি সংস্থার গবেষকরা ক্রিস্পার-ক্যাস ছয় জন ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করান। ছয়জনেরই ট্রান্সথাইরেটিন অ্যামাইলয়েডোসিস নামের একটি জিনগত অসুখ ছিলো।

এই অসুখে ভোগা রুগীদের শরীরে জিনের ত্রুটির কারণে ত্রুটিপূর্ণ গঠনযুক্ত প্রোটিন তৈরি হয় - বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে প্রোটিন মিসফোল্ডিং। এই প্রোটিনগুলি শরীরের বিভিন্ন কলা এবং অঙ্গকে গঠন করে। ক্রিস্পার-ক্যাস দিয়ে সেই ত্রুটিপূর্ণ জিনকে যখন এডিট (বা সারাই করানো) করানো হল, দেখা গেল এই সেই ছয়জন রুগীর শরীরেই সেই ত্রুটিপূর্ণ জিনের পরিমাণও কমে গেল।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।