৫০০০ বছর আগে ভারতে আবিষ্কৃত যোগশাস্ত্র কেন বিখ্যাত বিশ্ব জুড়ে?

Amit Patihar
৩ মিনিট
৫০০০ বছর আগে ভারতে আবিষ্কৃত যোগশাস্ত্র কেন বিখ্যাত বিশ্ব জুড়ে?

যোগব্যায়াম বা যোগশাস্ত্র কী? মানুষের রোজকার জীবনে এর প্রভাবই বা কতদূর? ভারতে আবিষ্কৃত এই শাস্ত্র কেনই বা বিখ্যাত বিশ্ব জুড়ে? এরকম বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ফের খুঁজে দেখা যাক। যোগব্যায়াম সাধারণত আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধরনের উপযোগিতার ভাণ্ডারের সম্মুখদ্বার। যে দ্বারের ভিতরে আছে সুস্বাস্থ্যের খনি। অনেকেই ভাবেন যোগব্যায়াম করা চারটি খানি কথা নয়, শরীরের নমনীয়তা না থাকলে যোগব্যায়াম করা যায় না ইত্যাদি। এটি আসলে একটি ভ্রান্ত ধারণা। ৮ থেকে ৮০ বয়সের যে কেউই যোগব্যায়াম করতে পারেন এবং এর উপকারিতা পেতে পারেন।

◆যোগশাস্ত্র কী?

যোগশাস্ত্র এক ৫০০০ বছর পুরনো ব্যায়াম শৃঙ্খলা যা কিনা ভারতবর্ষে আবিষ্কৃত। শরীরের সাথে মনের সংযোগ ঘটানোর জন্যই এই শাস্ত্র আবিষ্কার করা হয়। মানুষের মন বড় চঞ্চল এবং শরীর আজন্ম ভঙ্গুর। মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শরীর আর মনের দূরত্ব। যোগশাস্ত্রের বিভন্ন ধরনের আসনের শরণাপণ্ণ হয়ে মানুষ শরীর এবং মনের এই দূরত্বকে ঘুচিয়ে দিতে পারে আমৃত্যুকাল অবধি। যোগার বিভিন্ন ধরনগুলির মধ্যে কিছু কিছু খুবই শক্ত, শরীরের নমনীয়তা না থাকলে এগুলি রোজকার জীবনের অংশ করতে চাওয়া খুবই কঠিন। আবার যোগের অন্য ধরনগুলো খুব শান্তিপ্রদায়ক, সহজ, যা মেডিটেশনের জন্য উপযোগী।

◆যোগব্যায়ামের উপযোগিতা:

যোগ ব্যায়াম আমাদের শক্তির বৃদ্ধি ঘটায়, শরীরকে নমনীয় করে তোলে, মানসিক শান্তির বৃদ্ধি ঘটায়, মনকে শান্ত করে তোলে, রাগ ক্ষোভ উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও শরীরে বাসা বাঁধা বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। যেমন -

● শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।

● আর্থারাইটিস (Arthritis) দূর করে।

● কোমরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়।

● উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

● শ্বাসকষ্ট দূর করে।

● টেনশন, স্ট্রেস দূর করে।

● মাথা যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি দেয়।

● বিষাদ বা ডিপ্রেশন দূর করে।

শুধু অসুস্থ মানুষেরই নয়, যোগশাস্ত্র সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে উপযোগী। কীভাবে? জেনে নেওয়া যাক।

● যোগ শাস্ত্রের বিভিন্ন ব্যায়ামের মাধ্যমে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের মাংসপেশির শক্তি বৃদ্ধি ঘটে। যার ফলে ভবিষ্যতে যে কোনও ধরনের চোট বা আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

● যে কোনও সুস্থ মানুষের জীবনের অন্যতম শত্রু হলো স্ট্রেস বা চাপ। নিয়মিত যোগের মাধ্যমে মানুষ স্ট্রেস রিলিজ করতে সক্ষম হয়।

● স্ট্যামিনা এবং দৈহিক শক্তির বৃদ্ধি ঘটে।

● মনোসংযোগ বৃদ্ধি পায়।

● শরীরের সঙ্গে মনের সংযোগ ঘটে। মানুষ নিজের অবাধ্য মনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে শেখে।

◆ যোগার বিভিন্ন ধরন:

আগেই উল্লেখ করেছি যোগ ব্যায়ামের বিভিন্ন ধরন আছে, মানুষ তার শরীর এবং পছন্দ বুঝে যোগব্যায়ামের যে কোনও ধরন শুরু করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনগুলির মধ্যে কিছু কিছু ধরন আমি তুলে ধরলাম-

● Kripalu Yoga - খুবই ধীর স্থির ব্যায়াম প্রণালীগুলো এই ধরনের অন্তর্গত। যাদের শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি কম, তারা এই ধরনের যোগ ব্যায়ামে উপযোগিতা পেতে পারেন।

● Restroactive Yoga - কোনও দৈহিক পরিশ্রম যুক্ত ব্যায়াম নেই এই প্রণালীতে। এই প্রণালী শরীরের রিলাক্সশেসনের ওপর জোর দেয়।

● Hatha Yoga - নিশ্বাস প্রশ্বাসের বিভিন্ন ধরণ বা প্রাণায়ম শেখা যায় এই প্রণালীতে। দেশ বিদেশ জুড়ে বহুল প্রচলিত এটি।

● Bikram Yoga - একটা গরম ঘরের ভিতরে এই প্রণালীর অন্তর্গত ব্যায়াম গুলো করতে হয়। প্রায় ২৬ ধরণের ব্যায়াম আছে এই প্রণালী তে।

● Asthanga Yoga - দৈহিক শক্তির বৃদ্ধি ঘটে এই যোগার মাধ্যমে।

● Iyengar Yoga - শরীরের এলাইনমেন্টের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয় এই প্রণালীতে।

◆ যোগব্যায়াম কীভাবে শুরু করবেন?

যোগব্যায়াম শেখা এখন ভীষণই সহজলভ্য। লোকাল হেল্থ কমিউনিটি বা জিম সেন্টার বা ড্যান্স স্টুডিও বা হেল্থ ক্লাবের সাথে যোগাযোগ করলেই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য পাবেন। এ ছাড়াও ইন্টারনেট ইউটিউব yoga journal এর বিভিন্ন আর্টিকেল থেকে জেনে নিতে পারেন কোথায় যোগ ব্যায়াম শেখানো হয়। যোগ ব্যায়াম শুরু করার আগে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আগে বুঝুন কোন যোগ ব্যায়াম প্রণালী আপনার জন্য সঠিক। সেটা আপনাকে বুঝিয়ে দেবে আপনার যোগা শিক্ষক। নিজের ডাক্তারের সাথে আগে কথা বলুন, জানতে চান আপনি যোগা শুরু করতে পারেন কিনা। নিজের যোগা শিক্ষক কে নিজের শারীরিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতন করুন অবশ্যই। যাতে আপনি আপনার জন্য সঠিক ধরণটি পেতে পারেন এবং যোগ শাস্ত্রের যে উপযোগীতা তার স্বাদ পেতে পারেন।

■ একবার চেষ্টা করেই দেখুন:

যোগ ব্যায়ামের উপযোগীতা গুলো একবার আহরণ করেই দেখুন। স্ট্রেস, চিন্তা, টেনশন, ঝেড়ে ফেলেই দেখুন। ৪০ বছর বয়সে আবার নিজের বছর ১৬ এর ভার্সনে একবার ফেরত গিয়েই দেখুন। মনের সাথে মস্তিষ্কের যুদ্ধে একবার না হয় নিয়ন্ত্রণের দড়িটা হাতে রেখেই দেখুন।

যোগ ব্যায়াম আসলে নিজের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ না হারানোর শাস্ত্র। তা সে শরীরের জরা ব্যাধি হোক, বা মনের। একবার নিজের আত্মার মালিক নিজে হয়েই দেখুন।

Source :

  • https://m.timesofindia.com/life-style/health-fitness/fitness/why-yoga-should-be-part-of-your-daily-life/articleshow/29860273.cms

  • https://www.yogabliss.co.uk/Top-10-Benefits-of-Practicing-Yoga

  • https://www.urmc.rochester.edu

লিখেছেন
Amit Patihar
Amit Patihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।