ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?
Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?
ফ্যাটি লিভার মানেই শুধু লিভারে চর্বি জমা নয়। সময়ের সঙ্গে এই সমস্যা গুরুতর হয়ে লিভারে প্রদাহ তৈরি করতে পারে, এমনকী বাড়াতে পারে সিরোসিস ও ক্যানসারের ঝুঁকিও। কিন্তু এই রোগের চিকিৎসায় এ বার নতুন সম্ভাবনার কথা সামনে আনলেন গবেষকরা। তাঁদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে গুরুতর ফ্যাটি লিভারের তীব্রতা কমানো সম্ভব হতে পারে। DT-109 নামের একটি পরীক্ষাধীন ওষুধ ইঁদুর ও অমানব প্রাইমেটের শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক রেখে লিভারের ক্ষতি কমানোর এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে চিকিৎসার নতুন দিশা দেখাতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
কেন বিপজ্জনক ফ্যাটি লিভার?
লিভারে কিছুটা চর্বি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চর্বি জমতে শুরু করলে তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় গোলমাল দেখা দিলে লিভারে চর্বি জমার পাশাপাশি প্রদাহও তৈরি হতে পারে। এই অবস্থার গুরুতর রূপকে বলা হয় MASH বা Metabolic Dysfunction-Associated Steatohepatitis। সময়ের সঙ্গে এই রোগের প্রভাব বাড়তে থাকলে লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসার এমনকী লিভার বিকল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত।
লিভারের সমস্যায় অন্ত্রের ভূমিকা কী?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bhendi Health Benefits: ঢ্যাঁড়সেও এত গুণ? জেনে নিন একনজরে।
আমাদের অন্ত্রে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া বাস করে। তাদের মধ্যে কিছু ব্যাকটেরিয়া খাবার হজম করতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু সব ব্যাকটেরিয়া উপকারী নয়। অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গেলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অন্ত্রের দেওয়াল। এই দেওয়াল অনেকটা প্রহরীর মতো কাজ করে। এটি ক্ষতিকর পদার্থকে শরীরের ভিতরে ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয়। কিন্তু অন্ত্রের দেওয়াল দুর্বল হয়ে পড়লে কিছু ক্ষতিকর পদার্থ রক্তের মাধ্যমে লিভারে পৌঁছতে পারে। এর ফলে লিভারে প্রদাহ বাড়তে পারে এবং আগে থেকে থাকা রোগ আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
কীভাবে কাজ করে নতুন ওষুধ DT-109?
এই বিষয়টিকেই সামনে রেখে গবেষকরা DT-109 নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। এটি গ্লাইসিন-ভিত্তিক একটি ট্রাইপেপটাইড, অর্থাৎ তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি একটি ছোট অণু। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, DT-109 অন্ত্রে থাকা Clostridium perfringens নামের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে অন্ত্রে অ্যামোনিয়ার মাত্রাও কমেছে। এর ফলে অন্ত্রের উন্নতির পাশাপাশি অন্ত্রের সুরক্ষামূলক দেওয়াল আরও শক্তিশালী হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Child Health: ইউনিসেফ-ইউ-এর সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে মাত্র ১৮ শতাংশ দেশের বিদ্যালয়ে পরিবেশিত খাবার পুষ্টি-মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বাকি দেশগুলোর শিশুদের খাদ্যপরিবেশ একেবারেই সন্তোষজনক নয়।
বিষয়টি সহজ করে বললে, অন্ত্রের ভিতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ক্ষতিকর পদার্থের প্রভাব কমলে সেগুলি থেকে লিভারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও কমতে পারে। গবেষণায় এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। অন্ত্র থেকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী পদার্থ লিভারে পৌঁছনো কমায়, লিভারের প্রদাহও হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি MASH-এর তীব্রতাও কমতে দেখা গিয়েছে।
প্রাণীর শরীরে সাফল্য, মানুষের ক্ষেত্রে কী হবে?
গবেষকরা ইঁদুর এবং অমানব প্রাইমেটের উপর DT-109 পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষার ফলাফলে লিভারের প্রদাহ কমার পাশাপাশি রোগের অবস্থারও উন্নতি দেখা গিয়েছে। তবে প্রাণীর শরীরে কোনো ওষুধ কার্যকর প্রমাণিত হলেই মানুষের শরীরেও তা একইভাবে কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। মানুষের ক্ষেত্রে ওষুধটির কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, সঠিক মাত্রা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। তাই DT-109-কে এখনই ফ্যাটি লিভারের নিশ্চিত চিকিৎসা বলা যাবে না।
এই গবেষণা থেকে হৃদ্রোগ এবং অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগের মতো সমস্যার ক্ষেত্রেও নতুন গবেষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া, প্রদাহ এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে সম্পর্ক বোঝা গেলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার নতুন পথ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। তবে DT-109 এই রোগগুলির চিকিৎসায় কার্যকর হবে কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়।
University of Michigan-এর গবেষকদের এই কাজ আপাতত একটি আশার দিক দেখাচ্ছে। অন্ত্রের ভিতরের পরিবেশের পরিবর্তন ঘটিয়ে লিভারের গুরুতর রোগের তীব্রতা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে মানুষের চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে কি না, তার উত্তর মিলবে ভবিষ্যতের গবেষণায়। তত দিন পর্যন্ত ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে লিভারের প্রদাহ কমানোর এই গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মানুষের শরীরে ওষুধটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।







