অভ্যেসেই লুকিয়ে সাফল্যের মন্ত্র, বলছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বই

James Clear ‘Atomic Habits’: মেল রবিন্সের বিখ্যাত পডকাস্টে এসে এই চিরন্তন ধাঁধারই এক অসামান্য বৈজ্ঞানিক উত্তর দিলেন বিশ্বখ্যাত বেস্টসেলার বই ‘Atomic Habits’-এর লেখক জেমস ক্লিয়ার (James Clear)। তিনি পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন, সাফল্য হঠাৎ আসে না, সাফল্য আমাদের প্রতিদিনের অতি ক্ষুদ্র, অবহেলিত কিছু অভ্যেসের যোগফল।

inscript
৫ মিনিট
অভ্যেসেই লুকিয়ে সাফল্যের মন্ত্র, বলছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বই

নতুন বছর শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে থেকে আমরা ভাবতে থাকি আমাদের 'নিউ ইয়ার রেজল্যুশন' কী কী হবে তা নিয়ে। তারপর একটা একটা করে দিন পেরোতে থাকে, কিন্তু সেই লম্বা তালিকার রেজল্যুশনের মধ্যে থেকে একটাও পূরণ করতে পারি না।

আমরা ভাবতে শুরু করি, রাত ফুরোলেই জীবনটা ম্যাজিকের মতো বদলে যাবে, অলৌকিক কোনো সাফল্যের আলো এসে পড়বে চটজলদি—এমন অবাস্তব রূপকথায় আমরা অনেকেই বিশ্বাস করতে ভালবাসি। আর এই বৃত্ত একইরকম ভাবে দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলতে থাকে। তাহলে এই বৃত্তের থেকে বেরোনোর উপায় কী?

মেল রবিন্সের বিখ্যাত পডকাস্টে এসে এই চিরন্তন ধাঁধারই এক অসামান্য বৈজ্ঞানিক উত্তর দিলেন বিশ্বখ্যাত বেস্টসেলার বই ‘Atomic Habits’-এর লেখক জেমস ক্লিয়ার (James Clear)। তিনি পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন, সাফল্য হঠাৎ আসে না, সাফল্য আমাদের প্রতিদিনের অতি ক্ষুদ্র, অবহেলিত কিছু অভ্যেসের মাধ্যমে আসে। বিজ্ঞান বলছে, মস্ত বড় পাহাড় কাটার জন্য ছেনি-হাতুড়ির প্রতিটা ছোট আঘাত যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনই জীবনের মোড় ঘোরাতে গুরুত্বপূর্ণ রোজকার রুটিনের সূক্ষ্ম পরিবর্তন। এর জন্য জীবনে ১০ টি বিষয় আপনাকে মাথায় রাখতে হবে

১. রুটিন বদলান

খারাপ অভ্যেসগুলি বারবার ফিরে আসার কারণ আপনার ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়। এর কারণ হলো আপনার প্রতিদিনের রুটিনে। আপনার তৈরি করা প্রাত্যহিক রুটিনটাই এমন, যা আপনাকে সেই খারাপ অভ্যেসটা বজায় রাখতে বাধ্য করে। তাই নিজের রুটিন ঠিক করা প্রয়োজন।

২. প্রতিদিন মাত্র ১% ভালো হোন

একদিনে জীবন বদলে ফেলার অবাস্তব চিন্তা বাদ দিন। জেমস ক্লিয়ারের অঙ্ক খুব সহজ—আপনি যদি প্রতিদিন নিজেকে মাত্র ১% উন্নত করতে পারেন, তবে বছর শেষে (৩৬৫ দিন পর) আপনি প্রায় ৩৭ গুণ বেশি দক্ষ ও উন্নত মানুষে পরিণত হবেন। এই ছোট ছোট সুঅভ্যেসগুলিই একদিন সাফল্য এনে দেয়।

৩. অভ্যেসই পুঁজি

টাকা যেমন ব্যাংকে রাখলে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে, অভ্যেসও ঠিক তাই। আপনার বর্তমান শরীর, ব্যাংক ব্যালেন্স, কিংবা জ্ঞান—সবই কিন্তু আপনার বিগত দিনের দৈনন্দিন অভ্যেসের ফল। আজ থেকে অভ্যেস ঠিক রাখলে, ভবিষ্যৎ জীবন নিজে থেকেই সুন্দর হয়ে উঠবে।

৪. অভ্যেসের চারটি ধাপ

যেকোনো অভ্যেস মূলত একটি চক্র মেনে চলে:

সংকেত (Cue) → ইচ্ছা (Craving) → কাজ (Response) → পুরস্কার (Reward)

এই চক্রটি যখন আমাদের অবচেতনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে, তখনই তা পাকাপোক্তভাবে অভ্যেসে পরিণত হয়।

৫. সুঅভ্যেস গড়ার ৪টি সহজ নিয়ম

যদি নতুন কোনো ভালো অভ্যেস গড়ে তুলতে চান, তবে জেমস ক্লিয়ার ৪টি বিষয় মেনে চলতে বলছেন:

চোখের সামনে রাখুন: আপনি যে সুঅভ্যেসটি গড়ে তুলতে চাইছেন, সেই সংক্রান্ত বস্তুটি সবসময় চোখের সামনে রাখুন, যাতে সহজেই নজরে পড়ে।

আপনি যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করতে চান, তাহলে বাড়িতে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর খাবারই রাখুন। তাহলেই খিদে পেলে সেই স্বাস্থ্যকর খাবারগুলি খাবেন আপনি।

আকর্ষণীয় করুন: সুঅভ্যেসটির প্রতি ভালো লাগা, আকর্ষণ তৈরি করুন।

স্বাস্থ্যসচেতন হওয়া যদি আপনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রতি ভালো লাগা, আকর্ষণ তৈরি করুন।

সহজ শুরু: শুরুটা যেন খুব কঠিন না হয়।

সুস্বাস্থ্যের জন্য সুঅভ্যেস গড়ে তুলতে চাইছেন, কিন্তু প্রথম দিনই গিয়ে প্রচুর ব্যায়াম একদিনে করবেন না। একটা সহজ শুরু করুন। ছোট আকারে।

সন্তোষজনক কাজ: কাজটা শেষ করে যেন একটা মানসিক তৃপ্তি বা পুরস্কার পাওয়া যায়। নাহলে সেই কাজ করতে ভালো লাগবে না বেশিদিন।

৬. লক্ষ্যের চেয়ে রুটিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ

আমাদের ফোকাস থাকে গোল বা লক্ষ্যের উপর (যেমন: ওজন কমাতে হবে)। কিন্তু জেমস ক্লিয়ার বলছেন, লক্ষ্যের চেয়ে প্রতিদিনের রুটিন বেশি জরুরি। আপনি প্রতিদিন কী করছেন, সেটাই ঠিক করে দেবে আপনি লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন কি না। সিস্টেম ঠিক থাকলে লক্ষ্য নিজে নিজেই পূরণ হবে।

৭. নিজের পরিচয় অনুসারে অভ্যেস গড়ুন (Identity-Based Habits)

শুধু এটা ভাববেন না যে "আমি কী করব" (যেমন: আমি বই পড়ব)। বরং ভাবুন "আমি কেমন মানুষ হতে চাই" (যেমন: আমি একজন পাঠক হতে চাই)। যখন আপনি নিজের ভিতরের পরিচয়টা বদলে ফেলবেন, তখন সেই পরিচয় ধরে রাখার জন্য অভ্যেসগুলি দীর্ঘস্থায়ী হবে।

৮. খারাপ অভ্যেস ভাঙার নিয়ম

ভালো অভ্যেস গড়ার যে ৪টি নিয়ম, খারাপ অভ্যেস ভাঙার জন্য ঠিক তার উল্টোটা করতে হবে। অর্থাৎ, খারাপ অভ্যেসকে করতে হবে: অদৃশ্য, অনাকর্ষণীয়, কঠিন এবং অসন্তোষজনক।

৯. পরিবেশের ব্যবহারিক পরিবর্তন

আপনার ঘর-বাড়ি বা কাজের টেবিল এমনভাবে সাজান যাতে ভালো অভ্যেসগুলি মেনে চলা সহজ হয়। আর নতুন কোনো অভ্যেস শুরু করার সময় তা খুব ছোট আকারে শুরু করুন (যেমন: দিনে মাত্র ২ পাতা বই পড়া)। কোনোদিন সেই সুঅভ্যেস না করা হলে, পরের দিনই সেটা আবার ধরে ফেলুন—টানা দুদিন কখনও বাদ দেবেন না।

খারাপ অভ্যেস ভাঙার ‘স্টপলিং টেকনিক’ (Stopling Technique)

ইচ্ছাশক্তি দিয়ে জোর করে খারাপ অভ্যেস বন্ধ করা যায় না, কারণ একটা সময় পর আমাদের মানসিক ক্লান্তি চলে আসে। তাই জেমস ক্লিয়ারের পরামর্শ হলো—পরিবেশ ও সিস্টেমের পরিবর্তন করা।

  • চোখের সামনে রাখবেন না (Make it Invisible)

আমাদের চোখ যা দেখে, মন সেটার দিকেই ছোটে। তাই খারাপ অভ্যেসের মূল সংকেত বা ট্রিগারটিকে চোখের সামনে থেকে সরিয়ে ফেলুন।

যেমন- পড়ার সময় বারবার ফোন স্ক্রল করার ইচ্ছে হলে ফোনটি অন্য ঘরে রেখে এলে সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে। ঘরে জাঙ্ক ফুড বা চিপস থাকলেই খাওয়ার ইচ্ছেটাও বেশি হয়, তাই ঘরে সেসব রাখাই বন্ধ করে দিন। সুপারমার্কেটে গেলে ওইসব খাবারের জায়গা এড়িয়ে চলুন।

  • অনাকর্ষণীয় করুন (Make it Unattractive)

মনকে বোঝান যে এই অভ্যেসটি আপনার কতটা ক্ষতি করছে। এর নেতিবাচক দিকগুলি বারবার মনে করুন।

যেমন- সকালে দেরি করে উঠলে নিজেকে বলুন, “এর ফলে আমার পুরো দিনটা নষ্ট হচ্ছে, কাজের চাপ বাড়ছে এবং আমি পিছিয়ে পড়ছি।” অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার আগে ভাবুন, “এটা আমার ওজন ও সুগার বাড়াচ্ছে, এখন আমি খেলে পরে আফসোস হবে।”

  • কঠিন করুন (Make it Difficult)

আপনার খারাপ অভ্যেস এবং আপনার মাঝখানে যত বেশি বাধা বা ‘ফ্রিকশন’ তৈরি করতে পারবেন, অভ্যেসটি তত দ্রুত কমবে।

যেমন- সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি কমাতে ফোনের স্ক্রিন ‘গ্রেস্কেল’ (সাদা-কালো) করে দিন অথবা কঠিন কোনো অ্যাপ লক ব্যবহার করুন। রাতে দেরি করে ঘুমানোর অভ্যেস থাকলে রাত ১০টার পর ফোনটি দূরে কোথাও চার্জে লাগিয়ে দিন।

  • অসন্তোষজনক করুন (Make it Unsatisfying)

আপনি যে কুঅভ্যেস বাদ দিতে চাইছেন, সেটি কখনও করলে, সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে একটা শাস্তি দিন।

ধরুন আপনি ভুল করে জাঙ্ক ফুড খেয়ে ফেললেন, তখন নিজেকে শাস্তি দিতে পরের দিন সকালে অতিরিক্ত ১০ মিনিট বেশি হাঁটতে পারেন। সবথেকে ভালো হয় একজন বিশ্বস্ত কাউকে রাখা। তাকে বলে রাখুন, “আমি যদি এই খারাপ কাজটি করি, তবে তোমাকে এত টাকা জরিমানা দেব।” সেই ভয়ে আপনার খারাপ অভ্যেসটি থেমে যাবে।

১০. এখনই শুরু করুন

"কাল থেকে করব" বা "উপযুক্ত সময় আসুক"—এই ভেবে সময় নষ্ট করবেন না। যেকোনো ছোট একটা কাজ দিয়ে আজ, এখনই শুরু করে দিন। কাজ শুরু করলেই মন শান্ত হয় এবং মোমেন্টাম তৈরি হয়।

সাফল্য কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট সঠিক সিদ্ধান্তের ফলেই তৈরি হয় একটি সুন্দর জীবন। আজ থেকেই আপনার রুটিন পরিবর্তন করুন, জীবন নিজে নিজেই বদলে যাবে!

লিখেছেন
inscript
inscript
15 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।

সুপারমার্কেটের শাকে নয়, বুনোশাকেই রয়েছে বেশি পুষ্টিগুণ

Wild leafy greens: Scientific Reports (2024)-এর গবেষণা বলছে, বাণিজ্যিক উপায়ে চাষ করা সাধারণ সবজির চেয়ে এই বুনো শাকগুলিতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি এবং ফাইবার অনেক বেশি থাকে। এমনকী কর্ণাটকের সোলিগা উপজাতির মহিলারা গর্ভবতী মায়েদের রক্তশূন্যতা দূর করতে বিশেষ কিছু বুনো শাক ব্যবহার করে আসছেন যুগের পর যুগ।