সন্তানের জন্মের পিছনে বাবা-মা ছাড়াও থাকবেন তৃতীয় মহিলা! যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথে এই দেশ

দুই মহিলার ডিম্বাণুর সাহায্যে যুগ্মভাবে বানানো ডিম্বাণুটি নিষিক্ত করা হবে বাবার শুক্রাণু দিয়ে।

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
সন্তানের জন্মের পিছনে বাবা-মা ছাড়াও থাকবেন তৃতীয় মহিলা! যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথে এই দেশ

ব্রিটেনের পর এবার অস্ট্রেলিয়া! ডিম্বাণু নিষিক্তকরণের এমন

একটি প্রক্রিয়া আইনসিদ্ধ করতে চলেছে এই দেশ, যেখানে

তিনজন ব্যক্তির জিন একসঙ্গে উপস্থিত থাকবে। প্রচলিত ডিম্বাণু নিষিক্তকরণের ক্ষেত্রে কী হয়? সেখানে মায়ের থেকে একটি

ডিম্বাণু ও বাবার থেকে একটি শুক্রাণু অংশগ্রহণ করে। স্বাভাবিকভাবেই এই নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়ায় দু'জন, অর্থাৎ বাবা ও মায়ের জিনই অপত্যের দেহে সঞ্চারিত হয়।

নতুন এই পদ্ধতিতে মা, বাবার জিন ছাড়াও তৃতীয় একটি মহিলার শরীর থেকে জিন অপত্যের দেহে সঞ্চারিত হবে। তৃতীয় জন, অর্থাৎ, তৃতীয় মহিলার দেহ থেকে সংগ্রহ করা হবে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ।

কেন এই মহিলার মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ দরকার, সেই প্রসঙ্গে আসার আগে আলোচনা করা দরকার, আমাদের কোশের কোন কোন অংশে এই ডিএনএ থাকে?

আমাদের শরীরে মূল ডিএনএ থাকে ক্রোমোজো়মে, যা আসলে আমাদের দৈহিক ও চারিত্রিক গঠনের পিছনে মূল ভূমিকা পালন

করে। ক্রোমোজো়মে অবস্থিত ডিএনএ-কে বলে ক্রোমোজো়মাল

ডিএনএ।

ক্রোমোজো়ম আবার অবস্থিত কোশের নিউক্লিয়াস নামের অংশে, বলা যেতে পারে, এই নিউক্লিয়াসই কোনো কোশের 'হেড

কোয়ার্টার'। সে-ই কোশের কার্যপ্রণালী থেকে কোশের ভবিষ্যৎ

নিয়ন্ত্রণ করে।

অপত্যের শরীরে ক্রোমোজো়মাল ডিএনএ মা ও বাবা- উভয়ের শরীর থেকেই আসে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানুষের বাসস্থান মিশে যাচ্ছে সমুদ্রগর্ভে, কতটা বিপদ আছে সামনে?

ভারতের সমুদ্রতটবর্তী অঞ্চলে প্রায় দেড়শো মিলিয়ন লোকের বাস বর্তমানে। জনবিস্ফোরণের প্রভাবে আগামী বছরগুলিতে সেই সংখ্যা বাড়ার প্রবণতাই বেশি। স্বাভাবিকভাবেই সমুদ্রতীরবর্তী বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।

ক্রোমোজোম ছাড়াও কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে ডিএনএ থাকে মাইটোকন্ড্রিয়া নামের একটি অঙ্গাণুতে। মাইটোকন্ড্রিয়া হল কোশের শক্তিঘর। খাদ্যগ্রহণের ফলে এখানে তৈরি

এটিপি (ATP) তৈরি হয় বলেই আমাদের শরীরে শক্তি সঞ্চারিত হয়।

কোশের এই শক্তি-উৎপাদনকারী অঙ্গাণু, অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়াতেও থাকে ডিএনএ। এই ডিএনএ কিন্তু ক্রোমোজোম-স্থিত ডিএনএ-র অংশ নয়। তাই এদের এক্সট্রাক্রোমোজো়মাল ডিএনএ. বা ক্রোমোজো়ম-বহিঃস্থ ডিএনএ বলা হয়।

ডিম্বাণু নিষেকের সময়, বাবা আর মায়ের দু'জনের জননকোশ, অর্থাৎ যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু থেকে বাকি সব কিছু সমান-সমান অনুপাতে এলেও, মাইটোকন্ড্রিয়াটি কিন্তু আসে কেবল মায়ের থেকেই। স্বাভাবিকভাবেই মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ-ও আসে মায়ের শরীর থেকেই।

মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ-তে ত্রুটি থাকলে বেশ কিছু কঠিন অসুখ দেখা যায় সন্তানের শরীরে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ-জনিত অসুখ মায়ের শরীর থেকেই বাহিত হয়। এই অসুখগুলো সাধারণত বিরল হলেও, এই অসুখগুলির চিরস্থায়ী উপশম কিন্তু নেই।

এই অসুখগুলির মধ্যে অন্যতম টোসিস, এক্সটার্নাল অফথ্যালমোপ্লেজিয়া, প্রক্সিমাল মায়োপ্যাথি, কার্ডিওমায়োপ্যাথি, বিশেষ কিছু ধরনের বধিরতা এবং অন্ধত্ব। এমনকী, ডায়াবেটিসও (ডায়াবেটিস মেলিটাস) বেশ কিছু ক্ষেত্রে মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনের ত্রুটির কারণে হয়।

উদাহরণ দেওয়া যাক লে সিন্ড্রোমের। এটি মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ-এর ত্রুটিজনিত একটি অসুখ, যার ফলে মানসিক ক্রিয়াকলাপ বিঘ্নিত হয় শিশুদের মধ্যে। এবং শৈশবের পরে লে সিন্ড্রোমে ভোগা রোগীরা বাঁচে না।

এসব ত্রুটিপূর্ণ মাইটোকন্ড্রিয়া বাদ দিতেই নিষেকের

প্রক্রিয়ায় তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি বাধ্যতামূলকভাবে

একজন মহিলাই, তাঁর মাইটোকনড্রিয়াল ডিএনএ-র

প্রয়োজন। বাবার শরীরের মাইটোকন্ড্রিয়া কাজে লাগবে না,

যা প্রতিবেদনের শুরুতেই বলা হয়েছে?

কীভাবে সম্পন্ন হবে নিষেকের এই নতুন প্রক্রিয়া? যে মহিলাটি মাইটোকন্ড্রিয়া দান করবেন, তাঁর ডিম্বাণু থেকে নিউক্লিয়াসটি সরিয়ে ফেলা হবে শুরুতেই। ফলে নিউক্লিয়াসের মধ্যে থাকা ক্রোমোজো়মাল ডিএনএ-ও সরিয়ে ফেলা যাবে। পড়ে

থাকবে কোশরস, যেখানে ভেসে বেড়াচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়া।

এবার এই মহিলার নিউক্লিয়াসের জায়গায় মায়ের ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস প্রবেশ করানো হবে। খেয়াল রাখতে হবে, মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়া যেন প্রবেশ না করে এবং মায়ের ডিম্বাণু

থেকে আসা নিউক্লিয়াসটি যেন পারতপক্ষে অক্ষত থাকে। তারপর দুই মহিলার ডিম্বাণুর সাহায্যে যুগ্মভাবে বানানো ডিম্বাণুটি নিষিক্ত করা হবে বাবার শুক্রাণু দিয়ে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে শরীরের বাইরেই করা হবে। সবশেষে নিষিক্ত ডিম্বাণু মায়ের জরায়ুতে পাঠানো হবে।

মার্ডক চিলড্রেন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ-বিষয়ক গবেষক ডেভিড থরবার্ন ওয়ার্ড-কে জানিয়েছেন, এই পদ্ধতির প্রাথমিক একটি আশঙ্কা হল, নিষিক্তকরণের পদ্ধতিটির সময়ে মায়ের ত্রুটিপূর্ণ মাইটোকন্ড্রিয়াল জিন থেকে যেতে পারে ডিম্বাণুতে। যা আবার অপত্যের দেহে সঞ্চারিত হলে, আবার শিশুটি রোগে আক্রান্ত হবে। আরও একটি সমস্যা হল, মায়ের ক্রোমোজোমাল ডিএনএ এবং মাইটোকন্ড্রিয়া দাতার

মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ আদৌ পরস্পরের জন্য উপযুক্ত হবে কি না। কোশের ভেতর তাদের সহাবস্থানের দরুণ, কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটবে না তো? সেই আশঙ্কা থাকছেই।

আশার বিষয় হল, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড, দুই দেশের ডাক্তার

এবং গবেষকদের মতে এই দুই আশঙ্কা সত্যি হওয়ার প্রবণতা খুবই কম।

গ্রিস এবং ইউক্রেনের কিছু হাসপাতালও নিষিক্তকরণের

জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে ২০১৫ সাল নাগাদ।

২০১৬ সালে একটি শিশুপুত্র জন্মগ্রহণ করে। আনন্দের বিষয়,

শিশুটির মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ-তে ত্রুটি থাকায় তিনি লে সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হলেও, সন্তানটি সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে। অথচ এর আগে যখন তিনি প্রথাগত

পদ্ধতিতেই গর্ভধারণ করেছিলেন, তাঁর গর্ভজাত দুই সন্তানই মারা গেছিল শৈশবে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।