মানুষের বাসস্থান মিশে যাচ্ছে সমুদ্রগর্ভে, কতটা বিপদ আছে সামনে?

ভারতের সমুদ্রতটবর্তী অঞ্চলে প্রায় দেড়শো মিলিয়ন লোকের বাস বর্তমানে। জনবিস্ফোরণের প্রভাবে আগামী বছরগুলিতে সেই সংখ্যা বাড়ার প্রবণতাই বেশি। স্বাভাবিকভাবেই সমুদ্রতীরবর্তী বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
মানুষের বাসস্থান মিশে যাচ্ছে সমুদ্রগর্ভে, কতটা বিপদ আছে সামনে?

ন্যাশানাল সেন্টার ফর কোস্টাল রিসার্চ (National Centre for Coastal Research) বা এনসিসিআরের (NCCR) সাম্প্রতিকতম পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যাচ্ছে, ভারতের সমুদ্রতটবর্তী অঞ্চলের এক তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যেই

ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে তলিয়ে গেছে সমুদ্রগর্ভে।

ভারতের মূল ভূখণ্ডের সমুদ্র-উপকূলের মোট দৈর্ঘ্য ৬,৯০৭ কিলোমিটার। এবং মূল ভূখণ্ডে মোট নয়টি রাজ্য রয়েছে, যাদের বেশ কিছুটা অংশ সমুদ্র-উপকূলবর্তী অংশের মধ্যে পড়ে।

উপকূলবর্তী অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার পেছনে দায়ী করা হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং মানুষের ক্রিয়াকলাপকে।

কতটা ক্ষতি?

২০১৮ সালে এনসিসিআর "ন্যাশানাল অ্যাসেসমেন্ট অফ শোরলাইন চেঞ্জেস অ্যালং ইন্ডিয়ান কোস্ট" (National

Assessment of shoreline changes along Indian coast) নামের একটি রিপোর্টে ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চল পরিবর্তিত হওয়া বিষয়ক তথ্য প্রকাশিত হয় ।

রিমোট সেন্সিং এবং জিওগ্রাফিক ইনফর্মেশন সিস্টেমের (জিআইএস) মাধ্যমে ভারতের উপকূলজুড়ে পর্যবেক্ষণ শুরু করে এনসিসিআর। কাজ শুরু হয় ১৯৯০ সালেই। তখন জানা যায় ভারতের উপকূলের এক তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যেই ক্ষয় পেয়েছে।

ভারতের পূর্ব উপকূলের মোট দৈর্ঘ্য ৫৩৪.৩৫ কিলোমিটার। পূর্ব

উপকূলবর্তী রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গ। ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল ৬০.৫ শতাংশ সমুদ্রের নীচে তলিয়ে গেছে । অন্ধ্রপ্রদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী যে অংশে গোদাবরী

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চোখ রাঙাচ্ছে অশনি, ঘূর্ণিঝড়ে কোন সতর্কতা নিতেই হবে

কীভাবে এই ঝড়ের হাত থেকে বাঁচবেন উপকূলবর্তী এলাকার লোকজন? আসুন দেখে নিই এক নজরে।

নদী বয়ে গেছে, তার অর্ধেক বর্তমানে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে ।

অন্যদিকে পশ্চিম উপকূলের সামগ্রিক দৈর্ঘ্য ৫৯২.৯৬ কিলোমিটার। পশ্চিম উপকূলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কেরালা। ৪৬.৪ শতাংশ ক্ষয়ের শিকার হয়েছে এই রাজ্যের উপকূল।

এদিকে ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা

যাচ্ছে ভারতের মূল ভূখণ্ডের উপকূল ভাগের ৩৪ শতাংশ বর্তমানে সমুদ্রের তলায় চলে যাচ্ছে ক্রমাগত । অন্যদিকে

২৪ শতাংশ উপকূল ভাগ কিন্তু ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। বাকি ৪০ শতাংশ অপরিবর্তিত আছে।

সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল ক্ষয়ের কারণ কী? এক্ষেত্রে মানুষ কতটা দায়ী?

সমুদ্র উপকূল ক্ষয়ের প্রাকৃতিক কারণ হিসেবে দায়ী করা যায় সমুদ্রস্রোতের ক্রমাগত আঘাত, বায়ুর ক্রিয়াকলাপ এবং আবহবিকারকে। এই প্রক্রিয়াগুলির প্রভাবে সমুদ্রতটবর্তী পাহাড় ও পাথুরে জমিও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যায়। পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলের ক্ষয়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে মানুষের ক্রিয়াকলাপ, বিশ্ব উষ্ণায়ণ, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়।

তাছাড়া বিগত কয়েক বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝড়ঝঞ্ঝার প্রাবল্য বেড়েছে। ক্রমাগত বিধ্বংসী হয়েছে

তাদের রূপ। ভয়াবহ ঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া বিধ্বংসী জলোচ্ছ্বাস যখন দিনের পর দিন আছড়ে পড়েছে সমুদ্রতটে, ক্ষয়িত হয়েছে সমুদ্রতীরবর্তী ভূমি।

বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে মেরু প্রদেশে গলেছে হিমবাহ। ফলস্বরূপ উচ্চতা বেড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের। এবং এটিও সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলের সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পিছনে অন্যতম একটি কারণ।

এর পাশাপাশি তীরবর্তী অঞ্চলে বাধাহীন বৃক্ষচ্ছেদন, নগরায়ন, শিল্পায়নের মতো ঘটনাও সামগ্রিক অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে। সমুদ্র দূষণের ফলে সমুদ্রতটবর্তী জমিতে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বেড়েছে সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে ভূমিক্ষয়ের হার।

বায়ুদূষণের ফলে বাতাসে ক্রমাগত বেড়েছে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ, সঙ্গে বেড়েছে কার্বন মনোক্সাইড।

কার্বন মনোক্সাইড বৃষ্টির জলের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক অ্যাসিডে পরিণত হয়। যা বৃষ্টির জলের সঙ্গে সমুদ্রে মিশে সমুদ্রের অম্লতা বাড়িয়ে তুলছে।

আর সেই অম্ল জল সমুদ্রতীরবর্তী পাথরের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করছে, ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে হচ্ছে উপকূলবর্তী অঞ্চলের পাথুরে জমি।

ভবিষ্যৎ কী?

আরএমএসআই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত বহু দর্শনীয় স্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর ২০৫০ সালের মধ্যেই সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে মুম্বই, ম্যাঙ্গালোর, কোচি, তিরুবনন্তপুরম, চেন্নাই, বিশাখাপত্তনম প্রভৃতি।

বান্দ্রা-ওরলি সি লিঙ্ক, হাজি আলি দরগা, ওয়েস্টার্ন

এক্সপ্রেস হাইওয়ে, এমনকি মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভেরও প্রবল আশঙ্কা আছে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার।

ভারতের সমুদ্রতটবর্তী অঞ্চলে প্রায় দেড়শো মিলিয়ন লোকের বাস বর্তমানে। জনবিস্ফোরণের প্রভাবে আগামী বছরগুলিতে সেই সংখ্যা বাড়ার প্রবণতাই বেশি। স্বাভাবিকভাবেই সমুদ্রতীরবর্তী বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।

বিপদের মুখে তাদের আশ্রয় এবং খাদ্যের জোগান। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকলে সমুদ্রকেন্দ্রিক

জীবিকানির্বাহীদের ভবিষ্যৎও সংকটে পড়বে।

উপকূলবর্তী অঞ্চলের ক্ষয় রুখতে সঠিক পদক্ষেপ কি নিয়েছি আমরা?

ভারত সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে উপকূলের ক্ষয় রুখতে।ন্যাশনাল সেন্টার ফর সাস্টেনেবল কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের হাত ধরে উপকূলবর্তী অংশ দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংরক্ষণে জোর দিয়েছে ভারত সরকার। অন্যদিকে ইন্টিগ্রেটেড কোস্টাল জো়ন ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান নামের আরও একটি প্রকল্প

শুরু করা হয়েছে এই উদ্দেশ্যে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।