অভিযুক্তকেও ভোটের টিকিট! প্রার্থীদের মামলা নিয়ে কী নির্দেশ ছিল সুপ্রিম কোর্টের?
Election Commission Guidelines India: অপরাধমূলক অভিযোগ থাকা প্রার্থীদের টিকিট, তথ্য প্রকাশের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে কতটা কার্যকর? নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে দেশে।
ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নির্বাচন ঘিরে যে বিতর্ক, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে, তাতে বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ফের গুরুত্ব পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার সেই নির্দেশিকা, যেখানে প্রার্থীদের অপরাধমূলক অতীত জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়ার এক ঐতিহাসিক রায়ে বলা হয়েছিল, ভোটারদের অধিকার রয়েছে জানার যে প্রার্থীকে তাঁরা ভোট দিচ্ছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কি না। সেই রায়ের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত নির্দেশিকা ও FAQ জারি করে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই নিয়ম বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে?
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই জয়ীও হচ্ছেন। তথ্য প্রকাশের নিয়ম থাকলেও, তা সাধারণ ভোটারের কাছে কতটা পৌঁছচ্ছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। অনেক সময় নোটিশের আকারে তথ্য প্রকাশ করা হলেও, তা চোখ এড়িয়ে যায় বা বোঝা কঠিন হয়ে ওঠে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
election 2026:বস্তিতে বস্তিতে পৌঁছে যাচ্ছেন বালিগঞ্জের এই তরুণী। উঠে আসছে শতসহস্র অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারে থাকা দলের বিরুদ্ধে।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত প্রার্থীদের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রেশন দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চলাকালীনই হাবড়া থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন। মদন মিত্র কামারহাটিতে তৃণমূলের প্রার্থী, তাঁর বিরুদ্ধে সারদা চিটফান্ড ও নারদা স্টিং কাণ্ডে প্রতারণা ও ঘুষের অভিযোগ রয়েছে; গ্রেফতারও হয়েছিলেন। অন্যদিকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী, তাঁর বিরুদ্ধেও নারদা কাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যেগুলির অধিকাংশই এখনও তদন্তাধীন। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ক্ষেত্রেও নারদা স্টিংয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সিবিআই তদন্ত ও গ্রেফতারের ঘটনা রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্বে থাকা অনুব্রত মণ্ডল গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত থেকেও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। যদিও এসব অভিযোগের সবকটি আদালতে প্রমাণিত নয়, তবুও এমন প্রার্থীদের উপস্থিতি নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রার্থীদের নিজেদের অপরাধমূলক তথ্য প্রকাশ করতে হয় এবং সেই প্রকাশের প্রমাণস্বরূপ একটি রিপোর্ট জমা দিতে হয়। রাজনৈতিক দলগুলিকেও জানাতে হয় কেন তারা ওই প্রার্থীকে মনোনয়ন দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যাখ্যাগুলি কতটা গ্রহণযোগ্য বা কতটা যাচাইযোগ্য, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Abhaya mother joins BJP: যে বিজেপি আগে উদ্যত হলো না অভয়াকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে, তারা ভোটের সময় অভয়ার বাবা-মাকে শুধু প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে না তো? এই প্রশ্নের উত্তরে অভয়ার বাবা বলেন, "অবশ্যই ব্যবহার করছে। আর আমরা এটা মেনে নিয়েছি। রাজনীতিতে পরস্পরের সুবিধা তো দেখবেই। "
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কেবল নিয়ম জারি করলেই হবে না, তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। কারণ, তথ্য যদি এমনভাবে প্রকাশ করা হয় যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়, তবে তার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কেন অপরাধমূলক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া হয়? যদিও কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী দলগুলিকে কারণ জানাতে হয়, কিন্তু সেই ব্যাখ্যা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা বিচার করার কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নেই।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, নাগরিক সমাজ ও ভোটারদেরও আরও সচেতন হতে হবে। কারণ গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে ভোটারই। যদি ভোটাররা তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেন, তবেই এই উদ্যোগের সাফল্য নিশ্চিত হবে।
প্রসঙ্গত, কাগজে-কলমে স্বচ্ছতার যে কাঠামো তৈরি হয়েছে, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজ ফের আলোচনায় নির্বাচন কমিশনের সেই পুরনো কিন্তু প্রাসঙ্গিক নির্দেশিকা।






