ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছে ভারতীয়রা! রিপোর্টে অশনি সংকেত

Antibiotics: ভারতীয়রা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই গোগ্রাসে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাচ্ছেন- বলছে রিপোর্ট।

Piya Saha
৩ মিনিট
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছে ভারতীয়রা! রিপোর্টে অশনি সংকেত

হালকা ঠান্ডা লাগা হোক বা যে-কোনও শারীরিক সমস্যা- ভারতীয়রা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই গোগ্রাসে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাচ্ছেন। এমনকী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নেই এমন ওষুধও কোনওরকম প্রেসক্রিপশন ছাড়াই মুড়ি-মুড়কির মতো ওষুধের দোকান থেকে বিক্রি হয়েছে করোনাকালে। এমনই দাবি ল্যানসেট-এর গবেষণাপত্রে। অ্যান্টিবায়োটিকের অত্যধিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে গবেষক দলের সকলেই।

ল্যানসেট-এর গবেষণা রিপোর্ট

১ সেপ্টেম্বর ল্যানসেট পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করেছে ভারতীয়রা। এর মধ্যে অ্যাজিথ্রোমাইসিনের ব্যবহার সবথেকে বেশি। করোনাকালে এই প্রবণতা কয়েক গুণ বেড়েছে। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল, অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রি ও ব্যবহার নিরীক্ষণ করা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়া নিয়মের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। গবেষকরা জানিয়েছেন, যে-সমস্ত অ্যান্টিবায়োটিক ভারতীয়রা খায়- তার অধিকাংশই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়। এমন প্রবণতা রুখতে ভারত সরকারকে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মত গবেষকদের।এই গবেষণাপত্রটি ওষুধ সংস্থার বিক্রি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা ফার্মা ট্রাকের দেওয়া পরিসংখ্যান ও ন'হাজার সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়ে তৈরি প্যানেলের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে তৈরি করা হয়েছে। এই রিপোর্ট তৈরিতে দিল্লির পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া-রও অবদান রয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বদহজম কাটাতে মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড খাচ্ছেন, অজান্তেই ডেকে আনছেন মারণ রোগ

যদি অতিরিক্ত অ্যাসিড না থাকে, তবে অ্যান্টাসিডে থাকা ক্ষার পাকস্থলীর ক্ষতি করে। শরীরের রক্তাল্পতাও দেখা দেয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সাধারণত ডিফাইন ডোজ (DDD) পদ্ধতিতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারকারীর হিসেব রাখা হয়। তাতেই দেখা গেছে, ২০২০ সালে ভারতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সংখ্যা ছিল ৫০৭১ মিলিয়ন। মানে প্রতি ১০০০ জনে প্রতি ১০.৪ অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট দৈনিক ডোজ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধরনের ওষুধের মধ্যে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ৫০০ এমজি-র ব্যবহার সবথেকে বেশি (৭.৬%) । দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে সিফিক্সিমি ২০০ এমজি (৬.৫%) । এছাড়াও কেন্দ্রের অনুমোদনহীন অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হয়েছে ৪৪ শতাংশ। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারে ফলে মানবশরীরে এর প্রভাব কমতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, অ্যান্টিবায়োটিক হলো সেই ওষুধ, যা ব্যাকটেরিয়া থেকে হওয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং তার বৃদ্ধিতে বাধা দেয় বা মেরে ফেলে।

২০২০ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারতে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ শীর্ষে পৌঁছেছিল। আর এই সময়েই দেশে লাফিয়ে বেড়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রি। ২০২০ সালে ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রি বেড়ে হয়েছে ৭৬.৮ শতাংশ, যা আগের দু'বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। অবাক করার মতো কথা হলো, যেখানে আমেরিকা বা এই ধরনের উচ্চ আয়ের দেশে এই ওষুধের বিক্রি হ্রাস পেয়েছে, সেখানে ভারতে এই ওষুধের বিক্রি মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে, যা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসক মহলে।

সরকারি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা

গবেষকরা গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, ব্রড স্পেকট্রামে ভারতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এতই বেশি যে, ভবিষ্যতে তা জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে, যা যথেষ্ট উদ্বেগের। ভারতে এই ধরনের ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণ হিসেবে কেন্দ্র-রাজ্য অসংহতিকেই দায়ী করেছেন গবেষকরা। এই কারণেই বাজারে অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রি ও তাঁর ব্যবহারে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই মনে করেছেন গবেষকরা। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের অত্যধিক ব্যবহারের বিরোধী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। এর আগে ২০১৫ সালে ১৬টিরও বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ নিষিদ্ধ করেছিল ভারত সরকার। যার অধিকাংশ ওষুধই এখনও বাজারে রমরমিয়ে বিক্রি হয়ে চলেছে। সেফলোস্পোরিন, পেনিসিলিন, ম্যাক্রলাইডস- এই তিন প্রকার নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিকই সবথেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে চলেছেন ভারতীয়রা। ফলে সরকারের কঠোর আইন এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরী। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে নাহলে অচিরেই ঘনিয়ে আসছে ভয়ংকর বিপদ।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।