উত্তরবঙ্গে আবার বন্যা? দার্জিলিং নিয়েও বড় আশঙ্কা আবহাওয়া অফিসের

বঙ্গোপসাগরের দিক থেকে আর্দ্র বায়ুর প্রবেশ ঘটায় আগামী তিনি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। 

Piya Saha
৩ মিনিট
উত্তরবঙ্গে আবার বন্যা? দার্জিলিং নিয়েও বড় আশঙ্কা আবহাওয়া অফিসের

বর্ষার দিন সমাগত, তবে মাথায় বাজ দক্ষিণে নয়, উত্তরের মানুষের। রয়েছে অশনিসংকেত। ঠিক গতবছরের মতো এবছরেও বানভাসী হওয়ার সম্ভাবনা উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। এমনকী ধসও নামতে পারে দার্জিলিং ও তৎসংলগ্ন অঞ্লে, এমনটাই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ীস আগামী তিনদিন টানা বৃষ্টি চলবে উত্তরবঙ্গ জুড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরের বুলেটিনে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের দিক থেকে আর্দ্র বায়ুর প্রবেশ ঘটায় আগামী তিনি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে।

এবছর নির্ধারিত সময় থেকে চারদিন আগেই বঙ্গে প্রবেশ করেছে বর্ষা। সেই থেকে একটানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তরও বেড়েছে।কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের ছবিটা ঠিক বিপরীত। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস বেড়েছে আরও। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গেও প্রবেশ করবে মৌসুমি বায়ু।

উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি

তবে হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, আজ থেকে ১৯ জুন তারিখ পর্যন্ত কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইমতো লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এই দুই জেলায়। পাশাপাশি এই দিনগুলিতে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি চলবে।তবে এই জেলাগুলির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।উত্তরের আরও দুই জেলা উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী,অবিরাম বৃষ্টির কারণে দার্জিলিং, কালিম্পং- এ ধস নামার আশঙ্কা করা হয়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। বুধবার রাতেই বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার।

ডুয়ার্সে একটানা বৃষ্টির কারণে জল বেড়েছে নদীগুলোর। এই অবস্থায় আগামী তিনদিন অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস চিন্তা বাড়াচ্ছে । ফলে চিন্তায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িতে প্রবল বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটু সমান তো কোথাও কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা এবং সংকোশ নদীর জলস্তর আরও বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কালজানি নদীতেও জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। নদী সংলগ্ন অধিকাংশ গ্রাম জলমগ্ন। সেতু ভেঙে পড়ায় ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ারের রাস্তায় বন্ধ যান চলাচল। এখনও পর্যন্ত খোলা হয়েছে ৬০টির বেশি ত্রাণ শিবির। গোটা জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ। উদ্ধার কাজে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল, এসএসবি এবং সিআরপিএফ।

ইতিমধ্যেই তিস্তা ব্যারেজ থেকে আড়াই হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ভুটানেও বৃষ্টির জেরে তিস্তা নদীর জল আরও বাড়বে বলেই জানা গেছে। জল বেড়ে গেলে নদী সংলগ্ন গ্রাম প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জলঢাকা নদীতে জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। এরই মধ্যে জলঢাকা, ডুডুয়া, গিলান্ডি নদীতে জল বেড়ে যাওয়ার নদী সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা কমবে। ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কাঁচা বাড়িও।

আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টির পরিমাণ ৩০.৪ মিমি। জলপাইগুড়িতে বৃষ্টি হয়েছে ০.১ মিমি । কোচবিহারে বৃষ্টি হয়েছে ৪ মিমি। মালদায় বৃষ্টির পরিমাণ ০.৭ মিমি বৃষ্টি।জানা গিয়েছে, গজলডোবায় তিস্তার বাঁধের মোট ৪৫টি লকগেটের মধ্যে ১১টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় বালাসন সেতুর ডাইভারশন সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ডাইভারশন সেতু এবং তার সংযোগকারী রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বানারহাট ব্লকের গয়েরকাটা-সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি রাত থেকেই জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, তিস্তার দোমহনী থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সিকিমেও একাধিক জায়গায় ধস পাওয়ার খবর এসেছে। ধস সরানোর কাজ শুরু করছে প্রশাসন।তবে সিংথাম এবং রংপোর মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এই মুহূর্তে। গতকালই সিকিম আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা বলেন,' আগামী পাঁচদিন অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যে।' গতকাল ধসের মধ্যে পড়ে একজনের মৃত্যুও হয়েছে সিকিমে।এ অবস্থায় বহু পর্যটক দার্জিলিং,সিকিমের হোটেলে বন্দি হয়ে রয়েছেন । অনেকেই ফেরার চেষ্টা করেছেন।

কন্ট্রোলরুমের ফোনও বিকল

বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গে যখন বন্যা পরিস্থিতি মধ্যেই বিকল হয়ে গেল ফ্লাড কন্ট্রোলরুমের সব কয়টি টেলিফোন। এর ফলে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সেচ দফতরের কর্মীদের। ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার করেই তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন তাঁরা। এ নিয়ে ফ্লাড কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নিমাই চন্দ্র দাস সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কন্ট্রোলরুমের সব কটি ল্যান্ডফোন বিকল হয়ে গিয়েছে। ফলে আমরা তথ্য যোগাড় করতে সমস্যায় পড়ছি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং বিএসএনএল দফতরেও অভিযোগ জানানো হয়েছে।'

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?

ভুটানে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক, কী পরিস্তিতি এখন?

Bhutan Flash Flood: ভুটানের শিনতাফু হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো। বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে সংকোশ নদীর জলস্তর না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফেরে। পরিস্থিতি এখন কেমন?

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।

লুলার জয়ের পরেও কেন স্বস্তিতে নেই 'পৃথিবীর ফুসফুস' আমাজন?

lula's amazon policy: প্রথম পর্বে পিছিয়ে থাকার পর, কুড়ি দিনে এক কোটিরও বেশি ভোট বাড়িয়ে লুলা দা সিলভা চতুর্থবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লুলার আমলে, আমাজনের জঙ্গল উজাড় হওয়া ৭১% কমেছে, তবু আইনসভায় ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি হওয়ায়, আমাজনের সংকটজনক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেলই।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

রেকর্ড ভাঙা সমুদ্রের উষ্ণতা: কতটা বিপদের মুখে পৃথিবী?

super el nino 2026: অক্টোবরে নিনো ৩.৪ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্য, ২০১৫-১৬-র রেকর্ড ভেঙে ৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে চলেছে। ডব্লিউএমও বলছে, এই এল নিনো ২০২৭ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে। ভারতে বর্ষায় ১৩% ঘাটতি, ৩৯.৮% কৃষিজমিতে খরা, ফসল উৎপাদন ৪% কমার আশঙ্কা রয়েছে।