এইডস থেকে সারা জীবনের মতো মুক্তি! যে অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটালেন এই চিকিৎসকরা

Patient Free from HIV AIDS : মারণ ভাইরাস এইচআইভি আর তাঁর শরীরে বাসা বেঁধে নেই! অবিশ্বাস্য, অলৌকিক এই ঘটনাটি হল কী করে?

inscript
৩ মিনিট
এইডস থেকে সারা জীবনের মতো মুক্তি! যে অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটালেন এই চিকিৎসকরা

অ্যাকুয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েনসি সিনড্রোম, সংক্ষেপে এইডস (AIDS)। নামটি শুনলেই অনেকের চলে আসে ভয়, উৎকণ্ঠা। যার শরীরে একবার এই রোগটি বাসা বাঁধে, তার নাকি আর মুক্তি নেই। এইডস বা এইচআইভি (HIV) নিয়ে আমাদের সমাজেও নানারকম ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে আছে। দুরারোগ্য এই ব্যাধি মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়, প্রতিরোধ ক্ষমতাকে একেবারে ধ্বংস করে দেয়। এর হাত থেকে বেঁচে ফেরা প্রায় অসম্ভব – এমন ভাবনাই এতদিন ছিল গোটা পৃথিবীজুড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই চিরাচরিত ধারণার গায়ে আঘাত হেনেছে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার পর অবশেষে এইডস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছেন এক ব্যক্তি! মারণ ভাইরাস এইচআইভি আর তাঁর শরীরে বাসা বেঁধে নেই! অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি হল কী করে?

ফ্রান্সের বিখ্যাত পাস্তুর ইনস্টিটিউটের দাবি, জার্মানির এই মধ্যবয়স্ক রোগী সম্প্রতি এইডস থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁকে নিয়ে গোটা বিশ্বে মোট তিনজন রোগী এই মারণ রোগ থেকে মুক্ত হলেন। কিন্তু এমন অসম্ভব ব্যাপারটি সম্ভব হল কী করে? ডাক্তারদের বক্তব্য, অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নাকি এই কাজটি সম্ভব হয়েছে।

আরেকটু বিস্তারিত জানা যাক। ২০০৮ সাল, অর্থাৎ ১৪ বছর আগে জার্মানির ডুসেলডর্ফের এই বাসিন্দার এইডস ধরা পড়ে। তারপরই তাঁর অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বা ART-র প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটি কী? সাধারণত এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা করা হয়। এই চিকিৎসার ফলে রোগী হয়তো সবসময় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন না; কিন্তু তাঁর রোগ যন্ত্রণা, রোগের আক্রমণ কিছুটা হলেও কমানো যায়। রোগী আরও বেশিদিন বাঁচতে পারেন। ঠিক সেই চিকিৎসাটিই শুরু হয়েছিল ওই জার্মান রোগীর ক্ষেত্রে।

ঠিক তিন বছর পর, ২০১১ সালে ওই রোগীর ক্যানসার ধরা পড়ে। যে সে ক্যানসার নয়, অ্যাকিউট মায়লয়েড লিউকেমিয়া। এটি এক ধরনের রক্তের ক্যানসার। এইডসের সঙ্গেই তাঁর ক্যানসারের চিকিৎসাও শুরু হয়। দু’বছর পর, ২০১৩ সালে ডাক্তাররা ঠিক করেন, ওই রোগীর বোন ম্যারো অর্থাৎ অস্থি মজ্জা স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করা হবে। উপযুক্ত দাতাও পাওয়া গেল। অপারেশনও সফল হল। পরবর্তীকালে দেখাগেল, ক্যানসারের পাশাপাশি তার শরীরে এইচআইভি-র প্রকোপও কমতে শুরু করেছে। আর এখন, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে জার্মানির ওই ভদ্রলোক একেবারে সুস্থ! ক্যানসার, এইডস দুটোই একেবারে উধাও!

কিন্তু, কী করে এমনটা সম্ভব হল?

ডাক্তাররা এই ঘটনায় অত্যন্ত হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এ যেন নিরাকল, অলৌকিক কাণ্ড! তারপর শুরু হয় গবেষণা। তখনই দেখা যায়, আসল কাণ্ডটি ঘটেছে স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের সময়। যিনি দাতা হিসেবে এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁর শরীরে এক বিশেষ প্রজাতির জিন ছিল – CCR5-Delta32 মিউটেশন জিন। এই বিশেষ জিনটি অত্যন্ত বিরল। মধ্য ও উত্তর ইউরোপে বসবাসকারী একাংশের শরীরে এর উপস্থিতি দেখা যায়। পরবর্তীকালে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই বিশেষ জিনটি মানব কোষে এইচআইভি ভাইরাসকে প্রবেশ করতে দেয় না। তাছাড়াও ওই দাতার শরীর থেকে নেওয়া কোষগুলি ওই ব্যক্তির শরীরে নতুন করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে। এসবের জন্যই একটু একটু করে এইডস থেকে সেরে উঠেছেন ওই ব্যক্তি। এই গোটা সময়টায় অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি চলছিল। ২০১৮ সাল থেকে সেই থেরাপি নেওয়া বন্ধ করা হয়। এখন সেই রোগী একেবারে সুস্থ!

আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘নেচার’-এ এই গোটা গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। তারপরই গোটা চিকিৎসা জগত নড়েচড়ে বসেছে। ডাক্তার ও গবেষকদের ধারণা, অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি, স্টেম সেল আর ওই বিশেষ বিরল জিন – এসবের মধ্যে দিয়েই এইডস মুক্তির আসল রাস্তা বেরিয়ে যাবে। আপাতত একটা আলোর রাস্তা দেখা গিয়েছে। সেখানেই গবেষণা জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।