তাঁর কণ্ঠস্বরের খোঁজে হন্যে ইডি! কীভাবে 'কালীঘাটের কাকু' হলেন বেহালার সুজয়কৃষ্ণ?

Kalighater Kaku Voice Test: সুজয়ের দাদা বিপিএল কার্ডের উপভোক্তা। পর্ণশ্রী থানা এলাকায় ছোট্ট এক চিলতে বাড়িতে তাঁর বসবাস। অথচ সুজয়বাবুর হাতে আসত লক্ষ লক্ষ টাকা। কীভাবে? ভাবিয়েছে ইডির গোয়েন্দাদের।

Sohini Das
৩ মিনিট
তাঁর কণ্ঠস্বরের খোঁজে হন্যে ইডি! কীভাবে 'কালীঘাটের কাকু' হলেন বেহালার সুজয়কৃষ্ণ?

গত বছর নাগাদ হঠাৎ করেই শিরোনামে এসে পড়েছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু। নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে উঠে এসেছিল তাঁর নাম। প্রাথমিক ভাবে সেসময় তাকে ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি। তার পর ওই বছরই মে মাসে ইডির হাতে গ্রেফতার হন সুজয়কৃষ্ণ। জানা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে নাকি কাজ করতেন তিনি। এর পর একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে এসেছে ইডি-র। সেই দুর্নীতির জের ২০২৪ সালেও পিছু ছাড়েনি সুজয়কৃষ্ণের। অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে এর পর হাসপাতালে পৌঁছন, তবে তার পরেও শান্তি মেলেনি। আপাতত তাঁর কণ্ঠস্বরের পিছনে পড়েছে ইডি। সেই সূত্র ধরেই ফের খবরে কালীঘাটের কাকু।

বেহালার বাসিন্দা সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র। সেখানে পেল্লাই তাঁর বাড়ি। সাধ করে আবার তার নাম রেখেছেন রাধারানী। তা বেহালার সুজয়কৃষ্ণ কী করে হল কালীঘাটের কাকু, তা এক রহস্য বটে। বেহালাতেই তাঁর জন্ম। বড় হয়ে ওঠা সেখানেই। কর্মসূত্রে তিনি যান নিউ আলিপুরে। কালীঘাটে পা রাখার তেমন সময়সুযোগ কোনওটাই হয়ে ওঠে না। তবু কীভাবে যেন জুটে গিয়েছিল 'কালীঘাটের কাকু'-র তকমা। সেই তকমা ঘিরে তেমন বিব্রতবোধ করা কোনওদিনই ধাতে ছিল না তাঁর। কিন্তু পরে জানা গেল, কুন্তল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রেই জুটেছিল এই তকমা।

দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সুজয়কৃষ্ণ। সে প্রায় ৪৬ বছর তো হবেই। ৭৭-র নির্বাচনে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৮২ থেকে কংগ্রসের সক্রিয় কর্মী। তার পর তৃণমূলে। জানা গিয়েছে, কুন্তল ঘোষ নাকি কাকু বলে ডাকতেন সুজয়কৃষ্ণকে। সেই থেকে সকলেই কাকু বলে ডাকতে শুরু করেন। কীভাবে যেন কালীঘাটের কাকু হয়ে যান তার পর থেকে। শুধু নিয়োগ দুর্নীতি নয়, কয়লা মামলাতেও ইডির ডাক পেয়েছিলেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ কালীঘাটের কাকুর গলা? কী রহস্য লুকিয়ে কণ্ঠস্বরে?

Kalighater Kaku Voice Test : গত ৭ ডিসেম্বর রাতে হঠাত্‍ আইসিসিইউয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে, তাও আবার শিশুদের জন্য বরাদ্দ বেডে!

বেহালায় তার পেল্লাই বাড়ি যে বরাবরই এমন পেল্লায় ছিল, তা কিন্তু নয়। বরং সুজয়কৃষ্ণের দাদা অজয়কৃষ্ণের কথাবার্তা থেকে জানা গিয়েছে, একসময় টালির ঘর ছিল বেহালায়। রান্নাঘর মাটির। সেই মাটির ঘরের জানলা থেকে ছিল একটি মুদির দোকান। প্রাথমিক ভাবে সেটাই চালাতেন সুজয়কৃষ্ণ। সেখান থেকে ক্লাসিক ফিনান্সে ম্যানেজারির চাকরি। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে চাকরি পান সুজয়কৃষ্ণ, তেমনটাই জানতেন দাদা। তবে কী চাকরি, কোথায় অফিস- এ সমস্ত খবর জানা ছিল না সুজয়ের।

সুজয়ের গ্রেফতারির পর একে একে তার সম্পর্কে বিস্ফোরক সব তথ্য এসেছে ইডি-র হাতে। নিয়োগদুর্নীতিতে কুন্তল ঘোষের থেকে ৭০ লক্ষ টাকা পান সুজয়বাবু। ১০ লক্ষ গিয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতেও। এমনকী মাণিক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। বিশেষত ২০২৮ সালের পর থেকে তো বটেই। যদিও ইডি-র সামনে সে সমস্ত অভিযোগই উড়িয়েছেন সুজয়। তিনি জানান, ২০২১ সালের আগে মাণিককে চিনতেনও না তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইডি, সিবিআই কি হাতের পুতুল? বাংলা যা ভাবছে

CBI And BJP TMC Govt: দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের সাফল্যের হার মাত্র তিন শতাংশ কেন? প্রশ্ন তুলছে বাংলা যা ভাবছে।

এদিকে গোপাল দলপতি প্রথমে কালীঘাটের কাকুর কথা সামনে এসেছিলেন। কালীঘাটের কাকু আসলে কে সেই নাম প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন তাপস মণ্ডল। কুন্তল নাকি বার বার কালীঘাটের কাকুর কাছে পেমেন্ট পাঠাতে হবে বলে জানাত বলে দাবি করেছিলেন তাপস মণ্ডল। তার পরেই গ্রেফতার হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের প্রাক্তন কর্মী সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র। শাসকদলের তাবড় নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলতেন তিনি। বেনামে একাধিক সংস্থার সঙ্গেও যোগ ছিল সুজয়কৃষ্ণের। এমনকী শান্তনু বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের স্ত্রীর সংস্থাতেও বিনিয়োগ করেছিলেন কাকু। কীভাবে সুজয়বাবুর হাতে আসত এত টাকা? ভাবিয়েছে ইডির গোয়েন্দাদের।

এদিকে সুজয়ের দাদা বিপিএল কার্ডের উপভোক্তা। পর্ণশ্রী থানা এলাকায় ছোট্ট এক চিলতে বাড়িতে তাঁর বসবাস। কোনও ভাবে ডাল-ভাত খেয়েই দিন কাটে। ছোট্ট সংসার, টুকটাক কাজ করে যা আয় হয়, তাতেই কোনওমতে চলে যায়। তার পাঁচশো মিটার দূরেই প্রাসাদোপম বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়িতে বছর খানেক হল নেই সুজয় কৃষ্ণ। ইডি হেফাজত কিংবা এসএসকেম- এই করেই দিন চলে যাচ্ছে সুজয়কৃষ্ণের। পর্ণশ্রীর যে ফ্ল্যাটে থাকেন দাদা, সেখানে আরও কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে সুজয়বাবুর। পরে একটু দূরে ওই প্রাসাদোপম বাড়িটি তৈরি করেন কালীঘাটের কাকু। অজয় জানান, অভিষেকও এসেছিলেন একবার সেখানে। অজয়বাবু এ-ও জানান, সই করার ক্ষমতা ছিল না সুজয়কৃষ্ণের। অথচ পরে জানা যায় ওই নাকি এত দুর্নীতির মাথা।

আপাতত মাস চারেক ধরে হাসাপাতালেই রয়েছে সুজয়কৃষ্ণ। গত ২২ অগস্ট এসএসকেএমের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয় তাঁকে। আপাতত তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করাই বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইডি-র কাছে। তদন্তে নেমে একটি মোবাইল কথোপকথনের রেকর্ড এসেছিল ইডি-র হাতে। সেই ফোনকলের নেপথ্যে আদৌ কালীঘাটের কাকুই কিনা, তার প্রমাণ পেতেই জরুরি ছিল সুজয়কৃষ্ণের কণ্ঠস্বরের নমুনা। সেই নমুনা সংগ্রহের জন্যই এসএসকেএম থেকে ইএসআই জোকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সুজয়কৃষ্ণকে। সেখানে সংগ্রহও করা হয় তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা। আপাতত সেই কণ্ঠস্বরেই লেখা রয়েছে কালীঘাটের কাকুর ভাগ্য!

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।