Exclusive|বিজেপির সঙ্গে হুমায়ূনের ১০০০ কোটির ডিল: সত্যি না AI দিয়ে তৈরি ভিডিও?

Humayun Kabir’s Viral Video: হুমায়ূন কবীরের ভাইরাল ভিডিওটি কি সত্যি, নাকি এআই দিয়ে তৈরি? এই ভিডিও কি স্টিং অপারেশন, না রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?

Tanvia Barua
৫ মিনিট
Exclusive|বিজেপির সঙ্গে হুমায়ূনের ১০০০ কোটির ডিল: সত্যি না AI দিয়ে তৈরি ভিডিও?

পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতিতে তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ূন কবীরকে ঘিরে একটি ভাইরাল ভিডিও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি সত্যি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। হুমায়ূন কবীর দাবি করেছেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি। এই সব প্রশ্নে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল বলে, বিজেপির কাছ থেকে ১০০০ কোটি টাকা চেয়েছেন হুমায়ুন। ভিডিওটিতে দেখা যায় জনৈক প্রশ্নকর্তা হুমায়ূনকে বলছেন,

বিজেপির থেকে মুখ্যমন্ত্রী হলে আপনি সমর্থন করবেন?

হুমায়ুন উত্তরে বলেন:

পুরো সাপোর্ট দেব। কোনো অসুবিধা নেই। আমি মমতাকে কোনো ভাবেই আসতে দেব না।‌‌

তিনি আরও বলেন,

আজকের দিনে যে বিষয়টা তুলেছি না বাবরি মসজিদে… সেটা হবে কি না হবে, তা পরের বিষয়। আজকের দিনে পুরো ভারতের মুসলিমেরা আমার সঙ্গে আছে।

ভিডিওতে এও দাবি করা হয়েছে যে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।

এখানে ক্লিক করা ভিডিওটি দেখতে পারেন: https://www.facebook.com/share/v/18nLcFdfmY/

ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই শাসক দল এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে দোষারোপের পাল্টা দোষারোপ শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন এটি পরিকল্পিত স্টিং অপারেশন, আবার কেউ দাবি করছেন এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি। এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রসূন আচার্যের বক্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ তিনি এই বিতর্কের মধ্যে একাধিক দিক তুলে ধরেছেন।

প্রসূন আচার্য ইনস্ক্রিপ্ট-কে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেননি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হুমায়ূন কবীরকে চেনার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করছেন, ভিডিওতে যে গলা শোনা যাচ্ছে তা হুমায়ূনেরই। তাঁর কথায়,

হুমায়ূনের কথা বলার ভঙ্গি, উচ্চারণ এবং স্বর—সবকিছুই ভিডিওর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ফলে প্রাথমিকভাবে তাঁর কাছে ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে মনে হয় না।

বরং তিনি মনে করছেন, এটি একটি বাস্তব ভিডিও হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

তবে এ কথা ঠিক, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ প্রসূন আচার্য এ বিষয়ে শেষ কথা বলার অধিকারী নন। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ডিপফেক ভিডিও বা কৃত্রিমভাবে তৈরি অডিও-ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হলেও, এত নিখুঁতভাবে একজন মানুষের গলা, কথা বলার ধরন এবং ঠোঁটের নড়াচড়া একসঙ্গে মেলানো এখনও খুব সহজ নয়। বিশেষ করে, একই সময়ে এবং একই পরিকাঠামোর মধ্যে হুমায়ূনের অন্য একটি ইন্টারভিউও রয়েছে, যেখানে ঠোঁটের নড়াচড়া এবং অডিও একেবারে স্বাভাবিকভাবে মিলছে। ফলে শুধুমাত্র ‘এআই’ বলে অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার দাগিয়েও দেওয়া যায় না, প্রয়োজন বিজ্ঞান সম্মত যাচাই।

ইনস্ক্রিপ্টের কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট ‘ডিপওয়্যার’ (Deepware) টুল ব্যবহার করে ভিডিওটির প্রায় ৯ মিনিটের একটি অংশ পরীক্ষা করেন। সেই বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, এটি ডিপফেক ভিডিও হওয়ার সম্ভবনা মাত্র ১৭ শতাংশ। ভিডিওর ভিজ্যুয়াল ও অডিওর মধ্যে অসামঞ্জস্য ধরা পড়েনি (টুলটি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষও ভিডিও-অডিও যাচাই করতে পারেন)। নিচে স্ক্রিনশট দেওয়া হলো। ডিপওয়্যার টুলটি বলছে: এই ভিডিওটি নির্মাণের ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহার করা হয়নি।

‘ডিপওয়্যার’ (Deepware) টুল ব্যবহার করে ভিডিওটির প্রায় ৯ মিনিটের একটি অংশ পরীক্ষা করে পাওয়া ফল।

হুমায়ূন কবীরের উচ্চারণে স্পষ্ট আঞ্চলিক ভাষার টান রয়েছে। তাঁর উচ্চারণ, শব্দচয়ন ও বলার ভঙ্গিতে যে আঞ্চলিকতা দেখা যায়, তা নিখুঁতভাবে নকল করা এখনও এআই-এর পক্ষে সহজ নয়। নারকিট, ইলেভেন ল্যাবস, লিন্ডির মতো সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক ভাবে এআই অডিও নির্মাণের কাজ করে। তারা আঞ্চলিকতা তো বটেই এমন কী উচ্চারণে কলকাত্তাইয়া ভাষাতেও দর নয়। সাধারণত দেখা যায় 'স' 'শ' 'ষ'-এর ফারাক করতে পারে না এআই। জানে না 'র' আর 'ড়' এর প্রভেদ। কাজেই হুমায়ূন‌কে নকল করা কর্যত কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এই প্রসঙ্গে সন্দেশখালির ঘটনাও সামনে আনা যায়। সেখানেও একসময় কিছু ভিডিওকে ‘কৃত্রিম’ বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেগুলি প্রমাণ করা যায়নি। এই অভিজ্ঞতা থেকেই অনেকে সতর্ক করছেন, প্রতিটি অস্বস্তিকর ভিডিওকে এআই বলে দাগিয়ে দেওয়া একটি বিপজ্জনক প্রবণতা হতে পারে। এতে সত্য-মিথ্যার সীমারেখা আরও ঘোলাটে হয়ে যায়।

এই বিতর্কের নিরসন হতে পারে শুধুমাত্র নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে। ইনস্ক্রিপ্ট এই প্রতিবেদনে সেই পথেই এগিয়েছে।

ডিপওয়্যার অভতারিফাই নামে একটি সমান্তরাল ডিটেকশন মডেল ব্যবহার করে।

এই মডেলটি বলছে, এই ভিডিওটির ডিপফেক হওয়ার সম্ভবনা মাত্র ১০ শতাংশ। সেফেরবেকভ বলে অন্য একটি মডেল বলছে, এই ভিডিওটি ডিপফেক হওয়ার সম্ভবনা ৫৩ শতাংশ। মডেলার দাবি সিদ্ধান্তে আসার জন্যে এই নম্বর যথোপযুক্ত নয়।

এই একই টুলে এনসেম্ৱল বলে আরও একটি মডেল বলছে, এই ভিডিওটি ডিপফেক হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৩৪ শতাংশ। বলে রাখা ভালো, এনসেম্ৱল আসলে অন্য সব মডেলের উত্তর থেকে সিদ্ধান্ত নেয়। তিনটি মডেলের মধ্যে দুটি যেহেতু স্পষ্ট বলছে, এই ভিডিওটির ডিপফেক হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম, এবং অন্যটি বলছে ভিডিওটির ডিপফেক হওয়ার সম্ভাবনা মাঝারি। বলাই যায়, সন্দেশখালির মতোই সম্ভবত হুমায়ূন নিজের দাবিকে প্রতিষ্ঠা দিতে পারবেন না।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।