স্কুলে এই ন'টি বিষয় শেখানো হয়নি
আইএএস দিব্যা মিত্তল সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে তিনি এমন কিছু কথা তুলে ধরেছেন, যা আমাদের প্রচলিত শিক্ষা এবং সফলতার সংজ্ঞাটিকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাঁর এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পড়াশোনায় দুর্দান্ত রেকর্ড, আইআইটি দিল্লি (IIT Delhi) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস, তারপর দেশের অন্যতম সেরা বিজনেস স্কুল আইআইএম ব্যাঙ্গালোর (IIM Bangalore) থেকে উচ্চতর ডিগ্রি এবং সবশেষে ভারতের সবচেয়ে কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা পাস করে একজন আইএএস (IAS) অফিসার হওয়া—যেকোনো সাধারণ মানুষের চোখে এটিই হলো সফলতার সর্বোচ্চ শিখর। এবং দিব্যা মিত্তল সেই শিখরে পৌঁছে গিয়েছেন। আমাদের দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা একজন শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ যা দিতে পারে, তার সবটুকুই তিনি পেয়েছেন।
কিন্তু সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে তিনি এমন কিছু কথা তুলে ধরেছেন, যা আমাদের প্রচলিত শিক্ষা এবং সফলতার সংজ্ঞাটিকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাঁর এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দিব্যা মিত্তল খুব স্পষ্ট করে লিখেছেন যে, দেশের এই সেরা শিক্ষাব্যবস্থা তাঁকে কঠিন সব পরীক্ষা পাস করতে এবং বড় বড় প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে শিখিয়েছে ঠিকই, কিন্তু নিজের মনকে শান্ত রাখা কিংবা জীবনের কঠিন একাকিত্ব সামলানোর কোনো পথ দেখায়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, আমরা কীভাবে জীবনে বড় কিছু অর্জন করব তা শিখতেই বহু বছর কাটিয়ে দিই, কিন্তু কীভাবে ভালো বা সুখী থাকতে হয়, তা শেখার জন্য একটা দিনও ব্যয় করি না।
আসুন, অত্যন্ত সহজ ও বিস্তারিতভাবে বোঝার চেষ্টা করি—একজন অত্যন্ত সফল প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও কেন তিনি মনে করছেন যে আমাদের স্কুল ও কলেজগুলি জীবনের আসল ও সবচেয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
স্কুল জীবনে বাদ পড়া সেই ৯টি জরুরি জীবন-দক্ষতা
দিব্যা মিত্তল তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে এমন ৯টি বিষয়ের কথা বিস্তারে বলেছেন, যা প্রতিটি মানুষের বাস্তব জীবনে প্রতিদিন কাজে লাগে, অথচ স্কুলের কোনো বই বা সিলেবাসে তার উল্লেখ থাকে না:
আবেগ নিয়ন্ত্রণ (Emotional Regulation):
"আমরা রসায়নের পর্যায় সারণী (periodic table) মুখস্থ করেছি, কিন্তু একটা ভেঙে যাওয়া মনের ভিতরের রসায়নটা কেমন হয়, তা কেউ কখনও বুঝিয়ে বলেনি। স্কুল সবসময় আমাদের শান্ত ও চুপচাপ থাকার নির্দেশ দিত—তারা 'নিস্তব্ধতা' আর 'মনের শান্তি'-র মধ্যকার পার্থক্যটা গুলিয়ে ফেলেছিল। আজ যখন আমাদের মনে ঝোড়ো পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেই ঝড়ে তলিয়ে না গিয়ে কীভাবে তা সামলাতে হয়, তা আমরা জানি না। আমরা আজ দিশেহারা বোধ করি, কারণ আমাদের আবেগগুলিকে সামলে গুছিয়ে নিতে শেখানো হয়নি, বরং সেগুলিকে চেপে রাখতে শেখানো হয়েছিল।"
২. গভীর যোগাযোগ বা মনের ভাব প্রকাশ (Deep Communication)
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বয়স ধরে রাখা বা চিরযৌবন পাওয়ার গবেষণায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশ্বজুড়ে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন প্রযুক্তি ব্যবসায়ী (টেক এন্টারপ্রেনার) ব্রায়ান জনসন। তবে বহু বছর ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালার পর, নিজের এই দীর্ঘ পথচলা থেকে তিনি বেশ অদ্ভুত এবং সহজ একটি শিক্ষা পেয়েছেন।
আমাদের চমৎকার সব প্রবন্ধ লিখতে শেখানো হয়েছে, কিন্তু কীভাবে বলতে হয় যে 'আমি কষ্ট পাচ্ছি' কিংবা সরাসরি 'না' বলতে হয়, তা শেখানো হয়নি। সাধারণ যোগাযোগ দক্ষতার উপর খুব জোর দেওয়া হলেও, বাস্তব বা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের উপযোগী শব্দভাণ্ডার আমাদের শেখানো হয় না। বসের অন্যায় আচরণ বা বুলিংয়ের সামনে কীভাবে নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে রুখে দাঁড়াতে হয়, কিংবা 'না' বলে কর্মক্ষেত্রে নিজের কাজের সীমারেখা কীভাবে বজায় রাখতে হয়—তা শেখানোর মতো কোনো কোর্স আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নেই।"
৩. বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা (Critical Thinking)
"স্কুলে সেই জয়ী হতো, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিতে পারত। কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই টিকে থাকে, যার মনে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন থাকে। এই কারণেই অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো মতামত কোথা থেকে আসছে তা যাচাই না করেই, অন্যের কথা অন্ধের মতো পুরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হুবহু বলে দিতে পারেন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সবকিছুকে পরম সত্য (gospel truth) হিসেবে মেনে নিতে বলা হয়। ফলে আমরা শেষ পর্যন্ত সবকিছু শুধু অন্ধের মতোই অনুসরণ করে যাই।"
৪. আর্থিক সচেতনতা বা অর্থ ব্যবস্থাপনা (Financial Literacy)
"আমরা বছরের পর বছর গণিত শিখেছি এবং 'x'-এর মান বের করার সমাধান করেছি, কিন্তু কীভাবে ঋণের ফাঁদ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হয়, তা কখনও শিখিনি। টাকা-পয়সা মানেই শুধু অঙ্ক বা গণিত নয়; এটা হলো নিজের স্বাধীন পছন্দ বেছে নেওয়ার মর্যাদার বিষয়। ঋণ কীভাবে নিজের স্বাধীনতাকে খর্ব না করে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তা আমাদের শেখানো হয় না। ঝোঁকের মাথায় হুটহাট খরচ করার অভ্যাস কীভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মারাত্মক রূপ নেয়, কিংবা টাকা কীভাবে আমাদের মানসিক চাপ, সম্পর্ক এবং মনের শান্তিকে প্রভাবিত করে—তা আমরা শিখি না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আর্থিক সচেতনতার অভাব রয়েছে, কারণ শিক্ষা সবসময় ভবিষ্যতে কেবল 'টাকা আয় করার' উপর জোর দেয়, টাকা আসার পর তা কীভাবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে 'ম্যানেজ বা পরিচালনা' করতে হয়, তা শেখায় না।"
৫. আত্ম-শৃঙ্খলা (Self-Discipline)
"স্কুল জীবন হলো ঘণ্টার শব্দ আর রুটিনের এক বাঁধা ধরা জগৎ। সেখানে অন্য কেউ সবসময় আপনাকে বলে দেয় যে কখন কী করতে হবে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক জীবনটা হলো সম্পূর্ণ নীরব এক জগৎ। আমরা জীবনের এক জায়গায় এসে থমকে যাই, কারণ কোনো শিক্ষকের নজরদারি ছাড়া কীভাবে নিজেকে তাগিদ দিতে হয়, তা আমাদের কখনও শেখানো হয়নি। শৃঙ্খলা মানে আর কিছুই নয়, এটা হলো কেবল নিজের কাছে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি রক্ষা করার একটা অভ্যাস। আর এই অভ্যাসটারই আমাদের অনেকের মধ্যে অভাব রয়েছে।"
৬. একাকিত্ব সামলানো
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Climate change India impact: রিপোর্টে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতে গরমের কারণে প্রায় ১৯১ বিলিয়ন বা ১৯,১০০ কোটি কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যা ১৯৯১ থেকে ২০০০ সালের গড়ের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি।
"স্কুলে আপনি সবসময়ই চারপাশের মানুষজন বা বন্ধুদের দিয়ে ঘেরা থাকেন। বড় হয়ে ওঠার পর সেই প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের নিস্তব্ধতা যে কতটা তীব্র হতে পারে, তা নিজে সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত উপলব্ধি করা যায় না। আমরা একাকিত্বে ভুগি কারণ কীভাবে নিজের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে উঠতে হয়, তা আমাদের শেখানো হয়নি। প্রকৃত শান্তি হলো এটা বুঝতে পারা যে—একা থাকার মানেই একাকিত্ব বা নিঃসঙ্গতা নয়। এটি আসলে নিজের সঙ্গে কাটানোর একটি পবিত্র সময় (sacred space), কেউ আপনাকে চাইছে না বা আপনি অবহেলিত—এমন কোনো লক্ষণ এটি নয়।"
৭. মানুষ চিনতে পারা (Reading People)
"স্কুল জীবন হলো ভীষণ সরল ও পবিত্র সময়, যেখানে বন্ধুত্বগুলি খুব সহজেই কোনো স্বার্থ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে ওঠে। কিন্তু আমরা যত সামনের দিকে এগিয়ে যাই, সবাই সেই পবিত্রতা ধরে রাখতে পারে না। আমরা প্রায়ই প্রতারিত বোধ করি কারণ মানুষের ভিতরের লুকিয়ে থাকা উদ্দেশ্য কিংবা তাদের মুখের মুখোশটা কীভাবে চিনে নিতে হয়, তা আমাদের শেখানো হয়নি। মানুষ চিনতে পারা বা বুঝতে পারাটা হলো এক ধরনের জ্ঞান (wisdom), যা আপনাকে মানুষের মিষ্টি কথার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল সত্যটা দেখতে এবং সাবধান হতে সাহায্য করে।"
৮. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন (Mental Health Maintenance)
"আমাদের শরীরের জন্য পিটি বা জিম ক্লাস (Gym Class) থাকে, কিন্তু আমাদের মন বা আত্মার যত্নের জন্য কিছুই থাকে না। চরম ক্লান্তি উপেক্ষা করে কোনো প্রজেক্ট শেষ করার জন্য কীভাবে কাজ টেনে যেতে হয়—তা আমাদের শেখানো হয়। আর ঠিক এই কারণেই আমরা একসময় সম্পূর্ণ 'বার্নআউট' বা চরম মানসিক অবসাদের শিকার হই। নিজের স্নায়ুতন্ত্র বা মানসিক অবস্থাকে সম্মান জানানোই হলো একমাত্র উপায়, যা আপনার ভিতরের বেঁচে থাকার আলোটাকে নিভে যেতে দেয় না। তীব্র মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সেটা যখন আর নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, সেই দুর্বল মুহূর্তটা চিনে নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে, যখন আমরা বুঝতে পারব যে আমরা এই মানসিক কষ্টের সাগরে তলিয়ে যাচ্ছি, তখন ঠিক কখন অন্যের সাহায্য চাইতে হবে, সেটাও আমাদের জানা প্রয়োজন।"
৯. নিজেকে জানা (Knowing Yourself)
"আমরা ক্লাসের 'সেরা' ছাত্র বা ছাত্রী হওয়ার চেষ্টায় বছরের পর বছর কাটিয়ে দিই। কিন্তু পরে গিয়ে বুঝতে পারি যে, গলায় একটা গোল্ড মেডেল না থাকলে আমরা আসলে কে—সেটাই আমরা জানি না। আমরা নিজেদের ভিতরে এক চরম শূন্যতা বা খামতি নিয়ে বড় হই, কারণ আমরা নিজের আত্মা বা মন ছাড়া পৃথিবীর বাকি সব বিষয় পড়াশোনা করেছি। প্রকৃত শিক্ষা হলো—এই পৃথিবী আপনাকে কী চাইতে হবে বা কী পেতে হবে তা শিখিয়ে দেওয়ার আগেই, আপনার নিজের জন্য আসলেই কোন জিনিসটা সবচেয়ে বেশি মূল্যবান, তা নিজে আবিষ্কার করা।"
মানসিক চাপের পরিসংখ্যান
দিব্যা মিত্তল যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন, তা স্রেফ আবেগের বশে বলা কথা নয়, এর পিছনে রয়েছে বর্তমান আধুনিক সমাজের এক অত্যন্ত বাস্তব ও উদ্বেগজনক সত্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা যেমন- Gallup Employee Burnout(২০২০) Survey, Deloitte India Survey (২০২২), Indeed India Survey (২০২৫) ইত্যাদি বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বর্তমান যুগে কর্পোরেট বা যেকোনো ক্ষেত্রে কাজ করা প্রায় ৭৫% থেকে ৮০% তরুণ ও মধ্যবয়সি মানুষ কোনো না কোনো সময়ে কর্মক্ষেত্রে তীব্র মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা বা 'বার্নআউট'-এর শিকার হন।
ভুল আর্থিক সিদ্ধান্তের খেসারত
একটি বড় অংশের তরুণ প্রজন্ম চাকরি পাওয়ার প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই ক্রেডিট কার্ডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, ইএমআই (EMI) বা পার্সোনাল লোনের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন। এর একমাত্র কারণ, ছোটবেলা থেকে তাঁদের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা কিংবা সঠিক সঞ্চয়ের নিয়ম শেখানো হয়নি। World Economic Forum-এর সার্ভে বলছে, ৫১% ভারতীয়কে ঋণ মেটানোর জন্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে (বিশ্ব গড় ৩২%)। RBI ও অন্যান্য রিপোর্টে ঋণের প্রবণতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ভারতে পার ক্যাপিটা ঋণ (গড় ঋণ) ২০২৩ সালের মার্চে ছিল ₹৩.৯ লাখ, যা ২০২৫ সালের মার্চে বেড়ে হয়েছে ₹৪.৮ লাখ। ভারতে ২০২৪ সালে ক্রেডিট কার্ডের মোট বকেয়া (outstanding) পৌঁছেছে প্রায় ₹২.৭ লাখ কোটিতে।
আবেগ চেপে রাখার কুফল
আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যে শিশুরা ছোটবেলা থেকে নিজের রাগ, দুঃখ বা ভয় প্রকাশ করতে না পেরে তা বড়দের ভয়ে চেপে রাখতে শেখে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি এবং আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়।
শিক্ষা মানে কেবল কিছু মোটা মোটা বইয়ের পাতা মুখস্থ করা, পরীক্ষায় গোল্ড মেডেল বা জিপিএ-৫ পাওয়া কিংবা একটা নামী সংস্থায় মোটা মাইনের চাকরি জোগাড় করা নয়। যদি এতসব পাওয়ার পরও একজন মানুষ দিনশেষে নিজেকে একা মনে করেন, নিজের মনকে শান্ত রাখতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বা জীবনের কঠিন সময়ে ভেঙে পড়েন—তবে বুঝতে হবে সেই শিক্ষা পৃথিবীর কোথায় কী রয়েছে শেখালেও নিজেকে ভালবাসতে শেখায়নি। যুগযুগ আগের সমস্ত রাজা-মহারাজার ব্যাপারে জানালেও নিজেকে জানতে শেখায়নি।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন। স্কুলগুলিতে গণিত, বিজ্ঞান বা ইতিহাসের পাশাপাশি যদি জীবন গড়ার, মন ভালো রাখার এই সহজ ও জরুরি পাঠগুলি দেওয়া শুরু হয়, তবেই আগামী প্রজন্ম কেবল কাগজে-কলমে সফল হবে না, বরং একটি সুখী, অর্থপূর্ণ ও সুস্থ জীবন গড়ে তুলতে পারবে।






