চাল অথবা গম নয়, রেশনে এই ফসল দিলেই হু হু করে বাড়তে পারে ভারতের সার্বিক পুষ্টির গ্রাফ
Indian nutrition : দেশে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবেলায় চাল এবং গমকে একমাত্র শস্য হিসাবে বিবেচনা করা হয় বলে আমরা যে খাবারগুলি খাই তাতে আমরা পুষ্টি হারিয়ে ফেলেছি।

বিনামূল্যে রেশন, এবছরের বাজেটেও অন্তভূক্ত করা হয়েছে এই বিষয়টিকে। কিন্তু আমরা জানি, সারা দেশে বিনামূল্যে যে রেশন দেওয়া হয় সরকারের তরফে তা মূলত হল চাল, গম এবং কিছু ক্ষেত্রে ছোলা। আবার বর্তমানে এমন বহু শহর রয়েছে যেখানে গমের পরিবর্তে সম পরিমাণ চাল দিয়ে হিসেব বরাবর করার চেষ্টা চলে। ভারত যেহেতু ভুখা দেশ বললে ভুল হয় না তাই, বেশিরভাগ পরিবারই নির্ভরশীল এই রেশনের ওপর। কিন্তু আপনি কি জানেন, বিনামূল্যে শুধু চাল এবং গম পাওয়ায় এ দেশের সার্বিক পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা যেতে পারে? ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মিলেটস রিসার্চ ডিরেক্টর সি.ভি. বলেছেন, দেশে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলায় চাল এবং গমকে একমাত্র শস্য হিসাবে বিবেচনা করা হয় বলে আমরা যে খাবারগুলি খাই তাতে আমরা পুষ্টি হারিয়ে ফেলেছি।
শনিবার ঝাড়সংঘাম মণ্ডলের মাছনূর গ্রামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ভ্রাম্যমাণ জীববৈচিত্র্য উৎসবের ২৩ তম সংস্করণের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিসেস রত্নাবতী একটি বিকল্প পথের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডেকান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (ডিডিএস) এর মহিলা কৃষকরা সারা দেশে বাজরা সংরক্ষণকারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছেন। বিগত কয়েক দশক এই কৃষি উৎপাদনে লেগে থেকে বর্তমানে অবহেলিত শস্য বাজরাকে একটি বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছে তাঁরা। তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব এই অবহেলিত ফসলের গুরুত্ব এবং মানব দেহের স্বাস্থ্যের জন্য তাদের ব্যবহার সম্পর্কে জেগে উঠছে। বাজরা নিয়ে আলোচনা এখন G20-এর মতো বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে যাচ্ছে”।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Dhemaji Assam: মরশুমি ফল জলপাই, আম, কুল, কামরাঙার আচার বানিয়ে রাখা থাকে। বন্যার দিনে সে সব দিয়ে ভাত খাওয়া হয়।
আগে দুর্বল মাটি হিসেবে গণ্য করা হতো জহিরাবাদকে। তবে বর্তমানে মহিলা কৃষকদের সহায়তায় এই মাটিতেই কার্যত সোনা ফলছে। জহিরাবাদ, সাঙ্গারেড্ডি, মেদকের মতো জায়গাগুলোকে কৃষি মানচিত্রে আলাদা পরিচিত তৈরি করে দিচ্ছেন তাঁরা। মহিলা কৃষকদের কাঁধে ভর দিয়ে এগোচ্ছে ভারতের বাজরা উৎপাদন। এই উৎপাদন তাঁরা বর্তমানে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন G20-এর মতো বিশ্ব সম্মেলনে। বিশিষ্ট খাদ্য ও বাণিজ্য নীতি বিশ্লেষক দেবিন্দর শর্মা বলেছেন: “ডিডিএস মহিলাদের কৃষি খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পশু স্বাস্থ্যের নীতিগুলিকে একত্রিত করে। এটি বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আধুনিক সংকটেরও সমাধান দিচ্ছে। আশা করা যায়, এই বার্তা বিশ্বব্যাপী অবহেলিত শস্য থেকে উন্নত করতে পারবে বাজরাকে।
ডিডিএস পরিচালক পি.ভি. সতীশ বলেন যে, উৎসবটি ২৩ বছর আগে সংঘম মহিলাদের দ্বারা শুরু হয়েছিল কারণ তারা উৎসবটিকে একটি দুর্দান্ত উপায়ে উদযাপন করার জন্য নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগেরই ইতিবাচক ফল মিলেছে। জানা গিয়েছে, প্রায় সব ডিডিএস কৃষকের দুই থেকে তিন একর কৃষি জমি আছে। তবে তারা তাদের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জমিতে ২৫ থেকে ৩০টি ফসল চাষ করে। তারা বিশ্বাস করেন যে এটি খাদ্য নিরাপত্তা এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার একটি ঐতিহ্যবাহী কৌশল।






