জন্মের ২ ঘণ্টার মধ্যে মাতৃদুগ্ধ পান করালে উপকার জীবনব্যাপী, কিন্তু পথের কাঁটা মুনাফার লোভ

Arnab Dutta
৪ মিনিট
জন্মের ২ ঘণ্টার মধ্যে মাতৃদুগ্ধ পান করালে উপকার জীবনব্যাপী, কিন্তু পথের কাঁটা মুনাফার লোভ

শিশুর জীবনের শুরু থেকে তারপর সারা জীবন মা-ই পরম সম্পদ। এই দুনিয়ায় প্রতিটি মানুষকে লড়তে হয় বাঁচার লড়াই। সেই লড়াই লড়তে হলে চাই সুস্থ শরীর, উন্নত মস্তিষ্ক। বিজ্ঞান বলে, জন্মের ২ ঘণ্টার ভেতর মা যদি সদ্যোজাত সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করান, তাহলে সেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। সেইসঙ্গে মস্তিষ্কের গঠন পরিণত হবে।

কিন্তু এব্যাপারে এক সার্বিক অজ্ঞতা থেকে গিয়েছে। মাতৃদুগ্ধ সঠিক সময়ে সন্তানকে পান করানো সম্পর্কে সচেতনতার একান্ত অভাব দুনিয়ার সব সমাজেই বিদ্যমান। ভারতেও একই পরিস্থিতি। এদেশের মেয়েরা মা হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়াচ্ছেন। জন্মদানের ২ ঘণ্টা পরে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ালে শিশুমৃত্যুর হার ৩৩ শতাংশ কমে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের গঠনও স্বাভাবিক হয়। কিন্তু ভারতে এবং পৃথিবীর অন্যান্য সদ্যোজাতকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো হয় না সঠিক সময়ে। এর পরিবর্তে পান করানো হয় জল অথবা চিনি দেওয়া জল, মধু এমনকী, চা পর্যন্ত। এতে শিশুর কোনও উপকারই হয় না। বরং বিপদ বাড়ে। এমনকী, মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়ে।

ভারতে মেয়েরা কিন্তু জানেন, সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পানের প্রয়োজনীয়তা। কিন্তু জন্মের ২ ঘণ্টার ভিতর শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো কতটা উপকারী- এই তথ্য অধিকাংশ মায়ের কাছেই নেই। এর দু'টি মূল কারণ। প্রথম কারণ, বিষয়টি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেই এবং এবিষয়ে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য বাজেটগুলোতে বরাদ্দও নেই। ফলে কথাটি গোপনই থেকে যাচ্ছে। মেয়েদের এব্যাপারে সচেতন করতে বিজ্ঞানসম্মত সরকারি পরিকল্পনার অভাব সব রাজ্যেই।

ভারতের শহর এলাকা এবং গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা মহিলাদের মধ্যে তুলনায় শহরের মেয়েদের মধ্যে সন্তানকে মায়ের দুধ পান করানোর চল বেশি। ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে শহরের বাসিন্দা মায়েরা সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করান। আর গ্রামাঞ্চলে ৮৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মেয়েরা মাতৃদুগ্ধ পান করান, কিন্তু অনিয়মিতভাবে। এর অন্যতম এক কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই দরিদ্র মায়েরা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। ফলে শিশুসন্তানকে বাড়িতে রেখে কর্মস্থলে যান। ফলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর শিশু মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয়। যদিও মায়ের দুধ জন্মের পর থেকে টানা ২ বছর বয়স পর্যন্ত পান করাই শিশুর স্বাস্থ্য উন্নত করে। মাতৃদুগ্ধ পান করানো মানবসভ্যতার অঙ্গ, সেকথাও বলা বাহুল্য।

জন্মের ২ ঘণ্টার মধ্যে সদ্যোজাতকে মায়ের দুধ পান করানোর তথ্যটা নাগরিকদের মধ্যে প্রচার না করায় কেন্দ্র কিংবা দেশের রাজ্য সরকারগুলোর দায় কতটা? এক কথায়, অনেকটাই। একইসঙ্গে দায়ী মানুষের স্বার্থপরতা। একান্নবর্তী পরিবার এখন নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি হয়েছে। এর ফলে অভিভাবকের অভাব পড়েছে সত্যিই। আর কে না জানে, পৃথিবী অভিভাবকশূন্য হলে নবীনদের বিপদ হবেই! পরামর্শ দেওয়ার মতো প্রবীণ কাছের মানুষের অভাব পড়েছে। সাংসারিক জীবনযাপনের উপদেশ দেওয়ার মতো মানুষ কমছে।

প্রতি বছর দুনিয়ার প্রায় ৮ কোটি শিশু মায়ের দুধ যথাসময়ে পায় না। সন্তানের জন্মের ২ ঘণ্টার ভেতর মায়ের দুধ পান করানো সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের প্রধান কারণ কেবলমাত্র তথ্যটি প্রচারিত না হওয়া।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ এ-ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র তরফে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সন্তান প্রসবের ২ ঘণ্টার ভেতর মায়েরা যাতে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর উপযোগিতা সম্পর্কে জানতে পারেন-এব্যাপারে প্রচার চালানো দরকার।

ওয়ার্ল্ড ব্রেস্ট ফিডিং ট্রেন্ডস ইনিশিয়েটিভ নামে একটি সংস্থার সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, মায়ের দুধ পান করানো প্রসঙ্গে সচেতনতা প্রচার ভারতে নমো নমো করে চলেছে।

পাশাপাশি, পাউডারড মিল্ক সংস্থাগুলো অনলাইনে চুটিয়ে ব্যবসা করছে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প শিশুখাদ্য বিক্রির জন্যে। আর সেই ফাঁদে পড়ছেন বহু মানুষ। এদিকে মুনাফার পাহাড় তৈরি করছে শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারক পাউডারড মিল্ক সংস্থাগুলো।

মায়েরা স্রেফ সচেতনতার অভাবে সন্তানকে নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান করানোর অভ্যাস ছেড়ে দিচ্ছেন। ভারতে এই সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেসরকারি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সন্তানকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত মায়ের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে না ৩৫.৪ শতাংশ ক্ষেত্রে। এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পাউডারড মিল্ক।

আমাদের দেশে ২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে বাজারি সংস্থার তৈরি শিশুখাদ্য খাওয়ানো বেআইনি। ১৯৯২ সালে আইন করে বিষয়টি নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে ইনফ্যান্ট মিল্ক সাবস্টিটিউট অ্যান্ড ইনফ্যান্ট অ্যাক্ট, যা এককথায় আইএমএ অ্যাক্ট হিসেবে পরিচিত, তা আরও কঠোর করা হয়। এই আইন লঙ্ঘনকারীদের তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। কার্যত আইনটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে। আইন বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হচ্ছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র রিপোর্ট অনুসারে, আফ্রিকার দেশগুলোতে জন্মের ২ ঘণ্টার মধ্যে সদ্যোজাতকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো হয় সারা পৃথিবীর তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি হারে। অন্তত শতকরা ৬৫ শতাংশ ক্ষেত্রে। এশিয়া মহাদেশে এই হার ৩২ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি।

ভারতে ইনফ্যান্ট মিল্ক সাবস্টিটিউট অ্যাক্ট থাকলেও আইনটা যেন বছরের পর বছর ধরে ঘুমিয়ে রয়েছে। আইন লঙ্ঘন করার জন্য ২০২০ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার নেসলে হেলথ সায়েন্সের বিরুদ্ধে আইনসংগত ব্যবস্থা নেয়। কেন শিশুখাদ্য প্রস্তুতাকারক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, এই প্রশ্নও উঠছে।

মাতৃদুগ্ধের বিকল্প দুধের (পাউডারড মিল্ক) বিপুল বাজার গড়ে উঠেছে বিশ্বজুড়েই। বর্তমানের বিলিয়ন ডলারের বাজার ২০২৭ সালের মধ্যে আরও ১০.২ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষক সংস্থা গ্লোবাল মার্কেট ইনসাইট।

দেশকে আমরা মা বলি। বলা বাহুল্য, দেশের উন্নতির অন্যতম শর্ত হল শিশুদের ভবিষ্যৎ যাতে সুরক্ষিত হয় এবং শিশুরা যাতে সুস্থভাবে জীবন কাটাতে পারে এর দিশা খুঁজে বের করা। সেই দিশার হদিশ মিললেও তা এখনও কাগজেকলমে বন্দি থেকে গিয়েছে। স্বাধীনতার ৭৫ তম বছরেও জন্মের ২ ঘণ্টার ভিতর সদ্যোজাতকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে উঠেনি, এটা ব্যর্থতা এবং লজ্জার তো বটেই। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে নজর দিতে সরকারি স্তরে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে কাজে লাগিয়ে দেরি হলেও কাজের কাজটা এবার শুরু করা উচিত। বেটার লেট দ্যান নেভার বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। মাতৃদুগ্ধ পান করানোর নিয়মবিধি সম্পর্কে মায়েদের অজ্ঞতা দূরীকরণই তাই অতীব জরুরি কাজ। সরকার চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের এই কাজে লাগালে দেশের ভবিষ্যতের পক্ষে সেটা খুবই ভাল হত।

বৃহৎ পুঁজি পৃথিবীজুড়ে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প পণ্যের বিলিয়ন ডলারের ব্যবসার জাল বিছিয়ে রেখেছে। ২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য মাতৃদুগ্ধের বিকল্প শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি আইনের তোয়াক্কাও করে না। দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার।

লিখেছেন
Arnab Dutta
Arnab Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।