মুখ বন্ধ রাখুন হাসিনা! চাইছে দিল্লি?

India Bangladesh relations: মিস্রীর বক্তব্যে ভারত পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে— ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থই প্রাধান্য পাবে।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
মুখ বন্ধ রাখুন হাসিনা! চাইছে দিল্লি?

হাসিনা মুখ বন্ধ রাখুন, যেন এমনটাই বার্তা দিচ্ছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে উত্তপ্ত হচ্ছে দুই দেশের কূটনৈতিক পরিসর। এই সময়েই ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিস্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, নয়াদিল্লি আপাতত সংযমী অবস্থান নিতে চাইছে। একদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার কথা জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া এড়াতেও সচেষ্ট ভারত। নাম না করলেও স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্যের দায় নিতে রাজি নয়াদিল্লি। পক্ষান্তরে তাঁকে নীরব থাকার কথাই বলা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন সরকার গঠিত হলে সহযোগিতামূলক সহাবস্থানের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। জোর দেওয়া হচ্ছে বেঁধে দেওয়া সময়ে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয়— শেখ হাসিনা আপাতত নীরব পর্যবেক্ষণে থাকুন, যাতে দুই দেশের সম্পর্ক ও নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিস্রী স্পষ্ট করেছেন, ভারতের ফোকাস এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা। তাঁর কথায়, "আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক রেখেছি। ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এর জন্যে চাই পারস্পরিক সহযোগিতা, এমন কোনো বিবৃতি বা সক্রিয়তা যা এই পরিবেশ তৈরি করার পথে বাধা তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত।" ভারত সফরে আসা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় এমনটাই বলেছেন বিক্রম মিস্রী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২৬ বছর পর বাংলাদেশে ফিরছেন তারেক রহমান! ক্ষমতার কুর্সি অপেক্ষমান?

Tareq Rahman Returns After 26 Years: অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিষয়টি রাজনৈতিক, এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়। আমরা চাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সফল হোক।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যও যেন সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। মিস্রী মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রফেসর ইউনূসের সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনমত দ্রুত প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছি।" এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারত এখন চাইছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যেন স্বাভাবিক পথে এগোয়। অর্থাৎ, ক্ষমতার প্রশ্নে প্রকাশ্য অবস্থান না নিয়ে স্থিতিশীলতার পক্ষে বার্তা দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক কোনো দলের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, "ভারত থেকে বাংলাদেশে যখন শক্তি প্রবাহিত হয়, তা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের বাড়িতে সীমাবদ্ধ থাকে না। জল, বিদ্যুৎ বা পণ্য—সবই বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আমাদের সহযোগিতার নকশা জনমুখী।" অতএব, মিস্রীর বক্তব্যে ভারত পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে— ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থই প্রাধান্য পাবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন! শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কোন পথে?

Sheikh Hasina Extradition: ঢাকা থেকে বারবার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি উঠলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ ও আলোচনার প্রয়োজন।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এটা বিচারাধীন বিষয়, এ বিষয়ে দু-দেশের মধ্যে আরও নিবিড় কথাবার্তা প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, আমরা চাই বাংলাদেশ সরকরারে সঙ্গে এ বিষয়ে একযোগে কাজ করতে।"

বিক্রম মিস্রী আরও বলেন, "দুটি সরকার একে অপরের সাথে যখন যোগাযোগ করে তখন অবশ্যই সেই যোগাযোগ বহুস্তরীয় হয়। সরকারের স্তরে, সরাসরি হতে পারে আবার সরকারের বাইরে, নাগরিক সমাজের সাথে, মিডিয়া, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের মাধ্যমেও যোগাযোগ হতে পারে। অতীত নয়, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সম্পর্ক গড়তে চাই আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে।" এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, দিল্লি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নিউট্রাল কূটনীতির পথে হাঁটছে। শেখ হাসিনা বা বিএনপি, কেউই নয়, ভারতের ফোকাস এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বাস্তবিক স্বার্থে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বিক্রম মিস্রীর বক্তব্য যেন ইঙ্গিত করছে— হাসিনা মুখ বন্ধ রাখুক, যাতে পরিস্থিতি ঠান্ডা থাকে।

ভারত এখন বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকৌশল পর্যবেক্ষণ করছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিয়ে নয়াদিল্লি বোঝাতে চাইছে— এই সংবেদনশীল ইস্যুতে প্রকাশ্য রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং পর্দার আড়ালের আলোচনাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান এখন পরিষ্কার— বাংলাদেশে যেই সরকার আসুক, সম্পর্ক থাকবে।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।