ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন! শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কোন পথে?

Sheikh Hasina Extradition: ঢাকা থেকে বারবার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি উঠলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ ও আলোচনার প্রয়োজন।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন! শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কোন পথে?

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। এই আবেদনের জবাবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং আইন ও বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই নেওয়া সম্ভব।

ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী বলেন, “শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনগত বিষয়। এই ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে হলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয় প্রয়োজন।” তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, নয়াদিল্লি এই মুহূর্তে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার পথে হাঁটতে চাইছে না।

ভারত ইতোমধ্যে খোলাসা করেছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হবে না এবং বাংলাদেশও বলেছে, যদি দরকার পড়ে, আমরা আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইতে পারি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৬ মাসেই পদত্যাগ! কেন বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে?

Seikh Hasina : জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১,৪০০। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্দোলনে এত কম সময়ে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভারতকে একটি ডিপ্লোমেটিক নোট পাঠিয়েছিল, সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমাণ-নথি সংযুক্ত ছিল। তবে, এখনও পর্যন্ত ভারতের দিক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কোনো নতুন তথ্য নেই, আদালতে বিচার শুরু হয়ে গেছে, এবং যদি কেউ না আসে, তবুও বিচার থেমে থাকবে না।

ভারতে প্রত্যর্পণ বিষয়ক প্রক্রিয়া প্রত্যর্পণ আইন, ১৯৬২ (Extradition Act, 1962) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই আইনে বলা হয়েছে, অন্য দেশ থেকে কোনো নাগরিককে ফেরাতে হলে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, প্রমাণ এবং অপরাধের ধরন বিচার করতে হয়।

ভারতের বর্তমানে প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। তবে রাজনৈতিক কারণে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হতে পারে— অর্থাৎ, যদি কোনো অভিযোগ রাজনৈতিক চরিত্রের হয়, তাহলে প্রত্যর্পণ নাকচ করা যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনাই, যা উঠে এল তদন্তে

Bangladesh: শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসার পর অনেক কল রেকর্ডিংই ভাইরাল হয়েছে। যেগুলির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, গুলি চালানোর নির্দেশ সংক্রান্ত অডিও টেপটি হাসিনার কণ্ঠস্বর বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

গত বছরের অগাস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পতন ঘটে তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের, প্রায় দেড় দশক ধরে তারা ক্ষমতায় ছিল। আন্দোলনের চাপে ৫ অগাস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হন হাসিনা এবং ভারতে আশ্রয় নেন। সেই সময় থেকেই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় কূটনৈতিক টানাপোড়েন, যা পরবর্তীতে প্রভাব ফেলে সীমান্ত বাণিজ্য ও জলবণ্টন সংক্রান্ত আলোচনাতেও। ঢাকা থেকে বারবার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি উঠলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ ও আলোচনার প্রয়োজন।

সম্প্রতি শেখ হাসিনার বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অডিও ফাঁস হয়েছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা চলছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি অভ্যন্তরীণ আদালত তাঁকে আদালতে উপস্থিত না থাকার জন্য ছয় মাসের সাজা দেয়। তবে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারত নিজেদের অবস্থান বদলায়নি, এই নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছে কেন্দ্র সরকার।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু শুধু আইনগত নয় — এটি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্যেরও একটি বড় পরীক্ষা। ভারত একদিকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিলে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ঝড়ও তুলতে পারে। বিদেশ সচিব মিস্রী এদিন আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশে দ্রুত ও স্বচ্ছ নির্বাচন দেখতে চাই। যে সরকার জনগণের ম্যান্ডেট পাবে, ভারতের সহযোগিতা তাদের সঙ্গেই অব্যাহত থাকবে।”

প্রসঙ্গত, এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট — তারা রাজনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত নেবে না, বরং আইন, আলোচনা ও আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনেই এগোবে। বাংলাদেশের আদালতে বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, আর নয়াদিল্লি অপেক্ষা করছে সঠিক সময় ও আইনি পরিপক্বতার। অতএব, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের ওপর।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এআইয়ের বাড়বাড়ন্তে বিপদে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি?

AI Threat to China’s Communist Party: এআই শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলাবে, নাকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতেও তৈরি করবে নতুন সংকট? কেন চিনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তা এআইকে কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন? বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এআই গেলে কী ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে? আর কেন শি জিনপিং এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলছেন?

টোকিওর জিম্বোচো: বইয়ের শহরে পাঠকের খোঁজে

Tokyo book market: কফিহাউজ যেমন কলেজস্ট্রিটের প্রাণকেন্দ্র, তেমনই জিম্বোচোতে রয়েছে একাধিক কিস্‌সাতেন—শান্ত নিঝ্‌ঝুম কফির দোকান। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো কিস্‌সাতেনের নাম সাবোরু।

জার্মানিতে ফের যেভাবে বাড়ছে নাৎসি রাজনীতির ছায়া

AfD Rise in Germany: জার্মানিতেই এখন আবার এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, যার বক্তব্যে অভিবাসীবিরোধিতা, জাতিগত জাতীয়তাবাদ, ইসলামবিদ্বেষ এবং ‘জার্মান পরিচয়’ রক্ষার নামে বহিষ্কারের রাজনীতি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দলটির নাম অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি।

পেপার চাই, মান পরে: শিকারি জার্নালের বাজার তৈরি করে কে?

Predatory Journals: ইউজিসি-র ২০১৬ সালের বিধিতে থিসিস জমা দেওয়ার আগে অন্তত একটি রেফার্ড জার্নালে পেপার প্রকাশ বাধ্যতামূলক ছিল। ২০২২ সালে নতুন পিএইচডি বিধি এনে আগের নিয়ম খারিজ করা হয় এবং থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশ জুড়ে পেপার প্রকাশের সেই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবু নিয়ম বদলালেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ‘প্রকাশ করো, নইলে মরো’ (publish or perish) সংস্কৃতি রাতারাতি বদলে যায়?

গাজার মানুষ থাকবে গাজাতেই, স্বাধীন প্যালেস্টাইনের পক্ষে দিল্লি ঘোষণাপত্র

BRICS Delhi Declaration: দিল্লিতে শেষ হওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছে। সেই রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১৯৬৭ সালের সীমারেখা। গাজা ও পশ্চিম তীরকে সেই ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করার কথাও বলা হয়েছে।

ব্রিকস সম্মেলনে ভারত কী পেল, কী পেল না?

BRICS Summit 2026: ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলন থেকে ভারত ঠিক কী পেল? কূটনীতি, বাণিজ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ ও গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভারতের কতটা লাভ হলো? চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতার মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ভারত নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারল, আর কোন প্রত্যাশাগুলি পূরণ হলো না?

জেন-জির হাত ধরে যেভাবে বদলে যাচ্ছে রাজনীতির মানচিত্র

Gen Z politics: ‘জেন-জি’ (Gen Z) সমাজমাধ্যমকে শুধু আড্ডা বা ছবি দেওয়ার জায়গা হিসেবে দেখেনি; বরং শাসকের অন্যায়, সামাজিক বৈষম্য আর রাজনৈতিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছে।

নাগা সন্ন্যাসীরা কি শুধুই ধর্মীয় তপস্বী ছিলেন? ইতিহাস কী বলছে?

History of naga sadhus: প্রয়াগরাজের শাহী স্নানে ছাইমাখা নাগা সন্ন্যাসীরা আজও লক্ষ ভক্তের ভিড়ে প্রথম ডুব দেন। কিন্তু এই জটাজুটের আড়ালে লুকিয়ে আছে রক্তপাত, টাকা, ভূমি-রাজনীতি, দাসত্ব আর সাম্প্রদায়িক হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস। অনুপগিরি গোসাঁই থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কুম্ভমেলা দখল—উইলিয়াম পিঞ্চ ও ধীরেন্দ্র ঝার গবেষণায় উঠে এসেছে, ইতিহাসের সেই অজানা অধ্যায়।