এখনও রাত ২ টোয় মাটির নীচে খনন! প্রকৃতি নয়, মানুষই গিলছে জোশীমঠকে?

Joshimath Disaster: ক্রাশার দিয়ে পাথর ভাঙার পরে তাদের কাজ করার পরে ক্রেনগুলিকে ঘটনাস্থল থেকে পাথর বয়ে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে।

inscript
২ মিনিট
এখনও রাত ২ টোয় মাটির নীচে খনন! প্রকৃতি নয়, মানুষই গিলছে জোশীমঠকে?

প্রকৃতি গিলে খাচ্ছে আস্ত একটা শহরকে। সরকার বলেছে কোনও রকমের ভারী নির্মাণকার্য করা যাবে না উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠে। ডুবতে বসা পাহাড়ি শহরে ৭০০ টিরও বেশি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভেঙে ফেলা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িই, বাসিন্দারা ঘরছাড়া। এরই মাঝে, এই ভয়াবহতার মাঝে দাঁড়িয়েও খোঁড়া হচ্ছে জোশীমঠ, রাতের অন্ধকারে গোপনে। সরকারের বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে, নাকি সরকার সব জেনেও চুপ- প্রশ্ন উঠছেই।

বুধবার রাত তখন ২ টো। দুর্বল হয়ে যাওয়া এই পার্বত্য ভূমিতে পুরোদমে চলেছে স্টোন ক্রাশার মেশিন! এনডিটিভির একটি দলের ক্যামেরায় এই ঘটনাটি ধরা পড়েছে। এই এলাকাটিকে বদ্রীনাথের সঙ্গে জুড়ছে একটি জাতীয় সড়ক। ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, সেই রাস্তার কাছে, জোশীমঠের ঠিক বাইরে পাহাড়ে পুরোদমে স্টোন-ক্রাশিং এবং ড্রিলিং চলছে।

ক্রাশার দিয়ে পাথর ভাঙার পরে তাদের কাজ করার পরে ক্রেনগুলিকে ঘটনাস্থল থেকে পাথর বয়ে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে। গভীর রাতে ড্রিলিংয়ের আওয়াজ শোনা গিয়েছে এক কিলোমিটারের বেশি দূর থেকে। যদিও শ্রমিকদের থামানোর মতো কাউকেই দেখা যায়নি স্থানীয় বা প্রশাসনের তরফে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পরিত্যক্ত শহর হলো জোশীমঠ? বাসিন্দাদের চোখের সামনেই ভাঙা হচ্ছে জীবনের শেষ সম্বল!

Joshimath Sinking: ২০০৯ থেকে ২০১২ অবধি চামোলি-জোশীমঠ অঞ্চলে ১২৮ টি ভূমিধস ঘটেছে!

ভূপৃষ্ঠ ক্রমশ তলিয়ে যাওয়ার কারণে জোশীমঠ এবং এর আশেপাশে সমস্ত এলাকাতেই নির্মাণ কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পার্বত্য শহরের ৭২১ টি বাড়িতে বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিয়েছে। এই মন্দির শহরে হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বহু মানুষকেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। উত্তরাখণ্ড প্রশাসন জানিয়েছে যে বাড়িগুলি একেবারেই হেলে পড়েছে বা ভেঙে গেছে সেগুলি সম্পূর্ণ রূপেই ভেঙে ফেলা হবে। নাহলে তা অন্যান্য বাড়িঘরগুলিরও ক্ষতি করতে পারে।

বহু বছর ধরেই এই দুর্বল ভূপৃষ্ঠের উপর নির্মাণকার্য জলছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সহ অপরিকল্পিত নানা নির্মাণের কারণে পাথর ফাটিয়ে দেওয়া এবং লাগাতার ভারী ভারী যন্ত্র দিয়ে নির্মাণ এই এলাকাটিকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। দু'টি হোটেল এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি সহ সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িগুলি ভেঙে ফেলার কথা জানালে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দা এবং দোকান মালিকরা প্রতিবাদও জানান। তাঁদের দাবি কোনও নোটিশ না দিয়েই রাতারাতি বাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। একদিকে এই ঘটনা, অন্যদিকে গভীর রাতের অন্ধকারে, নিষেধাজ্ঞা আর বিপদ কোনওটাকেই পাত্তা না দিয়ে চলছে খনন!

হোটেল এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও, ৬৭৮টি বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত বলে উত্তরাখণ্ড সরকার জানিয়েছে। প্রায় ৪,০০০ জন মানুষকে ত্রাণ শিবিরে পাঠানো হয়েছে। স্যাটেলাইট মারফত পাওয়া তথ্য বলছে, জোশীমঠ এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল প্রতি বছর ৬.৫ সেন্টিমিটার হারে ডুবে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এর জন্য ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের (এনটিপিসি) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, টানেলের বিস্ফোরণ ঘটানোর ফলেই সামগ্রিকভাবে অঞ্চলটি আরও নড়বড়ে হয়ে গেছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?