এখনও রাত ২ টোয় মাটির নীচে খনন! প্রকৃতি নয়, মানুষই গিলছে জোশীমঠকে?
Joshimath Disaster: ক্রাশার দিয়ে পাথর ভাঙার পরে তাদের কাজ করার পরে ক্রেনগুলিকে ঘটনাস্থল থেকে পাথর বয়ে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে।

প্রকৃতি গিলে খাচ্ছে আস্ত একটা শহরকে। সরকার বলেছে কোনও রকমের ভারী নির্মাণকার্য করা যাবে না উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠে। ডুবতে বসা পাহাড়ি শহরে ৭০০ টিরও বেশি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভেঙে ফেলা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িই, বাসিন্দারা ঘরছাড়া। এরই মাঝে, এই ভয়াবহতার মাঝে দাঁড়িয়েও খোঁড়া হচ্ছে জোশীমঠ, রাতের অন্ধকারে গোপনে। সরকারের বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে, নাকি সরকার সব জেনেও চুপ- প্রশ্ন উঠছেই।
বুধবার রাত তখন ২ টো। দুর্বল হয়ে যাওয়া এই পার্বত্য ভূমিতে পুরোদমে চলেছে স্টোন ক্রাশার মেশিন! এনডিটিভির একটি দলের ক্যামেরায় এই ঘটনাটি ধরা পড়েছে। এই এলাকাটিকে বদ্রীনাথের সঙ্গে জুড়ছে একটি জাতীয় সড়ক। ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, সেই রাস্তার কাছে, জোশীমঠের ঠিক বাইরে পাহাড়ে পুরোদমে স্টোন-ক্রাশিং এবং ড্রিলিং চলছে।
ক্রাশার দিয়ে পাথর ভাঙার পরে তাদের কাজ করার পরে ক্রেনগুলিকে ঘটনাস্থল থেকে পাথর বয়ে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে। গভীর রাতে ড্রিলিংয়ের আওয়াজ শোনা গিয়েছে এক কিলোমিটারের বেশি দূর থেকে। যদিও শ্রমিকদের থামানোর মতো কাউকেই দেখা যায়নি স্থানীয় বা প্রশাসনের তরফে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Joshimath Sinking: ২০০৯ থেকে ২০১২ অবধি চামোলি-জোশীমঠ অঞ্চলে ১২৮ টি ভূমিধস ঘটেছে!
ভূপৃষ্ঠ ক্রমশ তলিয়ে যাওয়ার কারণে জোশীমঠ এবং এর আশেপাশে সমস্ত এলাকাতেই নির্মাণ কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পার্বত্য শহরের ৭২১ টি বাড়িতে বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিয়েছে। এই মন্দির শহরে হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বহু মানুষকেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। উত্তরাখণ্ড প্রশাসন জানিয়েছে যে বাড়িগুলি একেবারেই হেলে পড়েছে বা ভেঙে গেছে সেগুলি সম্পূর্ণ রূপেই ভেঙে ফেলা হবে। নাহলে তা অন্যান্য বাড়িঘরগুলিরও ক্ষতি করতে পারে।

বহু বছর ধরেই এই দুর্বল ভূপৃষ্ঠের উপর নির্মাণকার্য জলছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সহ অপরিকল্পিত নানা নির্মাণের কারণে পাথর ফাটিয়ে দেওয়া এবং লাগাতার ভারী ভারী যন্ত্র দিয়ে নির্মাণ এই এলাকাটিকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। দু'টি হোটেল এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি সহ সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িগুলি ভেঙে ফেলার কথা জানালে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দা এবং দোকান মালিকরা প্রতিবাদও জানান। তাঁদের দাবি কোনও নোটিশ না দিয়েই রাতারাতি বাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। একদিকে এই ঘটনা, অন্যদিকে গভীর রাতের অন্ধকারে, নিষেধাজ্ঞা আর বিপদ কোনওটাকেই পাত্তা না দিয়ে চলছে খনন!
হোটেল এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও, ৬৭৮টি বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত বলে উত্তরাখণ্ড সরকার জানিয়েছে। প্রায় ৪,০০০ জন মানুষকে ত্রাণ শিবিরে পাঠানো হয়েছে। স্যাটেলাইট মারফত পাওয়া তথ্য বলছে, জোশীমঠ এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল প্রতি বছর ৬.৫ সেন্টিমিটার হারে ডুবে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এর জন্য ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের (এনটিপিসি) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, টানেলের বিস্ফোরণ ঘটানোর ফলেই সামগ্রিকভাবে অঞ্চলটি আরও নড়বড়ে হয়ে গেছে।






