মনরেগার বিলুপ্তি: শুধু নাম পরিবর্তন নয়, চক্রান্ত আরও গভীর

MGNREGA: মনরেগার পরিবর্তে যে নতুন আইন আনা হয়েছে তা আদতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার উপরেও আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। রাজ্যগুলির সঙ্গে পরামর্শ না করেই এবং রাজ্য সরকারগুলির রাজকোষের উপর সীমাবদ্ধতা আছে, এই বিষয়টি পুরোপুরি জানার পরেও, কেন্দ্র একতরফা ভাবে এবং একেবারে বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো কর্মসংস্থান প্রকল্পে রাজ্যগুলির প্রদেয় অংশের অনুপাত এখনকার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করেছে।

Suman Kalyan Moulik
৭ মিনিট
মনরেগার বিলুপ্তি: শুধু নাম পরিবর্তন নয়, চক্রান্ত আরও গভীর

ভারতের গ্রামীণ শ্রমজীবী জনতার বহু আন্দোলনের ফসল তথা অধিকার অর্জনের দলিল মহাত্মা গান্ধী ন্যাশানাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট আজ মৃত। পরিবর্তে চালু হয়েছে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড জীবিকা (গ্রামীণ) নামক এক অসম্পূর্ণ, অধিকারহীন ও চরিত্রগত ভাবে অগণতান্ত্রিক আইন। মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের মাধ্যমে অধিকার অর্জন করেছিলেন গ্রামের গরিব মানুষরা। এই অধিকার বাতিল করার জেরে গ্রামীণ গরিব মানুষেরা একটা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক থেকে পরিণত হবেন এক দল মরিয়া ভিক্ষাজীবিতে। মনরেগাকে সরিয়ে এই নতুন প্রকল্প শুরু করতে মোদি সরকার এতটাই মরিয়া ছিল যে, দাবি সত্ত্বেও নতুন বিলকে বৃহত্তর আলোচনার জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হয়নি বরং কোনো রকম সংশোধনী ছাড়াই ধ্বনি ভোটে পাশ করানো হয়েছে। দেশের ২৬.৫ কোটি মানুষ এবং ১৫.৫ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবনরেখা মনরেগা প্রকল্পকে এভাবে হত্যা করা এই বহুবিজ্ঞাপিত অমৃতকালে এক কলঙ্কের ইতিহাস হয়ে থাকল। অবশ্য ইতিহাস সাক্ষী যাঁরা গরিব কিন্তু শ্রমজীবী, তাঁদের নাগরিকের অবস্থান থেকে ভিক্ষুকে পরিণত করাটাই সব ফ্যাসিবাদী সংগঠনের প্রকৃত লক্ষ্য। অনেকে বলছেন, প্রকল্প থেকে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর নাম সরানো হয়েছে কিন্তু সত্য হলো মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত প্রকল্পটাই আজ বিলুপ্ত হয়েছে। গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্পে জাতির জনকের নাম জুড়ে থাকার এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৯২১ সালের ১৩ অক্টোবর 'ইয়ং ইন্ডিয়া' পত্রিকায় 'The Sentinel' শীর্ষক প্রবন্ধে গান্ধী লিখেছিলেন,

To a people famising and idle,the only acceptable form in which God can dare appear is work and promise of food as wages.

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, নতুন ভারতের সংবিধানে কাজের অধিকারকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার পরিবর্তে তাকে নির্দেশাত্মক নীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনে একটা সদর্থক পদক্ষেপ ছিল মনরেগা। আমাদের আরেকবার স্মরণ করা প্রয়োজন যে এই গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্প কখনোই এক মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রকল্প ছিল না, এ ছিল লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ শ্রমজীবী জনতার যার মধ্যে মহিলা, দলিত, আদিবাসী ও ভূমিহীন মজুররা সংখ্যাগরিষ্ট,তাদের এক সমষ্টিগত অধিকার অর্জনের সনদ। এই প্রকল্পের মূল কথা ছিল 'হর হাথ কো কাম দো,কাম কা পুরা দাম দো'। এ ছিল এক ঘোষণাপত্র যা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করে যে কাজ, মজুরি ও সম্মান কারও দয়ার দান নয়,এটা অধিকার যা অর্জন করতে হয়।

রাষ্ট্রপতির সম্মতির মাধ্যমে নতুন বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান 'দি হিন্দু' পত্রিকায় এক নিবন্ধে নতুন আইনের সমালোচকদের (যাদের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষের সংগঠন, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদরা রয়েছেন) বলেছেন, তারা যেন নতুন আইনটি খুঁটিয়ে পড়েন। মন্ত্রীমশাই এর মতে এই নতুন আইনের উদ্দেশ্য হলো,

To promote empowerment, growth,convergence and saturation for a prosperous and resilient rural Bharat.

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মনরেগা থেকে শান্তি বিল: যেভাবে লোকসভা হাসির খোরাকে পরিণত হলো

Winter Session 2025: মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MNREGA)-এর জায়গায় আনা বিকশিত ভারত-জি রাম জি (VB-G RAM G) বিলটি প্রকল্পটির চরিত্রই বদলে দেয়।

এই চটকদার শ্লোগানের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আইনের বিধানগুলি অবশ্যই মন্ত্রীমশাইয়ের আদেশ শিরোধার্য করে আমরা পড়ব এবং মনরেগার সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে যাব। মনরেগা যে মূল বিষয়ের উপর দাঁড়িয়ে ছিল তা হলো এটা এক চাহিদা নির্ভর প্রকল্প এবং যখনই কাজের চাহিদা হবে তখন কেন্দ্রীয় সরকার আইন মোতাবেক তার জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে দায়বদ্ধ থাকবে। মোদি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে প্রকল্পের ব্যয়বরাদ্দ কমানো হয়েছে এবং নতুন আইনে সেই নাকচ করার বিষয়টিকে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে,

the Central government shall determine the statewise normative allocation for each financial year based on objective parameters as may be prescribed by the central govt.

সহজ ভাষায়, চাইলেই কাজ দিতে হবে এমন প্রকল্পের বদলে, এবং সে কারণেই অধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের বদলে,নতুন আইনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাটাই কেন্দ্রীয় সরকারের খেয়ালখুশির উপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা এই নতুন প্রকল্প চরিত্রগত ভাবে চাহিদা নির্ভর হওয়ার বদলে যোগান নির্ভর হয়ে উঠল। তাই মনরেগা প্রকল্প বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকল না।

বিষয়টি আরও বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। প্রথমত, এখন থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে; যেটি বেছে নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। তার মানে সারা দেশের গ্রামাঞ্চলে দাবি মাফিক কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা আর থাকছে না। অর্থাৎ প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের ১০০ দিনের কাজ পাওয়ার অধিকারের প্রশ্নটিই আর উঠছে না। দ্বিতীয়ত, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে যে অর্থ বরাদ্দ করবে তার পরিমাণ ঠিক করে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। এর সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো রাজ্যে কতটা কর্মসংস্থানের চাহিদা রয়েছে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তৃতীয়ত, রাজ্যগুলিকে দিতে হবে প্রকল্পের জন্য খরচের ৪০ শতাংশ অর্থ এবং কেন্দ্র দেবে বাকি ৬০ শতাংশ। এর সঙ্গে যদি মনরেগার তুলনা করা যায় তাহলে সেখানে ৯০ শতাংশ খরচ দিত কেন্দ্রীয় সরকার এবং তাও বরাদ্দের পরিমাণ নির্ভর করত কত পরিমাণ কাজের চাহিদা রয়েছে তার ভিত্তিতে। এখন আর্থিক দুর্বলতার কারণে বরাদ্দের ৪০ শতাংশের মধ্যে কোন রাজ্য সরকার ২০ শতাংশ দিতে পারে তবে নতুন নিয়মে (৪০:৬০) কেন্দ্রীয় সরকার দেবে ৩০ শতাংশ। তখন সেই রাজ্যের প্রকল্পের আয়তন ১০০ টাকার পরিবর্তে কমে হবে ৫০ টাকা। এর ফলে এই কর্মসূচির আয়তনই শুধু ছেঁটে ফেলা হয় না বরং কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হলো এক সুবিধাজনক বলির পাঁঠা। এই পরিস্থিতিতে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী যদি কাজের ব্যবস্থা না হয় তখন কেন্দ্র বলবে কাজ দিতে না পারার দায় সেই রাজ্য সরকারের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১০০ দিনের কাজের আইন বদলে কী হারাল গ্রামীণ ভারত?

MGNREGA Repealed: এই নতুন আইন পাশ হওয়ার পরে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বহু অর্থনীতিবিদ বলেছেন, যে আইন কোভিডের সময়ে ভারতকে বাঁচিয়ে রেখেছিল, সেই আইন বাতিল করা নিজের পায়ে কুড়ুল মারার সমান।

মনরেগার পরিবর্তে যে নতুন আইন আনা হয়েছে তা আদতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার উপরেও আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। রাজ্যগুলির সঙ্গে পরামর্শ না করেই এবং রাজ্য সরকারগুলির রাজকোষের উপর সীমাবদ্ধতা আছে, এই বিষয়টি পুরোপুরি জানার পরেও, কেন্দ্র একতরফা ভাবে এবং একেবারে বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো কর্মসংস্থান প্রকল্পে রাজ্যগুলির প্রদেয় অংশের অনুপাত এখনকার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করেছে। এখানেই শেষ নয়, খরচের ধরনের ক্ষেত্রও নির্ধারণ করবে কেন্দ্র। এই খাতে কেন্দ্র যতটা চায় কোনো রাজ্য সরকার যদি তার চেয়েও বেশি খরচ করতে আগ্রহী হয়,তাহলে সেটা করা যাবে একমাত্র কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনেই। এই আইন রাজ্য সরকারগুলিকে স্রেফ কেন্দ্রের অধীনস্থ সামন্তপ্রভু বা দাসানুদাস হিসাবে বিবেচনা করতে চায়।

মনরেগা এক বিকেন্দ্রীকরণের স্বপ্ন দেখেছিল। নতুন আইন ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে চূড়ান্ত ভাবে কেন্দ্রীভূত করতে চায়। পুরনো আইনে গ্রামসভার ক্ষমতা ছিল স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে গ্রামের কাজগুলিকে চিহ্নিত করার। নতুন আইনে স্থানীয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাও খর্ব করা হচ্ছে। আইনে বলা হয়েছে,

Vikhasit Bharat National Rural infrastructure Stack shall guide states,Districts and Panchayati Raj Institutions.

কোনো লুকোছাপা নয়, সোজাসুজি কেন্দ্রীকরণের নিদান। শিবরাজ সিং চৌহান মনরেগার পরিবর্তে নতুন আইনকে কর্মসংস্থানের প্রশ্নে আরও উন্নততর বলেছেন কারণ এতে ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিনের কথা বলা হয়েছে। খুব সহজ কথায় বললে এই বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিখাদ 'ঢপবাজি' (অমিত শাহের ভাষায় বললে আরেকটা জুমলা)। নতুন আইনে কাজ পাওয়াটাই আর অধিকারের মধ্যে পড়ে না,বিষয়টা কেন্দ্রীয় সরকারের দাক্ষিণ্য নির্ভর। এখনই দেশের গ্রামীণ পরিবারগুলির মাত্র ২% একশ দিনের কাজ পায়। রাজ্যগুলিতে কাজ পাওয়ার গড় ৫০ দিনেরও কম।সেখানে ১২৫ দিনের প্রতিশ্রুতি নেহাতই গল্প। এক্ষেত্রে নতুন আইনে আরও দুটো শর্ত আছে যার দ্বারা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রবঞ্চনা আরও স্পষ্ট হয়। আইনের সেকশন ৬(২) এ বলা হয়েছে কৃষির মরশুমে ৬০ দিন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকবে যাতে কৃষিকাজে মজুরের সমস্যা না হয়। এই দু'মাসের শাটডাউনের উপস্থিতি আরেকবার প্রমাণ করে যে মনরেগার পরিবর্তে আনা নতুন আইনটি কোনো ভাবেই চাহিদা নির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়। আর আইনের সেকশন ৫(১) ধারায় বলা হয়েছে একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকার নিবন্ধিত এলাকাগুলির মানুষরাই কাজ পাবে। এর অর্থ হলো যদি কোনো এলাকার নাম নথিভুক্ত না হয় তাহলে ১২৫ দিন তো দূরের কথা, একদিনও কাজ পাবে না।

কৃষিমন্ত্রী ও সরকারপক্ষ দাবি করেছেন, VB GRAM G act সংসদে পেশ করার আগে রাজ্যগুলির সঙ্গে এবং সমস্ত ধরনের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল। এটা একেবারে ডাহা মিথ্যা। বিল পেশ করার আগে কোনো পক্ষের কাছে কোনো খবর ছিল না, এমনকি ২০০৫ সালে যারা মনরেগার খসড়া প্রস্তুত করেছিল,তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কোনো সৌজন্য সরকার দেখায়নি। এ প্রসঙ্গে আবার মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে গ্রামীণ উন্নয়ন এবং পঞ্চায়েতিরাজ বিষয়ক সংসদীয় কমিটি বারংবার কিছু সুপারিশ করে। এর মধ্যে রয়েছে মনরেগার অধীনে দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে দিনপ্রতি ৪০০ টাকা করা,পরিবার পিছু ১৫০ দিনের কাজ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা,মজুরি বিলম্বের অভিযোগগুলির নিস্পত্তি করা, বাজেট সংস্থান বৃদ্ধি করা এবং পেমেন্টর সঙ্গে আধার সংযুক্তির বিতর্কিত সিদ্ধান্তটিকে পুনর্বিবেচনা করা। দুর্ভাগ্য হলো, এই একটা সুপারিশও কার্যকরী করা হয়নি বরং মনরেগাকেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

মোদি সরকার ধ্বনিভোটের মাধ্যমে এক সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এই কাজ চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং গোপনীয়তার মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে। মনরেগার পরিবর্তে আনা বিলটি ১৫ ডিসেম্বর সংসদে পেশ করা হয়, ১৭ ডিসেম্বর রাতে আলোচনা করা হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর ধ্বনি ভোটে পাশ করানো হয়। অনুরোধ সত্ত্বেও গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছেও এই বিলটি আলোচনার জন্য পাঠানো হয়নি। এমনকি বিলের উপর কোনো সংশোধনী আনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। মোদি সরকার তার জন্মলগ্ন থেকেই মনরেগার বিরোধিতা করেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এই প্রকল্পকে 'গর্ত খোঁড়ার প্রকল্প' বলে উপহাস করেছিলেন। প্রথম বছরেই (২০১৪-১৫) মনরেগায় কর্মসংস্থান সমগ্র কর্মদিবস ২০০ কোটির নিচে চলে যায়। মোদি জমানায় এই প্রকল্প একের পর এক সরকারি প্রতিবন্ধকতার সন্মুখীন হয়। দুর্নীতি দমনের নামে যারা কাজ চাইছেন তাদের জবকার্ড বাতিল করা হয়। শুধু ২০২৫ সালে (১০ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর) ২৭ লক্ষ জবকার্ড সারা দেশে বাতিল করা হয়েছে। অথচ মূল্যায়ণ বলছে, মনরেগা শুধু পরিবারের আয় বৃদ্ধি করে না, তারা অর্থনীতিকে গতি দেয়। রফতানি বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ নির্ভর বৃদ্ধির হাজারো ঢক্কানিনাদের মধ্যেও আসল সত্যিটা হলো, ভারতের অর্থনীতি আভ্যন্তরীণ চাহিদার উপর নির্ভরশীল।

মনরেগা কীভাবে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে পারে তার অজস্র উদাহরণ আছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট,খরা বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভারতের মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছে এই প্রকল্প। আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয় অতিমারির সময়ের কথা যখন সমস্ত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন মনরেগা প্রকল্পে ১১ কোটি মানুষ কাজ দাবি করেছিলেন। সেবার মোদি সরকারকে বাঁচিয়েছিল এই প্রকল্প। আসলে যখন বাজার পড়তে থাকে,মানুষের জীবন জীবিকা বিপন্ন হয় তখন সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্প অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাঁচিয়ে রাখে। মনরেগার গুরুত্ব এখানেই। আজ যখন গ্রামীণ ঋণগ্রস্ততা সর্বোচ্চ, বাজার চাহিদার অভাবে ধুঁকছে তখন মনরগাকে বিলুপ্ত করা এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত। ভিবি-জি রাম জি আইন মনরেগার জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার কাঠামোকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো,রাজ্য সরকারের স্বাধিকার ও তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্রের উপর আঘাত। এই নতুন প্রকল্প তাই এক সতর্ক বার্তা। সময় দাবি করছে প্রতিরোধ, কর্পোরেট বান্ধব কৃষি আইন রুখে দেওয়ার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আমাদের সামনেই রয়েছে।

(মতামত লেখকের ব্যাক্তিগত)

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।