নখ দিয়ে যায় চেনা

Amit Patihar
৪ মিনিট
নখ দিয়ে যায় চেনা

আর্টিকেলের এরকম অদ্ভুত নাম দেখেই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন টপিকটা বেশ মজাদার এবং আকর্ষণীয় হতে চলেছে। আচ্ছা যদি আমি আপনাকে বলি আপনার শরীর এবং স্বাস্থ্য ভিতর থেকে কেমন তা কেবল আপনার নখের দিকে তাকিয়েই বলে দেওয়া যায়, আপনি কি বিশ্বাস করবেন? যদি বলি আপনার নখের রং আর গঠন দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন কোনো মারণ রোগ বাসা বাঁধছে অন্দরমহলের এক কোণে, আপনি কি বিশ্বাস করবেন? আপনি কি বিশ্বাস করবেন যদি বলি, আপনার লিভার, লাং বা হার্টের অবস্থা বোঝা যায় আপনার নখের দিকে তাকিয়ে? আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, চিকিৎসাশাস্ত্র কিন্তু বলছে,

'নখের আমি নখের তুমি, নখ দিয়ে যায় চেনা

নখের রঙে আটকে জীবন, নখ কে চিনবেনা?'

হ্যাঁ, আজ আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো নখের রং। নখের রং দেখে কীভাবে বুঝবেন আপনার শরীর স্বাস্থ্যের হাল হাকিকত! আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন রঙের নখ কোন সমাচার দিতে চায় -

১. ফ্যাকাসে নখ:

আপনার নখের রঙ যদি ভীষণ ফ্যাকাসে হয়, তবে তা মোটেও আপনার জন্য সুখবর নয়। ডাক্তারদের মতে, নখের রং খুব ফ্যাকাসে হওয়া মানে কিছু মারাত্মক রোগের বসবাস হতে পারে আমাদের শরীরে। সেই রোগগুলি হলো যথাক্রমে -

■ কনজেস্টিভ হার্ট ফেলিওর।

■ অ্যনেমিয়া বা রক্তাল্পতা।

■ অপুষ্টি

■ লিভারের রোগ

২. নীলচে নখ।

আপনার নখের রং যদি হালকা নীলচে হয়, তবে হতে পারে আপনার শরীরে পরিমান মতো অক্সিজেন পৌঁছাচ্ছে না। শরীরে ঠিকঠাক অক্সিজেনের সরবরাহ না থাকা মানেই ফুসফুস সংক্রান্ত রোগ আপনার দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কলিংবেল বাজাচ্ছে। যেমন এম্ফিসেমা। এম্ফিসেমা হলে ফুসফুসের ছোটছোট এয়ার স্যাকের গুলোর ক্ষতি হয়।এছাড়াও হৃদয় এর রোগের সম্ভাবনাও প্রচুর।

৩. হলুদ নখ:

নখের রং হলুদ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ফাঙ্গাল ইনফেকশন। এ ছাড়াও আপনি যদি বেশি বেশি হলুদ দেওয়া রান্না খেয়ে ঠিক ভাবে হাত না ধুয়ে থাকেন, তবে নখের রং হলুদ হতেই পারে। কিন্তু সেই হলুদ কৃত্তিম হলুদ। ডাক্তারদের মতে যাদের নখ প্রাকৃতিক ভাবেই হলুদ রংয়ের তাদের নখে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সম্ভাবনা প্রচুর। যা ভবিষ্যতে নখের গঠনকে মোটা করে দিতে পারে। এ ছাড়াও কিছু রেয়ার কেসে হলুদ রঙয়ের নখ ইশারা করে থাইরয়েড, সুগার এবং ফুসফুসের রোগের দিকে।

৪. সাদা নখ:

যদি নখের অগ্র্যাংশের রং সাদা হয় এবং তার নিচে একটা কালো রঙয়ের বলয় থেকে থাকে তবে সাবধান আপনার লিভার সংক্রান্ত রোগ থাকতেই পারে। যেমন হেপাটাইটিস। এছাড়াও নখের রং সাদা হলে দেখবেন আপনার চামড়ার রং ও হালকা হলুদের দিকে, যা কিনা জন্ডিসের লক্ষ্মণ।

৫. ফাটা বা চিড় ধরা নখ:

নখ যদি অকারণেই শুকিয়ে যেতে থাকে এবং নিজে নিজেই ফেটে যেতে থাকে, চিড় ধরতে থাকে নখের দেওয়ালে তবে তা থাইরয়েড সংক্রান্ত রোগের লক্ষণ।

৬. নখের নিচে কালো কালো লাইন:

নখের নীচে কালো কালো লম্বা লাইন নেমে যাওয়া খুব একটা সুবিধার লক্ষণ নয়। এরকম হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত কারণ এটা মেলানোমা নামক এক অত্যন্ত বিপদজনক চর্মরোগের উপস্থিতির কথা জানান দেয়।

এ তো গেলো সমস্যার কথা। এবার আসি সমাধানে। ইংরাজিতে বলে Precaution is better than cure অর্থাৎ কোরোনা হয়ে হসপিটালে ভর্তি হওয়ার চেয়ে মাস্ক পরা স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং সোশ্যাল ডিস্টেনসিং বজায় রাখা ভালো। বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই কি বলতে চাইছি! তবে আসুন আলোচনা করি কীভাবে আমরা নখ কে ভালোবাসতে পারি আজ থেকে।

নখের যত্ন নিন :

■ বেশি বেশি করে প্রোটিন যুক্ত খাবার খান। প্রোটিন যুক্ত খাবার আমাদের শরীরে কেরাটিনের পরিমান বাড়িয়ে দেয় যার ফলে শরীরে চুলের আর নখের সুবৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে। ভালো কোনও ডায়েটিশিয়ান আপনাকে বলে দিতে পারবে ওজন অনুযায়ী আপনার শরীরে কতটা প্রোটিন প্রয়োজন রোজ।

■ নখ কে অস্ত্র বা Tool হিসাবে ব্যবহার করা বন্ধ করে দিন আজ থেকেই। টিফিন বক্সের ঢাকনা খোলার জন্য, কোকের ক্যানের ঢাকনা খোলার জন্য, শক্ত দড়ির গিঁট খোলার জন্য নখের ব্যবহার বন্ধ করে দিন। এতে আপনার নখের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে।

■ নখ বেশি লম্বা করবেন না। খুব বেশি লম্বা হওয়ার আগেই নখ কেটে ফেলুন ছোট ছোট করে। সবদিক থেকে সমান্তরাল আকারে কাটবেন যাতে নখের বৃদ্ধি ছোট বড় না হয়।

■ নখ পালিশ করুন মাঝে মধ্যেই। নেলপেন্ট বা নেল কালার করতে বলছি না, নাইলন ফাইবার সমৃদ্ধ ক্লিয়ার পালিশ ব্যবহার করুন সপ্তাহে অন্তত একবার। নখ এর মলম লাগাতে পারেন ডাক্তারের থেকে পারমিশন নিয়ে।

■ কেমিক্যাল কাজের সাথে যুক্ত হলে গ্লাভস পরুন। ঘরের কাজ যেমন বাসন ধোয়া, ঘর পরিষ্কার করার সময়ও গ্লাভস পরুন। আর্টিফিশিয়াল নখের ব্যবহার বন্ধ করুন কারণ আর্টিফিশিয়াল নখ ব্যবহার করলে যে আটা বা গ্লু নখে লাগাতে হয় তা খুবই ক্ষতিকারক। এই গ্লু নখের গঠনকে দুর্বল করে দেয়।

নখ পরিষ্কার রাখুন।

শরীর আকাশ হলে, নখ অনেকটা আবহাওয়া দফতরের মতন। তার কাজ পূর্বাভাস দেওয়া। রোগের কালো কালো মেঘ ভেসে আসার আগেই শরীরকে দুর্যোগের সম্ভাবনার কথা জানান দেওয়া। তাই নখ কাটলে ব্যথা না লাগলেও, নখ কে অঙ্গ না ভাবা বন্ধ করতে হবে। নখ পড়তে শিখতে হবে, নখের যত্ন নিতে শিখতে হবে।

Source: https://www.webmd.com

লিখেছেন
Amit Patihar
Amit Patihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।