পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ২৪৫০ কেজির দৈত্যাকার স্যাটেলাইট! ঘটতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ?
Nasa Satellite : দীর্ঘ ৩৮ বছর বছর পৃথিবীতে ফিরছে এই কৃত্রিম উপগ্রহ

অমুক বছরে ধ্বংস হবে পৃথিবী। তমুক বছরে গুঁড়িয়ে যাবে শহর। এই সব নানারকম খবর মাঝেমাঝেই শিরোনাম দখল করে। তার সঙ্গেই কপালে ভাঁজ পড়ে সাধারণ মানুষের। দিন গুনতে থাকে অনেকেই। বিজ্ঞান থেকে মিডিয়া এমনকী জ্যোতিষ শাস্ত্রও বিষয় ভিত্তিক আলোচনা শুরু করে। সম্প্রতি কলকাতার আকাশে রহস্যময় এক আলো নিয়েও শুরু হয়েছিল আলোড়ন। এবার সেই রহস্যের কিনারা হতে না হতেই আরও একটি মহাজাগতিক খবর শিরোনাম দখল করেছে ইতিমধ্যেই। গত শুক্রবার নাসার তরফে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত এক নাসা স্যাটেলাইট আছড়ে পড়তে চলেছে পৃথিবীর বুকে।
এই খবর সামনে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে আলোচনা। কবে ঘটতে পারে এই ঘটনা, ঘটনার প্রভাবে কী কী ক্ষতি হতে পারে সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। জানা গিয়েছে, উক্ত স্যাটেলাইটটির ওজন প্রায় ৫৪০০ পাউন্ড বা ২৪৫০ কিলোগ্রাম। এত বড় একটা স্যাটেলাইট আছড়ে পড়ার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ধ্বংস হতে পারে বিস্তর অংশ। যদিও আশঙ্কা খানিকটা কমিয়ে নাসা জানিয়েছে পুনঃপ্রবেশের সময় স্যাটেলাইটের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। তবে ভয় একেবারেই কাটছে না এতে কারণ, পুরোপুরি ধ্বংস হবে না স্যাটেলাইট। অবশিষ্ট অংশ নিয়েই ফিরবে পৃথিবীর বুকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
NASA Citizen Scientist: পেশায় এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল শুধু ইঞ্জিনিয়র নন, বিমানের নকশা তৈরির সঙ্গেই তাঁর শখের খাতায় রয়েছে কবিতা লেখা। তাঁর ব্যক্তিগত খ্যাতির ঝুলিতে রয়েছে একাধিক পুরস্কারও।
দীর্ঘ ৩৯ বছর বছর পৃথিবীতে ফিরছে এই কৃত্রিম উপগ্রহ। যে কাজে পাঠানো হয়েছিল তাকে,সেই কাজ শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। এর মধ্যেই বৃদ্ধ হয়েছে নিজেও। অতঃপর ফেরার পালা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ দাবি করেছে, পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে ১৭ ঘণ্টার কাছাকাছি সময় নেবে স্যাটেলাইটটি। নাম আর্থ রেডিয়েশন বাজেট স্যাটেলাইট বা সংক্ষেপে ইআরবিএস। মহাকাশে পাঠানো একে হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। সোমবার অর্থাৎ ৯ জানুয়ারি ভোরে পৃথিবীর আকাশে প্রবেশ করতে পারে ইআরবিএস এমনটাই প্রাথমিক ধারণা ছিল নাসার বিজ্ঞানীদের। যদিও এই সময়ের হেরফের হতে পারে এমনটাও জানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা।
এই স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল দুই বছর মহাকাশের সক্রিয় থাকার জন্য। কাজ ছিল পৃথিবীর বিকিরণের ভারসাম্যের উপর মানুষের কার্যকলাপের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিজ্ঞানীদের সরবরাহ করা। দুই বছরের হিসেব অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে তবুও কাজ চালিয়ে গিয়েছে বৃদ্ধ স্যাটেলাইট। ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা ২১ বছর মহাকাশে সক্রিয় থাকার পর আস্তে আস্তে বুড়ো হয়েছে সে। তার পরও কেটে গিয়েছে প্রায় ১৭ বছর। অবশেষে ফিরতি পথের ভাবনা নাসার তরফে।
মহাকাশ যখন তখন তার রহস্যের জাল ছেঁড়া কার্যত অসম্ভব। মুহূর্তে মুহূর্তে ভোল বদল হয় সেখানে। সাম্প্রতিক খিবিরে তাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বিজ্ঞানীরা। জানিয়েছেন, পৃথিবীর আকাশে বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে ইআরবিএস-এর থেকে আগুন ধরে যাবে। ফলে মাটিতে পড়ার আগেই তা ধ্বংস হয়ে যাবে। আপাতত তাই পৃথিবীর প্রাণীকুলের ওপর এর প্রভাব পড়বে না বলেই আশ্বস্ত করেছেন তাঁরা।







