উৎসবের মেজাজে লাগামছাড়া খাওয়াদাওয়া! যেসব স্বাস্থ্যকর চা হাল ফেরাতে পারে শরীরের

New Year 2023 Detox : ডিটক্স চা হল, বিভিন্ন উপাদান এবং মশলার মিশ্রণ যার ঔষধি গুণ রয়েছে। যাতে চুমুক দিয়ে সহজেই শরীরকে করতে পারবেন টক্সিনমুক্ত।

Kankana Mukherjee
৪ মিনিট
উৎসবের মেজাজে লাগামছাড়া খাওয়াদাওয়া! যেসব স্বাস্থ্যকর চা হাল ফেরাতে পারে শরীরের

একটা নতুন বছর, আর তাকে ঘিরে অজস্র আনন্দ ফুর্তি। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে যায়, উত্তেজনা। আমোদ, আহ্লাদ, নাচ-গান, আলোর রোশনাই আর তার সঙ্গে অবশ্যই খাওয়াদাওয়া। ভরপুর কাটে বছরের এই সময়টা। খাবার এবং পানীয়ের দোকানের বিক্রিবাট্টার হিসেবটা দেখলে রীতিমতো চোখ কপালে উঠবেই। কিন্তু এই আনন্দ করার সময় আমাদের অনেকেরই খেয়াল থাকে না স্বাস্থ্যের। অথচ এই মাত্র ছাড়া ফুর্তি কিন্তু ডেকে আনে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি। অতএব, উৎসব মিটে গেলে সাইবার আগে প্রয়োজন শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেওয়া। কিন্তু কোন উপায়ে? জেনে নিন এমনই কিছু ডিটক্স চায়ের কথা। ডিটক্স চা হল, বিভিন্ন উপাদান এবং মশলার মিশ্রণ যার ঔষধি গুণ রয়েছে। যাতে চুমুক দিয়ে সহজেই শরীরকে করতে পারবেন টক্সিনমুক্ত।

আদা, জোয়ান, লেবু চা :

এই চায়ের মূল উপকরণ হল আদা জোয়ান এবং লেবু। যার প্রত্যেকটির একাধিক ঔষধি গুণ রয়েছে। সারা রাতের আমাদের পর সকালে ঘুম থেকে উঠে এই ধরনের চেয়ে চুমুক দিলেই শরীর হয়ে উঠতে পারে চাঙ্গা। এটি যে কেবল আপনার শরীরকে ডিটক্সিফাই করবে তাই নয়, পাচন ক্রিয়াকেও ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে এই ধরনের চা।

রেসিপি - চা তৈরির জন্য প্রথমে আদা এবং জোয়ানের বীজ এক গ্লাস জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর সকালে, উপাদানগুলি সহ জল ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি কাপে মিশ্রণটি ছেঁকে তাতে অর্ধেক লেবুর রস যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিলেই তৈরি আদা, জোয়ান, লেবুর চা।

জিরা-ধনে-এলাচ চা :

এই ডিটক্স চায়ে উৎসবের পরে আপনার শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদান রয়েছে। এটি ডিটক্সিফাই করার পাশাপাশি, বদহজম, পেট ফোলা, ক্ষুধা হ্রাস এবং বমি বমি ভাবের মতো সমস্যাগুলির বিরুদ্ধেও কাজ করে।

রেসিপি - একটি পাত্রে পরিমাণ মত জল নিয়ে তাতে দুটো ছোট এলাচ, এক চামচ গোটা জিরা এবং এক চামচ গোটা ধনে দিয়ে ফুটিয়ে নিন। কেউ চাইলে এতে দু তিনটে লবঙ্গও যোগ করে নিতে পারেন। ভালো করে ফুটিয়ে মিশ্রণটি ছেঁকে নিলেই তৈরি জিরা-ধনে-এলাচ চা।

হলদি চা:

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রেন্ডিং ভেগান লাইফস্টাইল! জানেন শরীরে বাদ পড়ে যাচ্ছে কোন কোন জরুরি পুষ্টি?

Vegan: ভেগানদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন ডি, লং-চেইন ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়োডিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্ক থাকে না

কাঁচা হলুদ শরীরে জন্য খুবই উপকারী একটি উপকরণ। এর ঔষধি গুণও প্রচুর। এটি যে শুধুই শরীরের সাময়িক ক্ষতি নিরাময় করে তাই নয়, নিয়মিত সেবনে লিভারের সমস্যা মুক্তি পেতে পারে।

রেসিপি - এক বাটি গরম জলে কাঁচা হলুদ, গোটা গোল মরিচ, সামান্য আদা কুঁচি দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে কাপে ছেঁকে নিলেই প্রস্তুত চা। এর সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে গরম গরম পানি করুন হলদি চা।

জিরা জোয়ান চা :

জোয়ান এবং জিরা উভয়ই স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য ভারতীয় রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তাই সকালে এই মিশ্রনের চা সেবন খুবই উপকারী। ডিটক্সিফিকেশন এবং বিপাক বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে জোয়ান এবং জিরার চা।

রেসিপি - একইভাবে জিরা এবং জোয়ান সারা রাত এক গাকজলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সকালে সেটি ফুটিয়ে ছেঁকে নিলেই তৈরি চা।

দারুচিনি-লবঙ্গ গ্রীন টি :

গ্রীন টি এমনিতেই ওজন কমানোর জন্য খুবই উপকারী। আজকাল অনেকেই শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে নিয়মিত প্যাকেটজাত গ্রীন টি খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এর সঙ্গে কিন্তু দারুচিনি এবং লবঙ্গ যোগ করে যদি চা তৈরি করে তাহলে, সে চা একটি ডিটক্স পানীয়তে পরিণত হতে পারে। একদিকে যেমন এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে, তেমনই অন্যদিকে শরীরের বর্জ্য যা কিছু তা বের করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রেসিপি - ফুটন্ত গরম জলে থেঁতো করে দারচিনি এবং লবঙ্গ কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে সেই জলে দিয়ে গ্রীন টি মিশিয়ে ছেঁকে নিলে সহজেই তৈরি হয়ে যাবে চা।

আমলা আদা চা :

এটি পরিচিত র চায়ের একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প, যা শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। আমলকি এবং আদার মধ্যে রয়েছে ভরপুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি। ফলে সহজেই আমাদের দেহে ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল ক্ষতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এই ধরনের চা। এছাড়াও বাড়তি মেদ ঝরাতেও খুবই উপকারী এটি।

রেসিপি -

প্রথমে একটি পাত্রে ৪ কাপ পরিমাণ জল নিতে তাতে ১ চা চামচ শুকনো আমলা গুঁড়ো এবং ১ চা চামচ শুকনো আদা গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে ফোটাতে থাকুন। যতক্ষণ না পর্যন্ত জল কমে ১ কাপ হচ্ছে ততক্ষণ অবধি ফোটাতে হবে। এরপর তাকে একটু কাপে ছেঁকে তার মধ্যে সন্দুক লবণ এবং মধু মিশিয়ে পান করুন আমলা আদা চা।

মশলা গ্রীন টি :

দারুচিনির, লবঙ্গ, গ্রেট করা আদা এবং লেমনগ্রাস দিয়ে আপনার গ্রিন টি প্রস্তুত করলে এর ঔষধিগুণ বহুমাত্রায় বেড়ে যায়। এটি শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

রেসিপি -

জলের মধ্যে আদা, গোটা দারুচিনি, লবঙ্গ এবং লেমনগ্রাস দিয়ে অন্তত এক মিনিটের জন্য ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর আঁচ বন্ধ করে তাতে গ্রীন টি যোগ করে পাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের জন্য ঢেকে রাখুন। তারপর ঢাকনা খুলে একটি কাপে সেই মিশ্রণ ছেঁকে নিয়ে তার সঙ্গে কমলার রস এবং মধু যোগ করে ইচ্ছে মতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন মশলা গ্রীন টি। নিজে খান, অতিথিদেরও খাওয়ান। এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বদলে দিতে পারে জীবন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।