৪২ জন শিশু সহ শতাধিক মৃত্যু! প্রতি বর্ষায় কেন ভেসে যাচ্ছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান?
Pakistan Flood: আফগানিস্তানে গত বছর, বন্যা কবলিত হয় দেশের এক তৃতীয়াংশ। প্রায় ১,৭০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

তিনদিনের বৃষ্টিতে ৩১ জনের মৃত্যু! ভারতের দুই পড়শি দেশই ভেসে যাচ্ছে বন্যায়! আফগানিস্তানে মৌসুমী বায়ুর কারণে বৃষ্টিপাতের ফলে প্রবল বন্যায় গত তিন দিনে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। খোঁজ মেলেনি বহু বহু নাগরিকের। আর পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে ১৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। হড়পা বানে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের অবস্থা শোচনীয়। সেই দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রকের খবর বলছে, অন্তত ৩১ জন নিহত, ৭৪ জন আহত এবং ৪১ জন নিখোঁজ এই মুহূর্তে। বন্যায় মৃত অন্তত ২৫০ গবাদি পশু। রাজধানী কাবুল, ময়দান ওয়ারদাক এবং গজনি প্রদেশ ভেসে যাচ্ছে বন্যায়। অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে পশ্চিম কাবুল ও ময়দান ওয়ারদাকে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আফগানিস্তানে এবছর প্রবল খরা চলছিল। গত এপ্রিলে, জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছিল, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি এই নিয়ে টানা তিন বছর খরার মুখোমুখি হয়েছে। চাষাবাদ নেই, খাবার নেই। গুরুতর অর্থনৈতিক সঙ্কটে জেরবার আস্ত দেশ। সঙ্গে, কয়েক দশকের যুদ্ধের ক্ষত। সেই ক্ষত আর সঙ্কটের সঙ্গে জুড়েছে ভয়াবহ বন্যা।
তালিবান সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, শয়ে শয়ে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিখোঁজেরা আসলে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচেই আটকা পড়ে রয়েছে। বন্যার ফলে কারণে কয়েকশো বর্গমাইল কৃষি জমি ভেসে গেছে। কাবুল ও মধ্য বামিয়ান প্রদেশের মধ্যে মহাসড়কটিই বন্যার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Tajmahal Yamuna River Flood: বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে যমুনার জল। ইতিমধ্যেই সে ছুয়ে ফেলেছে লালকেল্লা ও তাজমহলের মতো পৃথিবীর তাবড় দুই ঐতিহাসিক সৌধকে।

পাকিস্তানের অবস্থাও তথৈবচ! রবিবার দেশের বিভিন্ন অংশে ভারী বর্ষা ও ভূমিধসের কারণে ১৩ জন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টি সংক্রান্ত নানা দুর্ঘটনায় ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতের কারণে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অন্তত ৭৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, ২৫ জুন থেকে বর্ষা শুরু হয়েছে পাকিস্তানে। তার পর থেকে সে দেশে ১৬ জন মহিলা এবং ৪২ জন শিশু সহ ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে! দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিপাতে পাকিস্তানের হায়দ্রাবাদ, মিরপুরখাস এবং সিন্ধু প্রদেশের দাদু জেলা বিপর্যস্ত। নিকাশী ব্যবস্থার অবস্থা শোচনীয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে জমা জল বের করা যাচ্ছে না। সমস্ত প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাই প্লাবিত। আর আফগানিস্তানে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতি বছর গড়ে ২০০,০০০ মানুষকে প্রভাবিত করে। গত বছর, বন্যা কবলিত হয় দেশের এক তৃতীয়াংশ। প্রায় ১,৭০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

গতবছরের বন্যায়
গতবারের বর্ষায় যারা আশ্রয়হীন হয়েছিলেন, বহুজনই তাঁবু খাটিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন কোনওমতে, এবারের বর্ষাতেও ঠিকানা আর বদলাল না তাঁদের। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্টের পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, বন্যার জল না নামার অন্যতম কারণ মাটি। এখানের মাটি ইতোমধ্যেই জলে সম্পৃক্ত! নতুন জল মাটি কীভাবেই বা টেনে নেবে আর? নিকাশী ব্যবস্থাও অপ্রতুল।
গত বছর গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছেছিল। এবার ফেব্রুয়ারি থেকেই তাপমাত্রা আবার বাড়তে থাকে। পাকিস্তানের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার মতে, প্রচণ্ড তাপ এবং বন্যা- এই চক্রটি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তাপমাত্রার দ্রুত বৃদ্ধি, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং ভারী বর্ষার কারণে এই বছর আবারও বন্যা যে বিধ্বংসী হবে তার ৭২% সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
পালটে যাওয়া জলবায়ুতে পাকিস্তান কিছু পন্থাও গ্রহণ করছে। চরম আবহাওয়া সহ্য করতে পারে এমন কৃষি পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে সেই দেশ। এমন বীজ বিতরণ করা হচ্ছে যা অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং অন্যান্য কঠিন পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকতে পারে।






