খুলে গেছে 'নরকের দ্বার', মানবসভ্যতা ধ্বংসের মুখে? আসল সত্যিটা কী?

Piya Saha
২ মিনিট
খুলে গেছে 'নরকের দ্বার', মানবসভ্যতা ধ্বংসের মুখে? আসল সত্যিটা কী?

ফের একবার খুলে গেছে 'নরকের দ্বার' (Portal to Hell)! তবে কি নতুন করে ঘনিয়ে আসতে চলেছে চরম বিপদ, যা অদূর ভবিষ্যতে শেষ করে দেবে মানবসভ্যতাকে? পাঠকরা ঘাবড়ে যাবেন না একেবারেই। এই নরকের দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার ফলাফল ততখানি ভয়ংকর নয়। তবে এই নরকের দ্বার আপনার মনে কৌতূহল জাগাতে বাধ্য। পৃথিবীর বুকে মানুষের তৈরি আশ্চর্য জিনিসগুলির মধ্যে অন্যতম এই 'নরকের দ্বার'। কিন্তু 'নরকের দ্বার' ব্যাপারটি কী? কীভাবেই বা খুলে গেল এর মুখ? বিস্তারে জেনে নেওয়া যাক‌।

'নরকের দ্বার' আসলে জল নির্গমনের জন্য তৈরি গর্ত। পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা ভ্যালিতে অবস্থিত বেরিয়েসা লেকে রয়েছে এই গর্তটি। এই লেক মানুষেরই সৃষ্টি। স্থানীয়দের কাছে এই গর্ত 'গ্লোরি হোল' নামেও পরিচিত।

বেরিয়েসা লেকের ওপর রয়েছে ৩০৪ ফুট উঁচু মন্টিক্যালো বাঁধ যার জলধারণ ক্ষমতা ৫২.১ বিলিয়ন গ্যালপ। এক্ষেত্রে লেকের জলস্তর ৪.৭ মিটারের ( ১৫.৫ ফুট) ওপরে উঠে এলে এই নির্গমন পথ ধরে জল বের করে দেওয়া হয়। ২২ মিটার চওড়া (৭২ ফুট) মুখ এবং ৭৫ মিটার দীর্ঘ (২৪৫ ফুট) এই টানেল প্রতি সেকেন্ডে ১,৩৬০ কিউবিক মিটার (৪৮,০০০ কিউবিক ফিট) জল গিলে ফেলতে পারে। টানেলের মধ্য দিয়ে জল দেড় কিলোমিটার দূরের 'পুতা ক্রিক' নামে একটি জায়গায় এসে পড়ে। লেকের অতিরিক্ত জল এর মধ্য দিয়ে বেরনোর সময় টানেলের মুখে ঘূর্ণি সৃষ্টি হয়, যা দেখতে ভিড় জমায় বহু মানুষ। গত সপ্তাহে এই টানেল খুলে যেতেই ইন্টারনেটে সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।

তবে এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালেও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে লেকের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় খুলে যায় এই গর্ত। সেই সময় কয়েকহাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন এই দৃশ্য দেখতে। তবে কোনওভাবেই ভুল করে নয়, রীতিমতো ইঞ্জিনিয়ারদের পরিকল্পনামাফিক ১৯৫০ সালে তৈরি করা হয় এই জল নির্গমন পথটি। আসলে বাঁধ নির্মাণের সময় অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়ার জন্য সর্বদাই একটি বা দু'টি দরজা থাকে বাঁধের পাশে। কিন্তু মন্টিক্যালো বাঁধটি তৈরির সময় দরজা বানানোর মতো জায়গাই ছিল। তখনই নির্মাণকর্তাদের মাথায় আসে এমন টানেল তৈরির কথা।

১৯৯৭ সালে প্রথম এবং শেষবারের মতো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে এখানে। ঘুরতে এসে এমিলি নামে একজন মহিলা পড়ে যান এই টানেলের মধ্যে। যদিও ২০ মিনিটের চেষ্টার পর কোনওরকমে উঠে এসে বসে থাকেন টানেলের গায়ে। কিন্তু উদ্ধারকারী দল পৌঁছতে দেরি করায় বাঁচানো সম্ভব হয়নি সেই মহিলাকে। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল। এই ঘটনার পর থেকেই লেকে বোটিং এবং সাঁতার কাটা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন।

তবে নির্মাণকারীদের ধারণা ছিল, ৫০ বছরে পর পর এই টানেল কাজে লাগতে পারে। কিন্তু বর্তমান শতাব্দীতেই এই নিয়ে তিনবার খুলে গেছে এই 'নরকের দ্বার'। এর থেকে কার্যত স্পষ্ট, পৃথিবীর আবহাওয়া কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এমনই আরেক ‘নরকের দরজা’ রয়েছে তুর্কমেনিস্তানেও। সেখানকার কারাকুম মরুভূমিতে গত ৫০ বছর ধরে জ্বলতে থাকা আগুনকে ঘিরেও বিস্ময়ের কমতি নেই। সেই আগুনমুখো গহ্বরের ছবিও নেটদুনিয়ায় হামেশাই দেখা যায়।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?