মানুষের নগ্ন ছবি দেখেই সাড়া দিল ভিনগ্রহীরা? কী বলছে নাসা

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
মানুষের নগ্ন ছবি দেখেই সাড়া দিল ভিনগ্রহীরা? কী বলছে নাসা

দিনসাতেক আগে নাসা নিজেদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে লাল গ্রহের শূন্য ডিগ্রি দ্রাঘিমা অঞ্চলের একটি ছবি পোস্ট করে। যে পোস্টে দেখা যাচ্ছে মঙ্গলের বুকের একটি খাতের স্পষ্ট অবস্থান। যা খানিক দেখতে লাগছে একটি সুবৃহৎ পায়ের ছাপের মতো।

কিন্তু নেটদুনিয়া রাতারাতি শোরগোল ফেলে দেয়, এটি না কি এলিয়েন বা ভিনগ্রহীদের পায়ের ছাপ। কিছুদিন আগেই নাসা মহাকাশে এলিয়েনদের আকৃষ্ট করতে নারী-পুরুষদের নগ্ন ছবি পাঠিয়েছিল। সে নিয়ে বিশাল শোরগোলও হয়েছিল নেটদুনিয়ায়। টিপ্পনীও কেটেছিল নেটিজেনরা। তাহলে কি এবার সত্যিই...

নাহ, পাঠক যা ভাবছেন তা নয়। ভিনগ্রহীরা সাড়া দেয়নি। নাসার তরফ থেকে জানানো হচ্ছে, এই ছবি আদতে তোলা ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর। আর ভিনগ্রহীদের উদ্দেশ্যে 'নিষিদ্ধ' ছবি পাঠানো হয় সপ্তাহখানেক আগে।

তাহলে আসলে এটি কীসের দাগ লাল গ্রহের গায়ে?

নাসার বক্তব্য, এটি একটি বিশাল খাত বা ক্রেটার (Crater)। যার মধ্যে আবার রয়েছে আরও একটি সুগভীর এবং বৃহৎ খাত। দ্বিতীয় এই খাতটির নাম রাখা হয়েছে আইরি খাত বা আইরি ক্রেটার। নাসার পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আইরি ক্রেটারের গায়ে সুদীর্ঘ আঁচড়ের মতো দেখতে দাগ। যেন সত্যিই কেউ পা বা হাত দিয়ে তৈরি আঁচড়ের দাগ ফেলে রেখে গেছে।

কী ভাবে তৈরি হয়েছিল এই খাত, তা যদিও নাসার তরফ থেকে জানানো হয়নি।

নাসার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলগ্রহের ঠিক শূন্য ডিগ্রি দ্রাঘিমা যেখানে, ঠিক সেখানেই এই খাত অবস্থিত। বা উল্টো করে বললে, এই সুবৃহৎ খাতটি যেখানে অবস্থিত, তাকেই শূন্য ডিগ্রি দ্রাঘিমা হিসেবে ধরে নিয়েছে নাসা।

মঙ্গলের বুকের শূন্য ডিগ্রি দ্রাঘিমা, আসলে পৃথিবীর বুকের গ্রিনিচ মিন লাইন (Greenwich Mean Line) বা প্রাইম মেরিডিয়ান (Prime Meridian)। এই শূন্য ডিগ্রি দ্রাঘিমাতে এসেই মঙ্গলের পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধ এক হয়, ঠিক নীল গ্রহ, অর্থাৎ, পৃথিবীর মতোই।

কীভাবে নাসার নজরে এল?

এই সুবৃহৎ খাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ ছবিটি তোলা হয়েছে হাই-রেজোলিউশন ইমেজিং এক্সপেরিমেন্ট (High-resolution Imaging Experiment) বা হাইরাইজের (HiRISE) সাহায্যে। এই উচ্চমানের ক্যামেরাটি ঘুরে বেড়ায় লাল গ্রহের Reconnaissance orbit-এ। আর এই ছবিটি তোলা হয়েছে মঙ্গল থেকে ২৬৮.৩ কিলোমিটার দূর থেকে। এবং ছবিটি গুণমান পিক্সেলে বোঝাতে গেলে বলতে হয়, আইরির এই ছবিটি পিক্সেল প্রতি ৫০ সেন্টিমিটার বা ১৯.৭ ইঞ্চি।

হাইরাইজ (HiRISE) কী? হাইরাইজ আসলে একটি ক্যামেরা, যা মঙ্গলের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে, এই গ্রহের বিভিন্ন ছবি তোলে। কিন্তু এটি যে সে ক্যামেরা নয়। হাইরাইজ দৃশ্যমান আলোর সাহায্যে ছবি তুলতে পারলেও, এর টেলিস্কোপের মতো দূর থেকে দেখে ছবি তোলার ক্ষমতা আছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, খুব বেশি রেজোলিউশনের ছবি, অর্থাৎ যে ছবিতে খুঁটিনাটি সবকিছু দেখা ও বোঝা যায়, এমন ছবিও তুলতে পারে হাইরাইজ। আর সেজন্যই যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে নাসার সম্প্রতি পোস্ট করা আইরি খাতের ছবিটি।

মঙ্গলের থেকে ২০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে, মঙ্গলের বুকে থাকা এক মিটার দীর্ঘ কোনও বস্তুর এত পুঙ্খানুপুঙ্খ ছবি তোলা কিন্তু চাট্টিখানি কথা না। মঙ্গলের বুকে কী খনিজ পাওয়া যাচ্ছে, বা কোথায় কোন রাসায়নিক রয়েছে গুচ্ছ-গুচ্ছ, সেই হদিশও বহুদূর থেকে দিতে পারে হাইরাইজ। নাসার ওয়েবসাইটে এই ক্যামেরার বিবরণ থেকে জানা যাচ্ছে, লাল গ্রহের এত খুঁটিনাটি ছবি নিখুঁতভাবে তুলে আনার জন্যে, এর আগে এত উচ্চমানের ক্যামেরার ব্যবহার হয়নি।

এবং এই ক্যামেরাটির মূল তত্ত্বাবধায়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনা-র লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি ল্যাবের বিজ্ঞানী অ্যালফ্রেড ম্যাকএউইন।

মঙ্গল অভিযান?

আপাতত আইরি খাতে মানুষের পা রাখার পরিকল্পনা নেই। নাসা জানাচ্ছে, আইরি নিয়ে আরও বিশদে গবেষণা করতে পার্সিভেরেন্স এবং কিউরিওসিটি রোভার। পার্সিভেরেন্স রোভার বা আদরের পার্সি মঙ্গলের বুকে এক বছর শেষও করেছে খুব সম্প্রতি। মঙ্গলে জলের সন্ধান, নদী বা ব-দ্বীপের গঠন, পলির অস্তিত্ব সবই খুঁটিয়ে দেখছে পার্সিভেরেন্স রোভার। মঙ্গলে জলের উপস্থিতি ব্যাকটেরিয়ার বেঁচে থাকার জন্যে আদর্শ। পার্সি খুঁটিয়ে দেখছে সেরকম জীব কখনও উপস্থিত ছিল কি না লাল গ্রহের বুকে।

ব্যাকটেরিয়া হোক কিংবা সত্যজিৎ রায়ের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাওয়া অদ্ভুতদর্শন অ্যাং, ভিনগ্রহে খুঁজে পাওয়া গেলেই তা ভিনগ্রহী। তাই এ-যাত্রায় আশাহত হলেও, ভিনগ্রহীদের হদিশ পেতে, পার্সিভেরেন্স এবং কিউরিওসিটি রোভার ভবিষ্যতে আশার আলো দেখাচ্ছে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?