তরুণীর 'মহব্বত'-এর উপহার নিমেষে পৌঁছে গেল কিশোরের হাতে! বাংলায় যে ম্যাজিক দেখালেন রাহুল

Bharat Jodo Nyay Yatra: তবু রাহুলের চোখ চলেই গিয়েছিল সেই তরুণীর দিকে। যার হাতে ছিল একটি টাটকা গোলাপ। যে গোলাপ প্রাণের মানুষটির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।

Sohini Das
৩ মিনিট
তরুণীর 'মহব্বত'-এর উপহার নিমেষে পৌঁছে গেল কিশোরের হাতে! বাংলায় যে ম্যাজিক দেখালেন রাহুল

'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা' সঙ্গে নিয়ে বাংলায় এসেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। জলপাইগুড়ির রাস্তা জুড়ে এগোচ্ছে 'মহব্বত' বিলোতে বিলোতে এগোচ্ছেন রাহুল। জনজোয়ারে ভাসছে উত্তরবঙ্গ। 'নফরত'-এর বাজারে একাই কি প্রেম বিলোলেন রাহুল, নাকি কিছু ফেরতও পেলেন! কংগ্রেসের এই 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'-র প্রধান উদ্দেশ্যই জনসংযোগ। আর সেই কাজে যে যথেষ্টই সফল হয়েছেন রাহুল, তাতে সন্দেহ নেই। রাস্তা উপচে পড়েছে ভিড়ে। অসংখ্য মানুষ এসেছেন প্রিয় নেতার সঙ্গে হাত মেলাতে, একটু ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছেন তরুণ কংগ্রেস নেতাকে।

অভিনয় জগতের তারকাদের জন্য সাধারণ মানুষের যে উন্মাদনা দেখা যায়, রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে বলাই বাহুল্য তা কম। তবে রাহুল যেন তার ব্যতিক্রম। জলপাইগুড়ি জুড়ে জনজোয়ার। তার মধ্যেই কোনও এক মোড়ে গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণী। তাঁর একটাই ইচ্ছে, হাতের গোলাপখানা প্রিয় নেতাকে তিনি দেবেন। না, শুধু প্রিয় নেতাই নয়, রাহুল তাঁর প্রিয়তম মানুষও বটে। নফরতের বাজারে মহব্বতের প্রতীক গোলাপ ছাড়া আর কী-ই বা হতে পারে। রাহুলের এই যাত্রার মূল স্লোগানই তো 'নফরত কি বাজার মে মহব্বত কি দুকান'। আর আজকের এই জনজোয়ারে তা-ই যেন রচনা করে দিল এক খণ্ডদৃশ্যমালা। যার নিভৃতে সাক্ষী রইল জলপাইগুড়ি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফালাকাটায় রাহুল গান্ধি? না পেলি আমাকে আর তোকেও আমি পেলাম না

Exclusive: প্রায় সাত হাজার স্থানীয় লোককে রাহুল গান্ধির 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'য় সামিল করার পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় কংগ্রেসের। কথা ছিল, চা-বলয় থেকে শ্রমিকরা আসবেন। ছাত্র-যুব-মহিলাদের সঙ্গেও মুখোমুখি কথা বলবেন রাহুল।

অত ভিড়। তবু রাহুলের চোখ চলেই গিয়েছিল সেই তরুণীর দিকে। যার হাতে ছিল একটি টাটকা গোলাপ। যে গোলাপ প্রাণের মানুষটির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ওই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়েই রাহুলের নাম নিয়ে চিৎকারও করতে দেখা যায় তাঁকে। রাহুল ফেরাননি তাঁকে। বরং ঝুঁকে পড়ে সেই তরুণীর হাত থেকে ভালোবাসার দানটুকু সযত্নে তুলে নেন কংগ্রেস নেতা। রেখে দেন নিজের কাছে সযত্নে।

এরপর যাত্রা এগোয়। আরও মোড় পেরোয়, আরও নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়। প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য ভিড় বাড়ে। হুডখোলা গাড়ির উপর থেকে রাহুলকে একটু ছোঁয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন অসংখ্য সমর্থক, ভক্ত। এগোতে এগোতে অন্য কোনও মোড়ে দেখা হয়ে যায় একটি খুদে কিশোরের সঙ্গে। আদর করে রাহুল তাঁকে গাড়িতে তুলে নেন। আলাপ জমান আরিয়ান খান নামে সেই খুদে বন্ধুর সঙ্গে। ভালো করে পড়াশোনা করারও উপদেশ দেন। নতুন বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে এগিয়ে দেন সেই গোলাপখানা। মহব্বত তো এভাবেই ছড়িয়ে যায় হাত থেকে হাতে, গড়ে তোলে এক সুবিশাল মানববন্ধন। ঠিক যেমনটা হল রবিবার ফালাকাটা থেকে জলপাইগুড়ি যাওয়ার পথে, উত্তরবঙ্গের রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গিরগিটিও লজ্জা পাবে: রংবদলু নীতীশকে নিয়ে জয়রাম রমেশ

Bharat Jodo Nyay Yatra: জলপাইগুড়ি শহর সেজে উঠেছে সেই যাত্রার জন্য। 'মহব্বত কি দুকান' বাস নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন রাহুল। জনসংযোগ করছেন।

ভোট আসে, ভোট যায়। এক দল জিতে গদির দখল নেই। অন্যদল বিরোধী আসনে বসে বিরোধিতা করে। সংসদীয় রাজনীতিতে এসব ঘটে। কিন্তু এইসব ভালোবাসার মুহূর্তে ভারতের রাজনীতিতে আর ক'টাই বা তৈরি হয়। যে ছোট কিশোর রাহুল গান্ধির হাত থেকে গোলাপখানি উপহার পেল, সেকি আদৌ রাজনীতি বোঝে! কিন্তু ভালোবাসা ঠিকই বোঝে। সেই ভালোবাসার উপহার মুখে নিয়ে তাই ক্যামেরার সামনে মিষ্টি হেসে পোজ দেয় সে। ওই ভালোবাসার গোলাপখানি নিয়ে আজ বাড়ি গিয়েছে সে। যে গোলাপের সুগন্ধ আজ মশগুল ওর মন। আর সেই যে তরুণী, যে ভালোবাসার উপহারখানি তুলে দিতে পেরেছিল প্রিয় নেতা, প্রিয় মানুষের হাতে, তাঁর মনেও কি পৌঁছে যায়নি সেই মহব্বতের গোলাপের সুঘ্রাণ।

সোমবার রাহুল তাঁর 'মহব্বত কি দুকান' নিয়ে ঢুকে পড়বেন বিহারে। সেখানেও হয়তো তৈরি হবে ভালোবাসার মুহূর্তমালা। তারপর ফের যাত্রা ফিরবে বাংলায়। বীরভূম, বহরমপুর হয়ে তা বাংলার সীমানা পেরিয়ে যাবে ঝাড়খণ্ডে। ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের জনসংযোগ ও প্রচারের বড় হাতিয়ার হয়তো এই 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'। তবে সে সবকে তুচ্ছ করে যে ভালোবাসার মরসুম ছড়িয়ে দিয়ে গেলেন রাহুল, তা বোধহয় মনে থাকবে অনেকেরই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।