তরুণীর 'মহব্বত'-এর উপহার নিমেষে পৌঁছে গেল কিশোরের হাতে! বাংলায় যে ম্যাজিক দেখালেন রাহুল
Bharat Jodo Nyay Yatra: তবু রাহুলের চোখ চলেই গিয়েছিল সেই তরুণীর দিকে। যার হাতে ছিল একটি টাটকা গোলাপ। যে গোলাপ প্রাণের মানুষটির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।

'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা' সঙ্গে নিয়ে বাংলায় এসেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। জলপাইগুড়ির রাস্তা জুড়ে এগোচ্ছে 'মহব্বত' বিলোতে বিলোতে এগোচ্ছেন রাহুল। জনজোয়ারে ভাসছে উত্তরবঙ্গ। 'নফরত'-এর বাজারে একাই কি প্রেম বিলোলেন রাহুল, নাকি কিছু ফেরতও পেলেন! কংগ্রেসের এই 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'-র প্রধান উদ্দেশ্যই জনসংযোগ। আর সেই কাজে যে যথেষ্টই সফল হয়েছেন রাহুল, তাতে সন্দেহ নেই। রাস্তা উপচে পড়েছে ভিড়ে। অসংখ্য মানুষ এসেছেন প্রিয় নেতার সঙ্গে হাত মেলাতে, একটু ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছেন তরুণ কংগ্রেস নেতাকে।
অভিনয় জগতের তারকাদের জন্য সাধারণ মানুষের যে উন্মাদনা দেখা যায়, রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে বলাই বাহুল্য তা কম। তবে রাহুল যেন তার ব্যতিক্রম। জলপাইগুড়ি জুড়ে জনজোয়ার। তার মধ্যেই কোনও এক মোড়ে গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণী। তাঁর একটাই ইচ্ছে, হাতের গোলাপখানা প্রিয় নেতাকে তিনি দেবেন। না, শুধু প্রিয় নেতাই নয়, রাহুল তাঁর প্রিয়তম মানুষও বটে। নফরতের বাজারে মহব্বতের প্রতীক গোলাপ ছাড়া আর কী-ই বা হতে পারে। রাহুলের এই যাত্রার মূল স্লোগানই তো 'নফরত কি বাজার মে মহব্বত কি দুকান'। আর আজকের এই জনজোয়ারে তা-ই যেন রচনা করে দিল এক খণ্ডদৃশ্যমালা। যার নিভৃতে সাক্ষী রইল জলপাইগুড়ি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Exclusive: প্রায় সাত হাজার স্থানীয় লোককে রাহুল গান্ধির 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'য় সামিল করার পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় কংগ্রেসের। কথা ছিল, চা-বলয় থেকে শ্রমিকরা আসবেন। ছাত্র-যুব-মহিলাদের সঙ্গেও মুখোমুখি কথা বলবেন রাহুল।
অত ভিড়। তবু রাহুলের চোখ চলেই গিয়েছিল সেই তরুণীর দিকে। যার হাতে ছিল একটি টাটকা গোলাপ। যে গোলাপ প্রাণের মানুষটির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ওই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়েই রাহুলের নাম নিয়ে চিৎকারও করতে দেখা যায় তাঁকে। রাহুল ফেরাননি তাঁকে। বরং ঝুঁকে পড়ে সেই তরুণীর হাত থেকে ভালোবাসার দানটুকু সযত্নে তুলে নেন কংগ্রেস নেতা। রেখে দেন নিজের কাছে সযত্নে।

এরপর যাত্রা এগোয়। আরও মোড় পেরোয়, আরও নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়। প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য ভিড় বাড়ে। হুডখোলা গাড়ির উপর থেকে রাহুলকে একটু ছোঁয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন অসংখ্য সমর্থক, ভক্ত। এগোতে এগোতে অন্য কোনও মোড়ে দেখা হয়ে যায় একটি খুদে কিশোরের সঙ্গে। আদর করে রাহুল তাঁকে গাড়িতে তুলে নেন। আলাপ জমান আরিয়ান খান নামে সেই খুদে বন্ধুর সঙ্গে। ভালো করে পড়াশোনা করারও উপদেশ দেন। নতুন বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে এগিয়ে দেন সেই গোলাপখানা। মহব্বত তো এভাবেই ছড়িয়ে যায় হাত থেকে হাতে, গড়ে তোলে এক সুবিশাল মানববন্ধন। ঠিক যেমনটা হল রবিবার ফালাকাটা থেকে জলপাইগুড়ি যাওয়ার পথে, উত্তরবঙ্গের রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bharat Jodo Nyay Yatra: জলপাইগুড়ি শহর সেজে উঠেছে সেই যাত্রার জন্য। 'মহব্বত কি দুকান' বাস নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন রাহুল। জনসংযোগ করছেন।

ভোট আসে, ভোট যায়। এক দল জিতে গদির দখল নেই। অন্যদল বিরোধী আসনে বসে বিরোধিতা করে। সংসদীয় রাজনীতিতে এসব ঘটে। কিন্তু এইসব ভালোবাসার মুহূর্তে ভারতের রাজনীতিতে আর ক'টাই বা তৈরি হয়। যে ছোট কিশোর রাহুল গান্ধির হাত থেকে গোলাপখানি উপহার পেল, সেকি আদৌ রাজনীতি বোঝে! কিন্তু ভালোবাসা ঠিকই বোঝে। সেই ভালোবাসার উপহার মুখে নিয়ে তাই ক্যামেরার সামনে মিষ্টি হেসে পোজ দেয় সে। ওই ভালোবাসার গোলাপখানি নিয়ে আজ বাড়ি গিয়েছে সে। যে গোলাপের সুগন্ধ আজ মশগুল ওর মন। আর সেই যে তরুণী, যে ভালোবাসার উপহারখানি তুলে দিতে পেরেছিল প্রিয় নেতা, প্রিয় মানুষের হাতে, তাঁর মনেও কি পৌঁছে যায়নি সেই মহব্বতের গোলাপের সুঘ্রাণ।
সোমবার রাহুল তাঁর 'মহব্বত কি দুকান' নিয়ে ঢুকে পড়বেন বিহারে। সেখানেও হয়তো তৈরি হবে ভালোবাসার মুহূর্তমালা। তারপর ফের যাত্রা ফিরবে বাংলায়। বীরভূম, বহরমপুর হয়ে তা বাংলার সীমানা পেরিয়ে যাবে ঝাড়খণ্ডে। ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের জনসংযোগ ও প্রচারের বড় হাতিয়ার হয়তো এই 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'। তবে সে সবকে তুচ্ছ করে যে ভালোবাসার মরসুম ছড়িয়ে দিয়ে গেলেন রাহুল, তা বোধহয় মনে থাকবে অনেকেরই।







