তেলঙ্গানার গদিতে রেবন্তই, হায়দরাবাদের এলাহি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ডাক পেলেন যাঁরা...

Revanth Reddy, Telangana: অনুগামী-সমর্থকদের কাছে তাঁর পরিচয় টাইগার রেবন্ত। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে সোনিয়া গান্ধি, রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধির যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Sohini Das
৩ মিনিট
তেলঙ্গানার গদিতে রেবন্তই, হায়দরাবাদের এলাহি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ডাক পেলেন যাঁরা...

পাঁচ রাজ্যের মধ্যে শুধুমাত্র তেলঙ্গানায় জয় এসেছে কংগ্রসের। বাকি সবকটি রাজ্যে হেরে ভূত তারা। আর সেই রাজ্যেও মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই ভাবনা নিয়ে নানা দ্বন্দ্ব, সংশয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটা দিন চলেও গিয়েছে। তেলঙ্গানার কংগ্রেস সভাপতি অনুমুলা রেবন্ত রেড্ডির মুখ্যমন্ত্রীত্বের প্রশ্নে একমত হতে পারেননি দলের ৬৪ জন বিধায়ক। সেই নিয়ে চলেছে টানাপড়েনও। অবশেষে সেই মেঘ কেটেছে। তেলঙ্গানায় মুখ্য়মন্ত্রীর গদিতে বসতে চলেছে রেবন্তই। বৃহস্পতিবারই হায়দরাবাদের এলবি স্টেডিয়ামে শপথ নেওয়ার কথা তাঁর।

তেলঙ্গানায় জয় সহজ ছিল না কংগ্রেসের জন্য। মধ্যপ্রদেশ বা ছত্তীসগঢ়ের মতো প্রত্যাশিত জয় হাতছাড়া হয়েছে যেখানে, সেখানে তেলঙ্গানার মতো শক্ত মাটিতে কংগ্রেসের এই জয় যেন সত্যিই রূপকথা। দশ বছর ধরে তেলঙ্গানা দখলে রেখেছিল বিআরএস। মনে করা হচ্ছে, তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করে এই দুর্গজয়ের নেপথ্যে ছিলেন সুনীল কানুগোলু নামে এক ভোটকুশলির হাত। তবে জিতেও যেন স্বস্তি মেলেনি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের। রাজ্য কংগ্রেসের সভারতি রেবন্ত রেড্ডিই যে মুখ্যমন্ত্রীর আসন পেতে চলেছেন তেলঙ্গানায়, তা একরকম স্থিরই ছিল। কিন্তু বাগরা দেন রাজ্য কংগ্রেসের অন্যান্য জয়ী বিধায়করাই। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন রেবন্তের কংগ্রেসের প্রতি একনিষ্ঠতা নিয়েও। কারণ অনেকেই মনে করেছেন, রেবন্ত রেড্ডির উত্থান বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র হাত ধরেই। তার উপর তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। এমনকী জেলও খেটেছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, ২০১৫ সালে টাকার চন্দ্রবাবু নাইডুর এজেন্ট হওয়ারও অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এর আগে বিআরএসেও কিছুদিন ছিলেন রেবন্ত। সব মিলিয়ে কংগ্রেসের প্রতি কতটা বিশ্বস্ত হবেন রেবন্ত, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন দলের দলের অনেক বরিষ্ঠ নেতাই। আর সেই আপত্তি-ওজরের গেরোতেই ঝুলছিল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রেবন্তের ভাগ্যখানা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হতে পারছেন না রেবন্ত রেড্ডি! তেলঙ্গানাতে কংগ্রেসের মধ্যেই ফের সংঘাত কেন?

Revanth Reddy Telangana Election : বিজেপির ছাত্র সংগঠন ABVP-এর হাত ধরেই রাজনীতিতে আসা রেবন্ত রেড্ডির। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষের অভিযোগে, জেলও খেটেছেন।

তবে সেই সব দ্বন্দ্ব-সংশয় শেষপর্যন্ত মিটেছে। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের এলবি স্টেডিমায়ে আরও বারো জন মন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্য়মন্ত্রীর পদে শপথ নিতে চলেছেন রেবন্ত রেড্ডিও। আয়োজন করা হয়েছে জমকালো একটি অনুষ্ঠানের। উত্তম কুমার রেড্ডি, শ্রীধর বাবু, পোনম প্রভাকর, কোমাতিরেড্ডি ভেঙ্কট রেড্ডি, দামোদর রাজনারসিমহা, পঙ্গুলেতি শ্রীনিবাস রেড্ডি, দানা অনসূয়া, তুম্মলা নাগেশ্বর রাও, কোন্ডা সুরেখা এবং জুপল্লী কৃষ্ণ রাও- এই বারো জন জায়গা পেতে চলেছেন রেবন্তের মন্ত্রিসভায়। উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ পাচ্ছেন মাল্লু ভাট্টি বিক্রমার্ক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাজস্থানে কি বালকনাথ? কোথায় কাকে মুখ্যমন্ত্রী বাছবে বিজেপি

Assembly Polls 2023: তিনটি রাজ্যে কে হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে একাধিক বৈঠক সেরেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় বিজেপির তিন মাথা এক হচ্ছে বারবার।

অনুগামী-সমর্থকদের কাছে তাঁর পরিচয় টাইগার রেবন্ত। ভোটজয়ের পর তার বিরাট ব়্যালি ও তাতে শত শত সমর্থকদের ভিড়, বুঝিয়ে দিয়েছে তাঁর জনপ্রিয়তা। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে সোনিয়া গান্ধি, রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধির যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় এক লক্ষ লোকের আসার কথা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। পাঁচ রাজ্যের ভোটে একমাত্র তেলঙ্গানাতেই কংগ্রেসের মুখরক্ষা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই জয় নিয়ে কংগ্রেসের উদযাপনের মাত্রা বেশ বেশি। কামারেডি ও কোদাঙ্গল- এই দু'টি আসন থেকে বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রেবন্ত। কামারেডি আসনে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল কেসিআর। তবে সেখানে জিতে গিয়েছে বিজেপি। তবে কোদাঙ্গল আসনে মুখরক্ষা হয়েছে রেবন্তের।

শুধু সনিয়া-রাহুল নন। একগুচ্ছ হেবিওয়েটের উপস্থিত থাকার কথা এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট মল্লিকার্জুন খাড়্গে থেকে শুরু করে দলের জেনারেল সেক্রেটারি কেসি ভেনুগোপালেরও উপস্থিত থাকতে চলেছেন। থাকবেন তেলঙ্গানা কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত মাণিকরাও ঠাকরেও। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেসিআরতেও। একই সঙ্গে থাকার কথা কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও তাঁর উপমুখ্য়মন্ত্রী ডিকে শিবকুমারেও। তামিলনাড়ুর মুখ্য়মন্ত্রী এমকে স্টালিন, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস জগনমোহব রেড্ডি থেকে শুরু করে টিডিপি প্রধান এন চন্দ্রবাবু নাইডুকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়ছে অনুষ্ঠানে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই এক ৩৮ বছরের মহিলাকে চাকরি দেওয়াক কথা রেবন্তের। পাশাপাশি পোলগ্যারান্টির ফাইলেও সই করার কথা রয়েছে তাঁর। কংগ্রেসের এই তরুণ তুর্কির হাতে কেমন গড়ায় তেলঙ্গানার চাকা, সেটাই এখন দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।