তেলঙ্গানার গদিতে রেবন্তই, হায়দরাবাদের এলাহি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ডাক পেলেন যাঁরা...
Revanth Reddy, Telangana: অনুগামী-সমর্থকদের কাছে তাঁর পরিচয় টাইগার রেবন্ত। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে সোনিয়া গান্ধি, রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধির যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পাঁচ রাজ্যের মধ্যে শুধুমাত্র তেলঙ্গানায় জয় এসেছে কংগ্রসের। বাকি সবকটি রাজ্যে হেরে ভূত তারা। আর সেই রাজ্যেও মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই ভাবনা নিয়ে নানা দ্বন্দ্ব, সংশয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটা দিন চলেও গিয়েছে। তেলঙ্গানার কংগ্রেস সভাপতি অনুমুলা রেবন্ত রেড্ডির মুখ্যমন্ত্রীত্বের প্রশ্নে একমত হতে পারেননি দলের ৬৪ জন বিধায়ক। সেই নিয়ে চলেছে টানাপড়েনও। অবশেষে সেই মেঘ কেটেছে। তেলঙ্গানায় মুখ্য়মন্ত্রীর গদিতে বসতে চলেছে রেবন্তই। বৃহস্পতিবারই হায়দরাবাদের এলবি স্টেডিয়ামে শপথ নেওয়ার কথা তাঁর।
তেলঙ্গানায় জয় সহজ ছিল না কংগ্রেসের জন্য। মধ্যপ্রদেশ বা ছত্তীসগঢ়ের মতো প্রত্যাশিত জয় হাতছাড়া হয়েছে যেখানে, সেখানে তেলঙ্গানার মতো শক্ত মাটিতে কংগ্রেসের এই জয় যেন সত্যিই রূপকথা। দশ বছর ধরে তেলঙ্গানা দখলে রেখেছিল বিআরএস। মনে করা হচ্ছে, তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করে এই দুর্গজয়ের নেপথ্যে ছিলেন সুনীল কানুগোলু নামে এক ভোটকুশলির হাত। তবে জিতেও যেন স্বস্তি মেলেনি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের। রাজ্য কংগ্রেসের সভারতি রেবন্ত রেড্ডিই যে মুখ্যমন্ত্রীর আসন পেতে চলেছেন তেলঙ্গানায়, তা একরকম স্থিরই ছিল। কিন্তু বাগরা দেন রাজ্য কংগ্রেসের অন্যান্য জয়ী বিধায়করাই। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন রেবন্তের কংগ্রেসের প্রতি একনিষ্ঠতা নিয়েও। কারণ অনেকেই মনে করেছেন, রেবন্ত রেড্ডির উত্থান বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র হাত ধরেই। তার উপর তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। এমনকী জেলও খেটেছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, ২০১৫ সালে টাকার চন্দ্রবাবু নাইডুর এজেন্ট হওয়ারও অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এর আগে বিআরএসেও কিছুদিন ছিলেন রেবন্ত। সব মিলিয়ে কংগ্রেসের প্রতি কতটা বিশ্বস্ত হবেন রেবন্ত, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন দলের দলের অনেক বরিষ্ঠ নেতাই। আর সেই আপত্তি-ওজরের গেরোতেই ঝুলছিল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রেবন্তের ভাগ্যখানা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Revanth Reddy Telangana Election : বিজেপির ছাত্র সংগঠন ABVP-এর হাত ধরেই রাজনীতিতে আসা রেবন্ত রেড্ডির। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষের অভিযোগে, জেলও খেটেছেন।
তবে সেই সব দ্বন্দ্ব-সংশয় শেষপর্যন্ত মিটেছে। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের এলবি স্টেডিমায়ে আরও বারো জন মন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্য়মন্ত্রীর পদে শপথ নিতে চলেছেন রেবন্ত রেড্ডিও। আয়োজন করা হয়েছে জমকালো একটি অনুষ্ঠানের। উত্তম কুমার রেড্ডি, শ্রীধর বাবু, পোনম প্রভাকর, কোমাতিরেড্ডি ভেঙ্কট রেড্ডি, দামোদর রাজনারসিমহা, পঙ্গুলেতি শ্রীনিবাস রেড্ডি, দানা অনসূয়া, তুম্মলা নাগেশ্বর রাও, কোন্ডা সুরেখা এবং জুপল্লী কৃষ্ণ রাও- এই বারো জন জায়গা পেতে চলেছেন রেবন্তের মন্ত্রিসভায়। উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ পাচ্ছেন মাল্লু ভাট্টি বিক্রমার্ক।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Assembly Polls 2023: তিনটি রাজ্যে কে হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে একাধিক বৈঠক সেরেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় বিজেপির তিন মাথা এক হচ্ছে বারবার।
অনুগামী-সমর্থকদের কাছে তাঁর পরিচয় টাইগার রেবন্ত। ভোটজয়ের পর তার বিরাট ব়্যালি ও তাতে শত শত সমর্থকদের ভিড়, বুঝিয়ে দিয়েছে তাঁর জনপ্রিয়তা। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে সোনিয়া গান্ধি, রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধির যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় এক লক্ষ লোকের আসার কথা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। পাঁচ রাজ্যের ভোটে একমাত্র তেলঙ্গানাতেই কংগ্রেসের মুখরক্ষা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই জয় নিয়ে কংগ্রেসের উদযাপনের মাত্রা বেশ বেশি। কামারেডি ও কোদাঙ্গল- এই দু'টি আসন থেকে বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রেবন্ত। কামারেডি আসনে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল কেসিআর। তবে সেখানে জিতে গিয়েছে বিজেপি। তবে কোদাঙ্গল আসনে মুখরক্ষা হয়েছে রেবন্তের।
শুধু সনিয়া-রাহুল নন। একগুচ্ছ হেবিওয়েটের উপস্থিত থাকার কথা এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট মল্লিকার্জুন খাড়্গে থেকে শুরু করে দলের জেনারেল সেক্রেটারি কেসি ভেনুগোপালেরও উপস্থিত থাকতে চলেছেন। থাকবেন তেলঙ্গানা কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত মাণিকরাও ঠাকরেও। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেসিআরতেও। একই সঙ্গে থাকার কথা কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও তাঁর উপমুখ্য়মন্ত্রী ডিকে শিবকুমারেও। তামিলনাড়ুর মুখ্য়মন্ত্রী এমকে স্টালিন, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস জগনমোহব রেড্ডি থেকে শুরু করে টিডিপি প্রধান এন চন্দ্রবাবু নাইডুকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়ছে অনুষ্ঠানে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই এক ৩৮ বছরের মহিলাকে চাকরি দেওয়াক কথা রেবন্তের। পাশাপাশি পোলগ্যারান্টির ফাইলেও সই করার কথা রয়েছে তাঁর। কংগ্রেসের এই তরুণ তুর্কির হাতে কেমন গড়ায় তেলঙ্গানার চাকা, সেটাই এখন দেখার।







