রাজস্থানে কি বালকনাথ? কোথায় কাকে মুখ্যমন্ত্রী বাছবে বিজেপি
Assembly Polls 2023: তিনটি রাজ্যে কে হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে একাধিক বৈঠক সেরেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় বিজেপির তিন মাথা এক হচ্ছে বারবার।

পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার মধ্যে চারটিতেই নিরঙ্কুষ জয় পেয়েছে বিজেপি। মোদি-ঝড়ের দাপটে কার্যত উড়ে গিয়েছে ওই চার রাজ্যের অন্য সমস্ত দল। এবার কাজ সেই সব রাজ্যের জন্য় মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়া। আর সেখানে গিয়েই ধন্দে পড়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কারণ শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিলে তো চলবে না। সামনে আরও বড় লড়াই। ফলে আপাতত মোদি সরকারের পাখির চোখ ২০২৪ লোকসভা ভোট। আর সেই ভোটজয়ের পথে রাস্তায় যাতে কোনও রকম আপদবিপদ না আসে, তা নিয়ে গোড়া থেকেই সাবধানী কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এই তিন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে সেই দিকের কথা খেয়াল রেখেই।
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তীসগঢ়- এই তিন রাজ্যেই যেন বেশি করে নজর দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিনটি রাজ্যেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে গেরুয়া দল। ইতিমধ্যেই এই তিনটি রাজ্যে কে হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে একাধিক বৈঠক সেরেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় বিজেপির তিন মাথা এক হচ্ছে বারবার। একজন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দ্বিতীয় জন বিজেপির চাণক্য অমিত শাহ, যিনি আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। অন্যজন বিজেপি দলের প্রধান জেপি নড্ডা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ডাকা হয় বৈঠক। যেখানে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ ও বিজেপি চিফ জে পি নড্ডা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে তিন মাথার।
তবে এই ম্যারাথন বৈঠকের আগে ওই তিনরাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন শাহ ও নাড্ডা। সেখান থেকে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি নাম। এ বার সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনায় বসে বিজেপির তিন মাথা। জানা গিয়েছে, খুব শিগগিরই এই তিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে পারে বিজেপি হেডকোয়ার্টার। কী কাজ হতে চলেছে এই পর্যবেক্ষকদের? জানা গিয়েছে, নবনির্বাচিত বিধায়ক যাঁরা, তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে, বৈঠক করে বিধানসভার নেতা নির্বাচনের সাহায্য করবেন তাঁরা। বোঝাই যাচ্ছে, ২০২৪-র লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়েই বাকি সমস্ত কিছুর সিদ্ধান্ত এখন নিচ্ছে বিজেপি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sunil Kanugolu: জাতীয় রাজনীতির নয়া চাণক্য বললেও ভুল হবে না খুব। যিনি সঙ্গে থাকলে হয়তো কংগ্রেসকে ঠেকানো কঠিন হত কর্ণাটক, ছত্তীসগঢ় বা রাজস্থানেও, এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

নতুন করে জাতীয় রাজনীতিতে জেগেছে বিজেপি-বিরোধিতার হাওয়া। ইতিমধ্যেই জোট গড়েছে একাধিক কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ একাধিক বিজেপি-বিরোধী দল। তবে তেমন ভাবে একজোট হতে পারছে না জোট ইন্ডিয়া। দলের সকলের সঙ্গে সকলের তেমন বনিবনা নেই। বারবার মতানৈক্যর বাতাস এসে যেন লাগছে ইন্ডিয়ার পালে। বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের বিপুল পরাজয় যেন ইন্ডিয়া জোটের সেই খুঁটিকেই আরও নড়বড়ে করে দিয়েছে। তবে সেই ফাঁক দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস না নিয়ে বরং আরও কষে কোমর বাঁধছে বিজেপি। ২০২৪ লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপ মেপে ফেলতে চাইছে তারা। এমনকী জয়ী রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনেও থাকছে সেই ছাপ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Congress Defeat in Assembly Election 2023 : কেন এমন শোচনীয় পরাজয় কংগ্রেসের? কী কী দুর্বলতা রয়ে গিয়েছে সংগঠনে? কী কী শিক্ষণীয় রাহুল গান্ধীর? কলমে বরিষ্ঠ সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা।

মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রীত্বের পয়লা নম্বর পদপ্রার্থী শিবরাজ সিং চৌহান। তবে তালিকা সেখানেও দীর্ঘ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ প্যাটেল, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, নরেন্দ্র সিংহ তোমর এবং রাজ্যের প্রবীণ নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও রয়েছে দৌড়ে। এদিকে রাজস্থানেও ছবিটা একই রকম। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সেখানে এখনও জনপ্রিয় মুখ। বিধায়ক হিসেবে ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। লড়াইয়ে রয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শিখাওয়াত ও অর্জুন রাম মেঘওয়াল, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সিপি জোশী ও রাজনীতির চেনা মুখ দিয়া কুমারী ও মহন্ত বালকনাথ। এবার এতগুলো নামের মধ্যে থেকে কাকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, সেটাই দেখার।
ছত্তীসগঢ়েও রয়েছে একই রকম ভাবে একাধিক মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং থেকে শুরু করে রাজ্যের বিজেপি সভাপতি অরুণ কুমার সাও, বিরোধী নেতা ধরমলাল কৌশিক এবং প্রাক্তন আইএএস অফিসার ওপি চৌধুরী, লড়াইয়ে রয়েছে ছত্তীসগঢ়ের একাধিক পরিচিত মুখ। একটা কথা পরিষ্কার, এই তিন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে চমক থাকতে চলেছে ভালোই। অন্তত তেমনটাই আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। রাজস্থান, মধ্য়প্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়ে কোন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ আদতে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের জন্য লাভজনক প্রমাণিত হবে, সেই সব দিক বিচার করেই শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। যদিও মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।







