রিকশায় ঘুরেছেন ভারত, কলকাতার সত্যেন দাস স্বপ্ন দেখাচ্ছেন অনেককে

একটি প্ল্যাকার্ড এবং তার রিকশা। তাতেই তিনি দুনিয়াকে পাল্টানোর স্বপ্ন দেখেন। তার পেট চালানোর একমাত্র সম্বল সেই রিকশা নিয়েই তিনি ঘুরে ফেলেছেন পুরী, লাদাখ, বৈষ্ণোদেবী, দার্জিলিং। সেই সঙ্গে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বার্তা, পরিবেশকে রক্ষা করার।

Satyaki Tat
৪ মিনিট
রিকশায় ঘুরেছেন ভারত, কলকাতার সত্যেন দাস স্বপ্ন দেখাচ্ছেন অনেককে

মালালা ইউসুফজাই বলেছিলেন, "One book, one pen, one child, and one teacher can change the world." আমাদের কলকাতার সত্যেন দাসের সেইটুকুরও প্রয়োজন নেই। একটি প্ল্যাকার্ড এবং তার রিকশা। তাতেই তিনি দুনিয়াকে পাল্টানোর স্বপ্ন দেখেন। তার পেট চালানোর একমাত্র সম্বল সেই রিকশা নিয়েই তিনি ঘুরে ফেলেছেন পুরী, লাদাখ, বৈষ্ণোদেবী, দার্জিলিং। সেই সঙ্গে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বার্তা, পরিবেশকে রক্ষা করার।

কিছুদিন আগেই দার্জিলিং ম্যাল রোডে ছিলেন তিনি। নিজের রিকশা নিয়ে। তাতে পৃথিবীকে বাঁচানোর নানা বার্তা দেওয়া। পথচলতি উৎসুক মানুষ তাঁকে দেখছিলেন, অনেকে এসে কথা বলে যাচ্ছিলেন। সাইকেল, বাইক নিয়ে অনেককেই দেখা যায় হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে। রিকশা নিয়েও আগে কেউ করেননি তা নয়, কিন্তু সংখ্যাটা এতটাই কম যে, সহজে চোখে ধরা পড়ে না।

সময়টা ১৯৯৩। তাঁর গ্রামের কিছু বন্ধু পুরী যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। বাজেট ছিল ৪০০ টাকা করে, কিন্তু রিকশা চালিয়ে তাঁর যা উপার্জন হতো, তাতে ৪০০ টাকা দিয়ে পুরী যাওয়ার কথা ভাবতে পারছিলেন না তিনি সেই সময়ে। সেই সময়ে তার এক শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে সাইকেলে করে পুরী যাওয়ার বুদ্ধি দেন। তিনি নিজে কলকাতা থেকে হরিদ্বার সাইকেলে ভ্রমণ করেছিলেন। এমন একজন মানুষের থেকে পরামর্শ পেয়ে সত্যেন আর ভাবেননি। বন্ধুর থেকে সাইকেল ধার করে বেরিয়ে পড়েন এবং আড়াই দিনে পৌঁছে যান পুরী। সেই যাত্রা থেকে আত্মবিশ্বাস পেয়ে ওই বছরই তিনি সাইকেলে দার্জিলিং এবং হরিদ্বার যান।

১৯৯৪-এর ডিসেম্বরে তিনি ভারতভ্রমণে বেরনোর পরিকল্পনা করেন। সঙ্গী বলতে ভারতের ম্যাপ, গাইড বই এই অবশ্যই সাইকেল। সাইকেলের সামনে প্ল্যাকার্ড ঝুলছিল, 'সারে জাঁহা সে আচ্ছা, হিন্দুস্তান হামারা। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, ইসাহি, জৈন, সাব এক।'

তিনি উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পণ্ডিচেরি, কেরল, কর্নাটক, গোয়া, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, বাংলা, সিকিম, আসাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়, সব ঘুরে ফেলেন। সময় লেগেছিল ৪০৩ দিন।

তারপর কিছুদিন তিনি বিশ্রাম নেন। বিবাহ করেন, কিছুদিন পর তাঁর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। ২০০৭ সালে তাঁর স্ত্রী মুন্নি এবং কন্যা সুকন্যাকে নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন। এবার গন্তব্য পুরী এবং পরিবার নিয়ে যাত্রা, তাই বাহন রিকশা। সেই রিকশাতেই ২০০৮ সালে বৈষ্ণোদেবী, এবং সেই বছরেই রোটাং পাস, যার জন্য লিমকা বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম ওঠে তাঁর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অশান্ত কাশ্মীর ভরিয়ে তুলছেন সবুজে, দু'লাখের বেশি গাছ লাগিয়েছেন 'বৃক্ষমানব'

পঞ্চাশোর্ধ্ব হামিদ শ্রীনগরের বাসিন্দা। উপত্যকার জনশূন্য এলাকায় দু'লাখেরও বেশি গাছ লাগিয়ে হামিদ কাশ্মীরের বৃক্ষমানব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে উপত্যকায় ১০ লাখ বৃক্ষরোপণ করবেন।

তাঁর স্বপ্নের গন্তব্য ছিল লাদাখ। কিন্তু অনেকেই তাঁকে নিরুৎসাহ করেছিলেন, কারণ তাঁদের আশঙ্কা ছিল অত চড়াই রাস্তাতে তিনি রিকশা নিয়ে উঠতে পারবেন না। কিন্তু ২০১৪ সালে তিনি তাঁর স্বপ্ন পূরণ করেন। রাস্তায় তীব্র কষ্ট সহ্য করা সত্ত্বেও তিনি লাদাখ পৌঁছে যান।

২০১৮ এবং ২০২১ সালে তিনি আবার লাদাখে ফেরত যান। সিয়াচেনের সেনাছাউনি অবধি পৌঁছে যান তিনি। সেখানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন, এবং একজন সেনার শুশ্রুষাতে সুস্থ হন। অনেক কষ্ট করে সেখানে পৌঁছলেও, ওখানকার মানুষ এবং পর্যটকদের থেকে তিনি প্রভূত ভালবাসা পেয়েছিলেন। এমনকী, তাঁর এই লাদাখ ভ্রমণের ওপর একজন তথ্যচিত্রও বানিয়েছেন। নাম 'লাদাখ চলে রিকশাওয়ালা'।

২০১৪ সালে SECMOL বা Students' Educational and Cultural Movement of Ladakh-এর ক্যাম্পাসে তাঁকে আমন্ত্রণ করেন সোনাম ওয়াংচুক, যাঁর অনুপ্রেরণাতে তৈরি হয়েছিল বিখ্যাত সিনেমা 'থ্রি ইডিয়টস'। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করেন সত্যেন এবং ছাত্রদের সঙ্গে বিশ্বশান্তি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে ওঁর সেই রিকশা নিয়ে আর ফেরত আসতে পারেননি তিনি। ওই ক্যাম্পাসেই স্মারক হিসেবে তা রাখা আছে।

সারা দেশ ভ্রমণ করার সময়েই তিনি নিজের পরিবেশপ্রেম উপলব্ধি করেন। দূষিত শহর, এবং পরিচ্ছন্ন গ্রাম- সবই দেখেছেন তিনি। দেখেছেন প্রান্তিক গ্রামগুলিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সেইসব দেখেই তাঁর মনে হয় যে, পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেওয়া খুব প্রয়োজন। প্রয়োজন মানুষকে সচেতন করা।

যেমন ভাবা, তেমন কাজ। জল সংরক্ষণ করতে বলা, বৃক্ষরোপণ করতে বলা, এইসব বার্তা ছড়িয়ে দিতে থাকেন তিনি। লাদাখ যাওয়ার সময় নিজের সঙ্গে তিনি খেজুরগাছের বীজ নিয়ে বেরোন এবং সেগুলি রোপণ করেন। দার্জিলিং যাওয়ার পথেও তিনি অশোক ফুল গাছের বীজ নিয়ে বেরোন।

তাঁর কন্যা এখন উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। পিতার মতোই সেও প্রকৃতিপ্রেমী এবং স্নাতকে সে পরিবেশবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়।

প্রত্যেকবারই বেরনোর আগে তাঁর কিছু প্রস্তুতি থাকে। খরচ হিসেব করে নেওয়া, যাত্রাপথ বুঝে নেওয়া, আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা করে নেওয়া। তবে আলাদা করে শরীরচর্চার প্রয়োজন পড়ে না, তিনি দাবি করেন, তিনি খুবই ফিট। সে দাবি খুবই ন্যায়সংগত। যে মানুষ রিকশা নিয়ে লাদাখ যেতে পারেন, তাঁর কারও থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

সেই সঙ্গে তিনি রিকশাকে ভালো করে পরীক্ষা করে নেন। সব যন্ত্রাংশ ঠিকমতো চলছে কি না, দেখে নেন। কিছু বিষয় নিয়ে চিন্তা থেকেই যায়। যেমন, খারাপ আবহাওয়া, চুরি হয়ে যাওয়ার চিন্তা, বন্যপ্রাণীর বিপদ বা যদি কোনওভাবে উচ্চতার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি নিজেকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মে বেঁধেছেন। যেমন, যাত্রাপথে তিনি সব সময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, এবং তাঁদের পরামর্শমতোই এগোন। তাছাড়া তিনি রাতে ভ্রমণ করেননা।

তবে এতগুলি সফরের খরচ কীভাবে জোগান তিনি?

মাসে দশ থেকে পনেরো হাজার তাঁর রোজগার। সেখান থেকেই তিনি ভ্রমণের জন্য অর্থ বাঁচান। সাধারণত খরচ বলতে খাওয়া এবং থাকা। বেশিরভাগ সময়েই তিনি কোনও স্কুল, ক্লাব, মন্দির, বাস স্ট্যান্ড বা পুলিশ স্টেশনে রাত কাটিয়ে নেন। তাতে অনেকটাই অর্থ সাশ্রয় হয় তাঁর। তবে ওঁর দার্জিলিং সফরের খরচ বহন করেছে ইস্ট ইন্ডিয়া ক্লাব। আগের সফরগুলিতেও অনেক বাইকার তাঁকে তাঁবু, পোশাক এবং মোবাইল ফোন দিয়ে সাহায্য করেছেন।

আপাতত তিনি ফিরে এসেছেন কলকাতায়। গীতাঞ্জলি মেট্রো স্টেশনের সামনের রিকশা স্ট্যান্ডে গেলে তাঁকে পাওয়া যাবে। তবে বেশিদিন নয়। মনের ভেতর এখন কেদারনাথ যাওয়ার বাসনা। আগামী বছরেই তিনি বেরিয়ে পড়বেন। সেই সঙ্গে থাকবে পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা।

মানুষ সেই বার্তা চোখ দিয়ে দেখতে তো পায়, কিন্তু পড়ে কি? কে জানে!

লিখেছেন
Satyaki Tat
Satyaki Tat
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।