বায়ুদূষণ ঠেকাতে এয়ার পিউরিফায়ার! অজান্তেই ডেকে আনছেন কোন বিপদ

Air Purifier : বাতাসের বিষ কমাতে কি এয়ার পিউরিফায়ারই ভবিতব্য?

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
বায়ুদূষণ ঠেকাতে এয়ার পিউরিফায়ার! অজান্তেই ডেকে আনছেন কোন বিপদ

আজকের বিশ্বে ভয়ানক নানাকিছুর মধ্যে একটি হল বায়ুদূষণ। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা যায় এর প্রভাবে। এবং এই মৃত্যুর বেশিরভাগটাই ঘটে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে। কোনও দেশ যত বেশি উন্নত তত বেশি সেখানে দূষণ। এই সব জায়গায় খোলা জায়গায় প্রায়শই কঠিন জ্বালানী পোড়ানো হয়। যার থেকে তৈরি হয় মারাত্মক বায়ুদূষণ। সমীক্ষা বলছে, এই মৃত্যুর মধ্যে ২৬,০০০ থেকে ৩৮,০০০ জনই হচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। তবে বায়ুদূষণের প্রভাবে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যাটা সবথেকে বেশি বাংলাদেশে। ভারতেও অবশ্য সংখ্যাটা কিছু কম নয়।

সম্প্রতি করোনার দাপটে যখন সারা বিশ্ব তোলপাড় তখনই বেশি করে নজরে আসে বায়ুদূষণের দিকটি। বাতাসের মাধ্যমে এই রোগ ছড়িয়ে মহামারী আকার নেওয়ায় গবেষকরা বায়ু দূষণ প্রতিরোধকারী মেশিন তৈরির দিকেও নজর দিতে শুরু করেন। এই যন্ত্রগুলির মধ্যে কিছু যন্ত্র তাপ বা ফটোক্যাটালিটিক অক্সিডেশন দ্বারা কাজ করে, অন্যগুলি শোষণ, পরিস্রাবণ, অতিবেগুনী জীবাণুনাশক বিকিরণ, আয়ন তৈরি এবং ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক বৃষ্টিপাত দ্বারা কাজ করে।

বায়ুদূষণে বর্তমানে নাভিশ্বাস উঠছে গোটা পৃথিবীর। স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক কুপ্রভাব ফেলছে এই দূষণ। পিছিয়ে নেই কলকাতাও। আর এরই উপজাত হিসেবে উঠে আসছে বহুজাতিক সংস্থার পণ্য এয়ার পিউরিফায়ার। মূলত করোনাকে কেন্দ্র করেই জাঁকিয়ে বসেছে এটি। বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রির হিসেব দেখলে লক্ষ্য করা যায় উর্ধমুখী গ্রাফটি। অদ্ভুত একটা সময়ে দাঁড়িয়ে গোটা সমাজ। যখন নিয়ত দূষিত হচ্ছে বায়ু অথচ তার প্রতিকার হিসেবে মানুষ পরিবেশের চেহারা বদলে দিকেও ফিরেও তাকাচ্ছে না বরং বিকল্প খুঁজে নিচ্ছেন ক্রমশ। আর দোকানগুলোতেও দেদার বিকোচ্ছে এয়ার পিউরিফায়ার।

একটা সময় পর্যন্ত পিউরিফায়ার বলতে কেবল জলের মেশিন বুঝত সকলে, এখন তার সঙ্গে এসে জুড়েছে বাতাসের অনুষঙ্গও। পরিবেশের দূষণ যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে, তবে কি মুক্ত বাতাস পেতে মেশিনই ভবিতব্য?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবার বাতিল জিনিস থেকে তৈরি প্লেনের জ্বালানি! কতটা কমবে পরিবেশ দূষণ?

অতি দ্রুত বিশ্বের প্লেন জ্বালানির জগতে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে চলেছে এই জ্বালানি। বদল আসবে বর্জ‍্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রটিতেও।

‘ল্যান্সেট কমিশন অন পলিউশন অ্যান্ড হেলথ' একটি সমীক্ষায় দেখিয়েছে, ২০১৭ সালে সারা পৃথিবীতে যত মানুষ মারা গিয়েছে, তার মধ্যে ১৫ শতাংশ মৃত্যুর কারণই এই বায়ুদূষণ। ​​​আর এই হিসেবে ভারতের অবস্থানটিও যথেষ্ট চিন্তার। এমনকী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর মারিয়া নায়রা জানিয়েছেন, ভারতে অকালমৃত্যুর জন্যও দায়ী এই বায়ুদূষণ। বহু শহরেই চিত্রটা বিপদসীমার অনেক উপরে।

কিন্তু এই যে অতিরিক্ত হারে পিউরিফায়ার কিনছি আমরা, তার জেরে অজান্তেই ডেকে আনছি না তো বিপদ? জেনে নিন এই যন্ত্র কেনার সময় কোন কোন বিষয়ের দিকে নজর রাখা আবশ্যক।

১. নিয়মিত মেশিনপরিষ্কার করতে হবে নচেৎ, বায়ু পরিশোধনের পরিবর্তে দুষণকেই বাড়িয়ে দিতে পারে।

২. ঘরের সাইজের ওপর নির্ভর করে পিউরিফায়ার কেনার ধরন। ঠিক যেভাবে বড় ঘরের ক্ষেত্রে বেশি লিটারের এসি লাগে ঠিক তেমন। এর অন্যথা হলে কোনও লাভই হয় না পরিবেশের অথচ মাসের শেষে বিদ্যুতের লম্বা বিল আসে।

৩. বাতাসে দূষিত গ্যাস এবং রাসায়নিক পদার্থ শোধনের জন্য সব এয়ার পিউরিফায়ারের মধ্যে ‘অ্যাক্টিভেটেড কার্বন লেয়ার’ বা ‘কার্বন ফিল্টার’ থাকে। এই ফিল্টার যত ভাল হবে পিউরিফায়ারের কার্যক্ষমতা তত বাড়বে। তাই এর দিকেও নজর দেওয়া আবশ্যক।

৪. এছাড়াও একধরনের পিউরিফায়ার বাজারে প্রচলিত আছে যেটি বায়ু পরিশোধনের পাশাপাশি ডেকে আনে শরীরের ভয়ানয় রোগ। ‘ইউভি ফিলট্রেশন’ বা ‘আয়োনাইজড বেসড’ পিউরিফায়ার থেকে ওজন গ্যাস নির্গত হয় যা ফুসফুসের সমস্যা তৈরি করে।

৫. আর দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে ভুলেও সস্তা খুঁজে বিপদ ডাকবেন না। দেখে নেবেন ভারী কিনা। নচেৎ দূষিত বায়ু পরিশোধনের বদলে অন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সব শেষে যে কথাটি না বললেই নয়, তা হল খুব প্রয়োজন ছাড়া কেবল শৌখিনতার বশে এই যন্ত্রের প্রতি আসক্ত হয়ে না পড়াই ভালো। কারণ আমরা ঘরের বাইরে যে পরিবেশে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাই সেখানে বায়ুদূষণের মাত্রাকে ঠেকাতে কোনও যন্ত্রের ছাদ থাকে না। ফলে শরীরের নিজস্ব অভিযোজন ক্ষমতাকে জিইয়ে রাখা প্রয়োজন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?