চুরি করো, কিন্তু ধরা পড়ো না! এমন আইনও ছিল!
প্রাচীন রোমানদের একটি বিখ্যাত আইন ছিল, যার নাম ‘টুয়েলভ টেবলস’ (Twelve Tables)। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের এই আইনে চুরির ধরন নিয়ে দারুণ সব মারপ্যাঁচ ছিল। আইনটি বলত, চোর যদি দিনের আলোয় চুরি করে, তবে তাকে পিটিয়ে বা বেঁধে ধরে নিয়ে চলো বিচারকের কাছে। কিন্তু সেই চোরই যদি মাঝরাতে অন্ধকারের বুক চিরে আপনার ঘরে ঢোকে, তবে বাড়ির মালিকের পূর্ণ অধিকার ছিল চোরটিকে অনায়াসে মেরে ফেলার!
এই বৃষ্টির রাতে ঘুমটা বেশ গভীরই হচ্ছে, হঠাৎ মাঝরাতে আপনার ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকল এক চোর। আপনি চিৎকার করে লোক ডাকলেন, পাড়ার সবাই মিলে খুঁটিতে বেঁধে রাখলেন চোরমশাইকে, এর থেকে বেশি তো কিছু করা যাবে না। আইন নেই। তারপর পুলিশে খবর দিলেন। চোর ধরা পড়ল। শাস্তি পাবে এবার।
কিন্তু এই আপনিই যদি কলকাতার শ্যামপুকুরের বাসিন্দা না হয়ে প্রাচীন রোমের বাসিন্দা হতেন তাহলে কিন্তু সোজা চোরটাকে খতম করে দিতে পারতেন, আর তার জন্য পুলিশ আপনাকে ছোঁয়া তো দূর, উলটে পিঠটা একটু চাপড়ে দিত!
এ তো গেল, কেবল রোমের অদ্ভুত নিয়মের কথা! এরকম বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম অদ্ভুত সব আইন রয়েছে চুরি এবং চোর সম্বন্ধীয়, যা শুনলে আজ আমাদের চোখ কপালে উঠবে।
রাতে চোর মারলে সাত খুন মাফ!
প্রাচীন রোমানদের একটি বিখ্যাত আইন ছিল, যার নাম ‘টুয়েলভ টেবলস’ (Twelve Tables)। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের এই আইনে চুরির ধরন নিয়ে দারুণ সব মারপ্যাঁচ ছিল। আইনটি বলত, চোর যদি দিনের আলোয় চুরি করে, তবে তাকে পিটিয়ে বা বেঁধে ধরে নিয়ে চলো বিচারকের কাছে। কিন্তু সেই চোরই যদি মাঝরাতে অন্ধকারের বুক চিরে আপনার ঘরে ঢোকে, তবে বাড়ির মালিকের পূর্ণ অধিকার ছিল চোরটিকে অনায়াসে মেরে ফেলার! রাতের চোরকে খতম করলে আইনের চোখে কোনো অপরাধ হতো না।
প্রাচীন রোমে চুরির জিনিসের উপরও নির্ভর করত শাস্তি। কেউ যদি ফসলের ক্ষেত থেকে রাতে শস্য চুরি করত, তবে তাকে ফাঁসি দিয়ে দেবতাকে উৎসর্গ করা হতো। আর চোর যদি নাবালক হতো, তবে ফাঁসি না দিয়ে তাকে চাবুক মেরে আধমরা করা হতো এবং চুরির মালের দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হতো।
স্পার্টার ‘চোরের স্কুল’ এবং অদ্ভুত পরীক্ষা
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শোনা যায়, বহু বছর আগে লখনউয়ের নবাব ফিদা হোসেন পাকিস্তানের ইসলামাবাদের শাহ ফয়সাল মসজিদ এলাকা থেকে একটি বিশেষ আমের চারা নিয়ে এসেছিলেন। তিনি সেটি এনে পুঁতলেন বিহারের পাটনার দিঘা অঞ্চলে। নবাবের ছিল প্রচুর কোলা গরু। রোজ খাঁটি দুধ দোয়ানোর পর যেটুকু দুধ বেঁচে যেত, নবাবের হুকুমে তা ঢেলে দেওয়া হতো ওই ছোট্ট আম গাছটির গোড়ায়।
ইতিহাসের সবচেয়ে আজব চুরির নিয়ম সম্ভবত ছিল প্রাচীন গ্রিসের স্পার্টা নগররাষ্ট্রে। স্পার্টার মানুষদের মূল লক্ষ্যই ছিল অপরাজেয় সৈনিক তৈরি করা। আর সেই সৈনিকদের চটপটে, ধূর্ত এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার যোগ্য করে তুলতে এক অদ্ভুত পরীক্ষা নেওয়া হতো।
সেখানকার সামরিক ক্যাম্পে তরুণ সৈনিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে কম খাবার দেওয়া হতো, পেটে খিদে রেখে দেওয়া হতো, যাতে তারা খাবার চুরি করতে বাধ্য হয়। সমাজই তাদের চুরি করতে উস্কে দিত! তবে এখানেই একটা টুইস্ট ছিল। সেই ক্ষুধার্ত সৈনিকদের চুরি করাটা অপরাধ ছিল না সে দেশে, কিন্তু চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়াটা ছিল মহাপাপ।
যদি কোনো তরুণ সৈনিক চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ত, তবে তাকে চুরি করার জন্য শাস্তি দেওয়া হতো না; তাকে শাস্তি দেওয়া হতো ‘ধরা পড়ার মতো বোকামি’ আর ‘অদক্ষতা’র জন্য! বেদম মারের পাশাপাশি চলত কঠোর সামাজিক লাঞ্ছনা।
হাম্মুরাবির দেশে চোরের শাস্তি
আজ থেকে প্রায় পৌনে চার হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় রাজা হাম্মুরাবি তৈরি করেছিলেন এক কঠোর আইনসংহিতা—‘কোড অফ হাম্মুরাবি’। এই আইনের মূল মন্ত্রই ছিল ‘চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত’। চুরির ক্ষেত্রে এই আইন ছিল আরও নির্মম।
কোনো চোর যদি মন্দির বা রাজপ্রাসাদের মতো পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে কিছু চুরি করত, তবে তার সোজা শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। এমনকী, কেউ যদি সেই চোরের কাছ থেকে চুরির মাল জেনে বা না জেনে কিনত, তবে সেই ক্রেতাকেও চোর সাজিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো!
তবে সাধারণ চুরির ক্ষেত্রে জরিমানা ছিল আকাশচুম্বী। যদি কেউ কারও ছাগল বা ভেড়া চুরি করত, তবে তাকে আসল দামের দশ গুণ, আর চুরির মাল যদি রাজার বা মন্দিরের হতো, তবে ৩০ গুণ জরিমানা দিতে হতো। টাকা দিতে না পারলে কপালে জুটত মৃত্যুদণ্ড।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আজকের দিনে বলপয়েন্ট বা ডট পেন ব্যবহারের সময় এই সমস্যায় আমাদের খুব একটা পড়তে হয় না। কিন্তু গত শতাব্দীর তিরিশের দশকেও এই একটা যন্ত্রণায় দুনিয়ার সমস্ত লেখক, সাহিত্যিক আর সাংবাদিকদের রাতের ঘুম উড়ে যেত। ঠিক এই সাধারণ বিরক্তি থেকেই জন্ম নিয়েছিল ডট পেন।
আবার হাম্মুরাবির আইনের প্রায় ৩০০ বছর আগে (আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে) মেসোপটেমিয়ায় সুমেরীয় সভ্যতার রাজা উর-নাম্মু পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত আইন কানুন তৈরি করেন।
এই আইনের বৈশিষ্ট্য ছিল, এটি হাম্মুরাবির মতো কেবল 'চোখের বদলে চোখ' নীতিতে চলত না, বরং এখানে আর্থিক জরিমানার উপর জোর দেওয়া হতো। তবে চুরির ক্ষেত্রে একটি অদ্ভুত নিয়ম ছিল—যদি কেউ কারও দাস বা দাসীকে চুরি করত বা পালিয়ে যেতে সাহায্য করত, তবে তাকে সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। কারণ তখনকার সমাজে দাস-দাসীদের মানুষের চেয়েও বড় 'স্থাবর সম্পত্তি' হিসেবে দেখা হতো।
প্রাচীন মিশরের ‘ঐশ্বরিক’ আদালত
প্রাচীন মিশরে চুরির বিচার কেবল আদালতের চার দেওয়ালে আটকে থাকত না, তা পৌঁছে যেত পরলোক পর্যন্ত! মিশরীয়রা বিশ্বাস করত, ইহলোকে রাজার চোখ ফাঁকি দিলেও মৃত্যুর পর ঈশ্বরের হাত থেকে রেহাই নেই।
মিশরের বিখ্যাত ‘বুক অফ দ্য ডেড’ (Book of the Dead)-এ পরিষ্কার লেখা থাকত, মৃত্যুর পর ওসাইরিস দেবতার দরবারে আত্মার বিচার হবে। সেখানে মানুষের ওজন মেপে দেখা হতো। তার আগে আত্মাকে বুক ঠুকে বলতে হতো—"আমি জীবনে কখনও কারও সম্পদ চুরি করিনি, কারও অধিকার কেড়ে নিইনি।" যদি এই পাল্লায় কেউ ধরা পড়ত, তবে তার আত্মাকে এক ভয়ঙ্কর দানব খেয়ে ফেলত!
মধ্যযুগের ইউরোপ: 'ট্রায়াল বাই অর্ডিল'
মধ্যযুগের ইউরোপে (বিশেষ করে ৫ম থেকে ১১শ শতাব্দী) চোর ধরার জন্য কোনো ফরেনসিক ল্যাব বা উকিল-আদালত ছিল না। তখন চলত 'ট্রায়াল বাই অর্ডিল' (Trial by Ordeal) বা ঐশ্বরিক পরীক্ষা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খননকার্যে প্রমাণিত হয়েছে, আজ থেকে প্রায় ২৯০০ বছর আগে (খ্রিস্টপূর্ব ৯০০ অব্দে) এই স্থানে মানুষের নিয়মিত বসবাস ছিল। অর্থাৎ, জব চার্নক কলকাতা শহর আবিষ্কার করার অনেক অনেক আগে থেকেই এখানে এক উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
কাউকে চোর বলে সন্দেহ করা হলে তাকে একটি ফুটন্ত জলের পাত্র থেকে একটি পাথর খালি হাতে তুলতে বলা হতো, অথবা লাল গরম লোহার রড হাতে ধরে কয়েক পা হাঁটতে হতো। এরপর তার হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। তিন দিন পর যদি দেখা যেত হাত অলৌকিকভাবে সেরে গিয়েছে বা কোনো ক্ষত নেই, তবে সে নির্দোষ! আর যদি হাতে ফোস্কা বা ক্ষত থাকত, তবে প্রমাণিত হতো যে সে চোর, কারণ ঈশ্বর তাকে বাঁচাননি। এরপর তাকে সোজা ফাঁসি কাঠে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো।
রোমানিয়ার 'কোয়ালিফাইড থেফট' এবং ২০ বছরের জেল
বর্তমান যুগের আধুনিক আইনেও কিছু দেশে চুরির অদ্ভুত সব শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। যেমন রোমানিয়ার দণ্ডবিধি (Romanian Penal Code)। সেখানে সাধারণ চুরির সাজা কম হলেও, 'কোয়ালিফাইড থেফট' (Qualified Theft)-এর নিয়মগুলি বেশ কড়া।
যদি কেউ মাস্ক বা মুখোশ পরে চুরি করে, রাতে চুরি করে, কিংবা এমন কোনো মানুষের জিনিস চুরি করে যে নিজেকে রক্ষা করতে অসমর্থ (যেমন কোনো প্রতিবন্ধী বা বৃদ্ধ মানুষ)—তবে অপরাধের মাত্রা এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যায়। এমনকী কেউ যদি দেশের কোনো জাতীয় ঐতিহ্যবাহী সম্পদ বা পেট্রোলিয়ামের পাইপলাইন থেকে তেল চুরি করে, তবে রোমানিয়ার আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে!
নেদারল্যান্ডসের 'টেররিস্ট চুরির' আইন
ডাচ আইন বা নেদারল্যান্ডসের ফৌজদারি বিধিতে (Wetboek van Strafrecht) চুরির একটি অদ্ভুত ধারা আছে। সাধারণ চুরির জন্য সেখানে সর্বোচ্চ ৪ বছরের জেল। কিন্তু সেই চুরিটাই যদি কোনো 'সন্ত্রাসবাদী উদ্দেশ্যে' (Terroristic Theft) করা হয়—যেমন কোনো ল্যাবরেটরি থেকে রাসায়নিক চুরি, বা কোনো অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র চুরি—তবে সাজা এক ধাক্কায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। আবার রাতে কোনো বাড়িতে মালিকের অজান্তে ঢুকে দলবদ্ধভাবে চুরি করলে (ধারা ৩১১) সাজা বেড়ে ৯ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
সমুদ্রের আইন: জলদস্যুদের শাস্তি 'মেরুনিং'
১৭শ আর ১৮শ শতকে সমুদ্রের বুকেও চুরির নিজস্ব আইন তৈরি হয়েছিল। জলদস্যুদের নিজেদের মধ্যে একটা কড়া নিয়ম বা 'পাইরেট কোড' ছিল। জাহাজের কোনো জলদস্যু যদি নিজের দলের অন্য কোনো কমরেডের টাকা, সোনা বা কোনো জিনিস চুরি করত, তবে তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো না। তার জন্য বরাদ্দ ছিল আরও এক ভয়ঙ্কর শাস্তি, যাকে বলা হতো 'মেরুনিং' (Marooning)।
চোর জলদস্যুটিকে একটা জনমানবহীন, খাঁ খাঁ করা ছোট দ্বীপে বা বালির চড়ায় একা নামিয়ে দিয়ে আসা হতো। তার কাছে দেওয়া হতো সামান্য একটু জল, আর একটা গানপাউডার ঠাসা পিস্তল। উদ্দেশ্য—খিদে-তেষ্টায় ছটফট করে মরার চেয়ে চোর যেন নিজেই নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করতে পারে।
এরপর একটু নিজেদের দেশের নিয়ম দেখা যাক! প্রাচীন ভারতের আইনি সমাজ কেমন ছিল? মহর্ষি মনু রচিত 'মনুস্মৃতি' এবং চাণক্যের 'অর্থশাস্ত্র'-এ চুরির সাজার যে বিবরণ আছে, তা পড়লে শিউরে উঠতে হয়।
চোরের সামাজিক স্তর দেখে বিচার: মনুস্মৃতিতে একটি অদ্ভুত নিয়ম ছিল। সাধারণ মানুষের ধারণা, চোর যদি নিচু জাতের বা দরিদ্র হয় তবে তার শাস্তি বেশি হবে। কিন্তু মনুস্মৃতি বলত উলটো কথা! সেখানে বলা ছিল, একজন সাধারণ মানুষ চুরি করলে তার যা শাস্তি হবে, একজন সমাজ সচেতন বা উচ্চবর্ণের মানুষ (যেমন ব্রাহ্মণ বা ক্ষত্রিয়) চুরি করলে তার সাজা হবে বহুগুণ বেশি। কারণ তারা আইন জেনেও অপরাধ করেছে!
অঙ্গচ্ছেদ ও তপ্ত তেলের শাস্তি: অর্থশাস্ত্রে চাণক্য লিখেছেন, ছোটখাটো চুরির জন্য হাত বা আঙুল কেটে নেওয়া হতো। আর কেউ যদি রাজকোষ থেকে সোনা বা মহামূল্যবান রত্ন চুরি করত, তবে তার শাস্তি ছিল ফুটন্ত তেলের কড়াইতে চুবিয়ে দেওয়া অথবা শূলে চড়ানো।
প্রাচীনকাল কেটে গিয়েছে, কিন্তু চুরির এই বিচিত্র নিয়মের রেশ এখনও কাটেনি। আজকের আধুনিক বিশ্বেও কয়েকটি দেশে এমন কিছু আজগুবি আইন রয়েছে।
সৌদি আরব ও শরিয়াহ আইন: ইসলামিক আইন বা শরিয়াহ শাসিত বেশ কিছু দেশে চুরির শাস্তি এখনও অত্যন্ত কঠোর। কোনো চোর যদি অনুতপ্ত না হয় এবং তার অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে ‘হুদুদ’ আইন অনুযায়ী তার ডান হাত কেটে নেওয়ার বিধান রয়েছে, যা সমাজে চুরির প্রবণতা কমানোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।
কানাডার ‘৫০০০ ডলারের’ মারপ্যাঁচ: কানাডার আইনটি আবার বেশ আধুনিক ও হিসেবি। সেখানে চুরির জিনিসের দাম মেপে সাজা ঠিক করা হয়। চুরির মালের দাম যদি ৫০০০ ডলারের কম হয়, তবে তা ছোট অপরাধ। কিন্তু ৫০০০ ডলারের এক পয়সা বেশি হলেই সেটা হয়ে যায় ‘গ্র্যান্ড থেফট’ বা বড় চুরি, যার শাস্তি ১০ বছরের জেল!
ইংল্যান্ডের বিদ্যুৎ আইন: ব্রিটিশ আইনের একটা মজার নিয়ম তো আমরা আগেই জেনেছি। সেখানে আপনি সোনা-দানা, গাড়ি-বাড়ি সব 'চুরি' করা যায়, কিন্তু আইনি ভাষায় বিদ্যুৎ 'চুরি' করতে পারবেন না! কারণ বিদ্যুৎ চোখে দেখা যায় না বা ব্যাগে ভরা যায় না। তাই কেউ হুকিং করে বিদ্যুৎ নিলে তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা হয় না, মামলা হয় ‘বিদ্যুৎ অপব্যবহার’ বা আত্মসাতের আলাদা আইনে।
আমেরিকার 'থ্রি-স্ট্রাইক' আইন: আধুনিক আমেরিকার কিছু রাজ্যে (যেমন ক্যালিফোর্নিয়া) চুরির একটি বিতর্কিত এবং অদ্ভুত আইন রয়েছে, যাকে বলা হয় 'থ্রি-স্ট্রাইক ল' (Three-Strikes Law)। এই আইনের মূল কথা হলো—আপনি যদি জীবনে দুবার কোনো বড় অপরাধ করে থাকেন, আর তৃতীয়বার যদি একটি অত্যন্ত ছোট জিনিসও চুরি করেন (যেমন দোকান থেকে একটা সামান্য চকোলেট বা একটা গলফ ক্লাব চুরি), তবে আইন আপনাকে ‘সংশোধন অযোগ্য’ অপরাধী হিসেবে গণ্য করবে। আর এই সামান্য তৃতীয় চুরির অপরাধের জন্যই আপনার ২৫ বছর থেকে শুরু করে আজীবন কারাদণ্ড (Life Imprisonment) হয়ে যেতে পারে!
প্রাচীনকালে এরকমই অদ্ভুত কিছু আইন ছিল 'চুরি'র জন্য বরাদ্দ, মানুষের সভ্যতা যত উন্নত হয়েছে, চুরির ধরনও ততটাই আধুনিক হয়েছে। এবং চোরদের জন্য বরাদ্দ আইনের বহরও বদলেছে।







