তুষার মেহতার আপত্তির কেন্দ্রে মিডিয়া! সোনালিদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ই কি শেষ কথা?

Sonali Deportation Case: সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগ তোলেন, কিছু সংবাদ প্রতিবেদন পরিকল্পিতভাবে একটি ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করছে।

inscript
৩ মিনিট
তুষার মেহতার আপত্তির কেন্দ্রে মিডিয়া! সোনালিদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ই কি শেষ কথা?

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে চলমান একটি সংবেদনশীল মামলা শুধু আইনগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। এই মামলা ছুঁয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রের ক্ষমতা, মানবিকতার সংজ্ঞা, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব এবং এক প্রান্তিক পরিযায়ী পরিবারের জীবনের বাস্তবতাকে। একজন গর্ভবতী নারীকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করার অভিযোগ, পরে মানবিক কারণে তাঁর ভারতে প্রত্যাবর্তন— এই ঘটনাকে ঘিরে সংবাদ প্রকাশ এবং তার বিরুদ্ধে সরকারের আপত্তি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, রায় ঘোষণার পরই কি সব প্রশ্ন থেমে যায়? নাকি সেখান থেকেই শুরু হয় সাংবাদিকতার আসল দায়িত্ব?

এই আইনি বিতর্কের আড়ালে থেকে যাচ্ছে এক বাস্তব মানবিক গল্প। ‘পুশ ব্যাক’ করা গর্ভবতী নারী সোনালি খাতুন কোনো পরিচিত মুখ নন। ভদ্রবিত্ত সমাজের কেউ নন। তিনি একজন পরিযায়ী শ্রমিক। দিল্লির রাস্তায় প্রায় দুই দশক ধরে তাঁর স্বামী দানিশ শেখ কখনও কাগজ কুড়িয়েছেন, কখনও পরিচারিকার কাজ করেছেন। সোনালির পরিবারও দীর্ঘদিন দিল্লিতেই থাকতেন, বাবা রিকশাচালক। ছিল না স্থায়ী ঠিকানা, ছিল না নাগরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুন দিল্লির কে এন কাটজু মার্গ থানার পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ সন্দেহে সোনালি, তাঁর স্বামী ও আরও কয়েকজনকে আটক করে। তারপর দ্রুত তাঁদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সীমান্ত পেরোনোর পরেও মুক্তি মেলেনি। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। সেখান থেকেই শুরু হয় বন্দিজীবন। এ এক এমন বন্দিদশা, যেখানে অপরাধ প্রমাণের আগেই সাজা কার্যকর হয়ে যায়। সোনালির গর্ভের সন্তান তখনও অনাগত, অথচ তার ভাগ্য যেন নির্ধারিত কারাগারের অন্ধকারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা, বীরভূমের সোনালি খাতুনকে যেভাবে বাংলাদেশে ঘাড়ধাক্কা

সোনালির পরিবারের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার করানোর সময় তাঁদের চোখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। বন্দুক তাক করে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, ফিরলেই গুলি করা হবে।

এই পরিস্থিতিতে সোনালির বাবা ভদু শেখ কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করেন।মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই মামলায় যুক্ত হয়। আদালতে জমা পড়ে জমির কাগজ, ভোটার কার্ড, এমনকি সোনালির আট বছরের সন্তানের জন্ম শংসাপত্র। সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, চার সপ্তাহের মধ্যে সোনালি ও তাঁর সঙ্গে আটক সকলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। কিন্তু এখানেই থামেনি রাষ্ট্র। কেন্দ্রীয় সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। সোনালি তখন ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই সময় সরকারের দীর্ঘ নীরবতা, অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক টানাপড়েন নতুন করে প্রশ্ন তোলে। অবশেষে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সরকার সোনালিকে ভারতে ফিরিয়ে আনে।

এই প্রেক্ষাপটেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগ তোলেন, কিছু সংবাদ প্রতিবেদন পরিকল্পিতভাবে একটি ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করছে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের রিপোর্ট বিচারাধীন মামলার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে একটি প্রথম পাতার প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, দ্য টাইসম অফ ইন্ডিয়ার মতো একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রেও এমন লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

আদালত অবশ্য এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মল্য বাগচি জানান, সুপ্রিম কোর্ট কোনো প্রচার বা জনমতের চাপে সিদ্ধান্ত নেয় না। সংবাদে মামলা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে আপত্তি নেই, কিন্তু বিচারাধীন বিষয়ে মতামত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা সমস্যাজনক হতে পারে। বিচারপতি বাগচির মন্তব্য ছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ন্যারেটিভ যেন কোনো ব্যক্তির জীবনের উপর প্রভাব না ফেলে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নথি যাচাই না করেই কেন ঘাড় ধাক্কা সোনালিদের? কেন্দ্রের কাছে জবাব চায় সুপ্রিম কোর্ট

Pregnant Indian Woman Sunali Khatun: আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যাঁরা ভারতীয় নাগরিক হওয়ার দাবি করছেন, তাঁদের বক্তব্য না শুনে পুশব্যাক করা যায় না। পাশাপাশি, সোনালিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

‌প্রশ্ন হলো, ন্যারেটিভ কাকে বলে? সোনালির জীবনের ঘটনা কি ন্যারেটিভ, নাকি বাস্তব? তাঁর বন্দিদশা, গর্ভাবস্থা, বিচ্ছিন্ন পরিবার এগুলো কি কেবল ‘গল্প’, নাকি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ফল?

এখানেই এসে দাঁড়ায় সাংবাদিকতার ভূমিকা। আদালত রায় দেবে, সেটাই তার সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু রায়ের বাইরে যে অসংখ্য মানবিক প্রশ্ন থেকে যায়, সেগুলির উত্তর খোঁজার দায়িত্ব কার? সোনালির স্বামী, সুইটি বিবিরা কেন সোনালির সঙ্গেই দেশে ফিরতে পারলেন না? কোন প্রক্রিয়ায় কাউকে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়? যাচাইয়ের দায় কার? এই প্রশ্নগুলো যদি সংবাদমাধ্যম না তোলে, তবে গণতন্ত্রের পরিসরে সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে?

রায় আইনের শেষ কথা হতে পারে। কিন্তু ন্যায়বিচারের শেষ কথা নয়। বিশেষ করে যখন সেই রায়ের ছায়ায় পড়ে থাকে পরিযায়ী শ্রমিক, গৃহহীন মানুষ, অদৃশ্য নাগরিকরা। সংবাদমাধ্যমের কাজ আদালতের জায়গা নেওয়া নয়, আবার নীরব দর্শক হয়ে থাকাও নয়। তার কাজ প্রশ্ন তোলা, রাষ্ট্রের কাছে, ব্যবস্থার কাছে, এবং প্রয়োজনে নিজের কাছেও।

সোনালি খাতুন দেশে ফিরেছেন। কিন্তু তাঁর গল্প শেষ হয়নি। যেমন শেষ হয়নি এই প্রশ্নও, রায় কি শেষ কথা বলবে? নাকি সেখান থেকেই শুরু হবে আরও কঠিন প্রশ্ন, আরও গভীর অনুসন্ধান? গণতন্ত্রে বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্র ও সংবাদমাধ্যম— তিনটি স্তম্ভই প্রয়োজন। একটিকে দুর্বল করে অন্যটির ভারসাম্য রক্ষা করা যায় না। সোনালির মামলাও তাই কেবল একটি আইনি ফাইল নয়। এটি আমাদের সময়ের আয়না। সেই আয়নায় আমরা কী দেখতে চাই, নীরবতা, না প্রশ্ন—সেই সিদ্ধান্ত এখনও আমাদের হাতেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।