পচা লাশের গন্ধ বেরোয় ফুল থেকে! তাক লাগাবে বিশ্বের বৃহত্তম এই ফুলের রহস্য
Corpse Flower : দেখতে অসম্ভব সুন্দর! বিচিত্র বাহারি রঙ। কিন্তু গন্ধ! পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করে আনতে পারে এই ফুলের দুর্গন্ধ।

"ফুলে গন্ধ নেই, সে তো ভাবতেও..." পারেন নাকি পারেন না সবটাই কিন্তু নির্ভর করছে ফুল বলতে আপনি ঠিক কী ভাবেন? ফুল মানেই বিচিত্র রঙ, বিচিত্র আকারের মন ভোলানো প্রাকৃতিক সৃষ্টি! ফুল মানেই ভ্রমর সেখানে হুটোপুটি করে মধু খেতে আসে, প্রজাপতি এসে জিরোয়। ফুল মানেই তার গন্ধে সাঁঝ সকাল মন মাতাল! নাও হতে পারে! যা যা ভাবছেন কিচ্ছুটি নাও হতে পারে। ফুলের গন্ধে মন ভালো হওয়ার জায়গায় বমি টমি হয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতেও পারেন! এই পৃথিবীতে এমনও ফুল আছে যা থেকে পচা লাশের গন্ধ ছাড়ে! মরদেহের ফুল নামেই ডাকা হয় একে। তবে আশ্চর্যের বিষয় সেই ফুলও বিলুপ্তির পথে! রাফলেসিয়া প্রজাতির বেশিরভাগ ফুলই মৃতদেহের ফুল নামে পরিচিত। তবে অ্যামোরফোফালাস টাইটানাম আর এই ফুল কিন্তু আলাদা। আনুমানিক ৬০ শতাংশ প্রজাতিই বিলুপ্তির মুখে।
মরদেহের ফুল আসলে কী? এই ফুল মূলত পরজীবী উদ্ভিদের ফুল। দেখতে অসম্ভব সুন্দর! বিচিত্র বাহারি রঙ। কিন্তু গন্ধ! পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করে আনতে পারে এই ফুলের দুর্গন্ধ। এই ফুলগুলি থেকে পচা মাংসের মতো একটি গন্ধ বেরোয় যা পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে। Rafflesia Arnoldii সবচেয়ে বড় ফুলের বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছে। তবে বর্তমানে এই ফুলগুলির ৪২টি পরিচিত প্রজাতির বেশিরভাগই এখন বিলুপ্তির সঙ্কটে৷ গবেষক, বিজ্ঞানীরা বলছেন এই অসাধারণ ফুলগুলিকে রক্ষা করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rare white palash : জানা গিয়েছে মূলত পুরুলিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে এই সাদা রঙের পলাশ ফুল। এই প্রথম বছর নয়, গত কয়েক বছর ধরেই সাদা পলাশ ফুটছে পুরুলিয়ার হুড়া গ্রামে। যদিও পুরুলিয়া ছাড়া আরও দুই জেলায় মিলছে এই বিরল শ্বেত পলাশ। কোথায় জানেন?
বিজ্ঞানীরা IUCN-এর লাল তালিকায় এই গাছগুলিকে 'দুঃখজনকভাবে অপর্যাপ্ত' বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র একটি প্রজাতি, Rafflesia magnifica-কেই এই মুহূর্তে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। IUCN-এর মানদণ্ড অনুসারে এই প্রজাতিগুলির প্রাথমিক মূল্যায়ন বলছে, ২৫টি প্রজাতিকেই সঙ্কটাপন্ন, ১৫টিকে বিপন্ন এবং ২টিকে দুর্বল হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা উচিত।
অক্সফোর্ড বোটানিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ ক্রিস থরোগুড বলছেন, বিশ্বজুড়ে এই জাতীয় অনেক অদ্ভুতুড়ে ফুলই বিলুপ্তির পথে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য এই ফুলগুলিকে বাঁচানোর জন্য একটি সংযুক্ত আন্তঃ-আঞ্চলিক পদ্ধতির প্রয়োজন। গবেষকরা জোর দিচ্ছেন ট্যাক্সোনমিক কাঠামোর উপর। উদ্ভিদগুলি তাদের জীবনচক্রের বেশিরভাগটা জুড়েই তাদের বাঁচিয়ে রাখা গাছটির মধ্যে লুকিয়ে থাকে, বিশাল ফুলগুলি অপ্রত্যাশিতভাবে জেগে ওঠে। ঠিক কোন কোন গাছে এই পরজীবী উদ্ভিদটিকে দেখা যায় তা শনাক্ত করাও কঠিন। রাফলেসিয়া কীভাবে এই গাছগুলির সাহায্যে বেড়ে ওঠে তা এখনও অজানা।

গবেষকরা আরও জানাচ্ছেন, বংশবৃদ্ধি এবং বীজ সঞ্চয়ের দিকে জোর দিতে হবে। রাফলেসিয়ার বাসস্থান সংরক্ষিত করতে হবে। এই গাছটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই মেলে আর এই অঞ্চলগুলিতেই দ্রুতহারে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। ফিলিপাইনে এই বিশেষ প্রজাতির ফুলের বিলুপ্তির একক বৃহত্তম কারণ হচ্ছে বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাওয়া। অনেক রাফলেসিয়া প্রজাতি আবার মানুষের বসতি সংলগ্ন বনে দেখা দেয়।
এই ফুলের সংরক্ষণে আদিবাসী মানুষদের গুরুত্ব দিতেই হবে। এই সম্প্রদায়গুলিই বিপন্ন গাছপালাগুলি সন্ধান এবং সংরক্ষণ দুইয়েরই চাবিকাঠি। আদিবাসীরাই জঙ্গলের অভিভাবক। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলেই রাফলেসিয়া সংরক্ষণ কর্মসূচি সফল করতে হবে।
রাফলেসিয়া প্রজাতিগুলি এথনোবোটানিকাল ওষুধে ব্যবহৃত হয়। ইন্দোনেশিয়ায় এনার্জি ড্রিঙ্ক এবং ফার্টিলিটির সাপ্লিমেন্ট হিসাবে, পিঠে ব্যথার জন্য এবং থাইল্যান্ডে যৌন উত্তেজক হিসাবে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বন্ধ করতে এবং মালয়েশিয়ায় কামোদ্দীপক হিসাবে এই ফুলের ব্যবহার রয়েছে। ইকোট্যুরিজমের উপর জোর দিলেও এই প্রজাতি সংরক্ষণ সম্ভব।






