একটা ফুল কিনতেই খসছে লক্ষ লক্ষ টাকা! কেন আকাশছোঁয়া দাম এই সাদা পলাশের?

Rare white palash : জানা গিয়েছে মূলত পুরুলিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে এই সাদা রঙের পলাশ ফুল। এই প্রথম বছর নয়, গত কয়েক বছর ধরেই সাদা পলাশ ফুটছে পুরুলিয়ার হুড়া গ্রামে। যদিও পুরুলিয়া ছাড়া আরও দুই জেলায় মিলছে এই বিরল শ্বেত পলাশ। কোথায় জানেন?

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
একটা ফুল কিনতেই খসছে লক্ষ লক্ষ টাকা! কেন আকাশছোঁয়া দাম এই সাদা পলাশের?

“বসন্তে ফুল গাঁথল আমার জয়ের মালা...”

বসন্ত মানে রং, বসন্ত মানেই ফুল। বছরের এই সময়টা বাতাসে সবুজের সমারোহ। যদিও বিশ্ব উষ্ণায়নের সময়ে দাঁড়িয়ে ঋতু নিয়ে সঠিক করে কিছুই বলা চলে না। বসন্ত না গ্রীষ্ম, তা বোঝা দায়! তবুও বসন্ত আসে, বছর বছর আসে। দোলের রঙে জাত চিনিয়ে যায় ঋতুরাজ। গাছে গাছে পলাশ ফোটে। আর এই পলাশের প্রসঙ্গ এলেই রাঙা পলাশের কথা মাথায় আসে আমাদের। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলায় কোথাও কোথাও অবশ্য হলুদ রঙের পলাশও দেখা যায়। তবে সাদা পলাশের দেখ বিশেষ মেলে না। সাদা পলাশ তাই হয় তো ডুমুরের ফুল! আর সহজলভ্য নয় যা কিছু, তার দাম চোকানোও যে বিশেষ সহজ কিছু হবে না তা অবশ্য যে কেউ ঠাহর করতে পারেন। সম্প্রতি এরকমই একটু খবরে বসন্ত সরগরম।

দোল আসার আগে আগেই আসে পলাশ। এবারেও এসেছে নিয়মমাফিক। তবে এবারের আকর্ষণীয় বিষয়টি হল শ্বেত পলাশ। জানা গিয়েছে মূলত পুরুলিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে এই সাদা রঙের পলাশ ফুল। এই প্রথম বছর নয়, গত কয়েক বছর ধরেই সাদা পলাশ ফুটছে পুরুলিয়ার হুড়া গ্রামে। যদিও পুরুলিয়া ছাড়া আরও দুই জেলায় মিলছে এই বিরল শ্বেত পলাশ। বীরভূমের ময়ূরেশ্বর এবং নদীয়ার তেহট্ট, এই দুই জায়গার পলাশও ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খুনের তদন্ত করে ফুল! ফিঙ্গার প্রিন্ট মুছে ফেললেও অপরাধীদের ধরিয়ে দেয় ফুলের রেণু?

Pollen Print: দার্জিলিংয়ে অপরাধ করে এসে, নদিয়াতে গা ঢাকা দিলে আপনি ফিঙ্গার প্রিন্ট থেকে উদ্ধার পেলেও পেতে পারেন, পোলেন প্রিন্ট থেকে পাবেন না।

কিন্তু এই সব কিছুর মধ্যে সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি হল, জানেন কি ঠিক কত টাকা দাম উঠেছে এই ফুলের? অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, বাজারে প্রায় কোটি টাকা ছুঁইছুঁই এই ফুল। ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে সাদা পলাশের। সামাজিক মাধ্যমেও এই গাছের ফুলের ছবি রীতিমতো ভাইরাল। দলের ছুটিতে পর্যটকদের আকর্ষণ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই সাদা পলাশ। একঘেঁয়ে ভিড় এড়িয়ে ছুটি কাটাতে তাই অনেকেই বেছে নিচ্ছেন পুরুলিয়ার এই গ্রামকে। এক যোগে বিরল ফুলের দর্শনও হয়ে গেলে মন্দ নয়! এর জেরে একদিকে যেমন কৃষির উন্নতি হচ্ছে ঠিক তেমনই পাশাপাশি চাঙ্গা হয়ে উঠছে অর্থনীতিও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফুল ফোটে ১২ বছরে মাত্র একবার, কেবল এদেশেই! রহস্যময়ী নীলকুরিঞ্জিকে দেখতে কেন ছুটে আসেন মানুষ

Neelakurinji: যার এমন রাজকীয় সৌন্দর্য সে নাকি বেঁচে থাকে অনাদরে অবহেলায়। প্রধানত নীলগিরির পাহাড়ি অঞ্চলের ফুল বলে এর নাম নীলকুরিঞ্জি। দেখতেও নীলচে বেগুনি।

বিরল বলার মূল কারণ হল, জানা গিয়েছে পুরুলিয়া জেলাতে মাত্র একটাই শ্বেত পলাশের গাছ অবশিষ্ঠ রয়েছে। তাই এত এত দাম এই ফুলের। পুরুলিয়ার উপ-উদ্যানপালন অধিকর্তা ড. সমরেন্দ্রনাথ খাঁড়া ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, “শ্বেত পলাশ বিরল। হুড়ার গ্রামে একটি গাছ রয়েছে। ওই গাছ বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বিষয়টি উদ্যানপালন বিভাগে জানানো হয়েছে। বনদপ্তর ও উদ্যানপালন বিভাগ চেষ্টা করছে এই গাছের বীজ বা অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়ে গাছের সংখ্যা যাতে আরও বাড়ানো যায়।” গাছের কোনও রকম ক্ষতি করার চেষ্টা করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে বলেও জানানো হয়েছে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে।

সাধারণত বসন্তকালে বাংলায় যে পলাশ ফুল ফোটে তা চারটি ভিন্ন ভিন্ন রঙের হয়। রক্ত পলাশ বা রাঙা পলাশ অর্থাৎ লাল রঙের পলাশ। বাসন্তী বা হলুদ রঙের পলাশ, নীল রঙের পলাশ এবং এই শ্বেত পলাশ। এদের মধ্যে নীল রঙের পলাশ আর বাংলায় দেখা যায় না একেবারেই বিলুপ্ত সারিতে নাম উল্লেখ রয়েছে নীল পলাশের। হলুদ পলাশও দিন দিন কমে আসছে। মূলত লাল পলাশের আধিক্য দেখা যায়। তবুও মানুষের অত্যাচারে তাদেরও যে আর কদিন দেখা যাবে সে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আশা যাক সাদা পলাশের কথায়। নীল রঙের পলাশের পর এবার প্রায় বিলুপ্ত হতে বসা পলাশ হল এটি। তাই বন বিভাগের তরফে এই গাছের সংরক্ষণের দিকে এত নজর দেওয়া হয়েছে।

সাদা পলাশের বিজ্ঞানসম্মত নাম হল - Butea monosperma var alba। জেনে রাখা দরকার, পলাশ ফুল কিন্তু জোর করে গাছ থেকে টেনে ছিঁড়ে নেওয়া অপরাধ। এমনিতেই ঝড় যায় ফুল। মাটি থেকে কুড়িয়ে নেওয়াই এই ফুলের ধর্ম। সাদা পলাশের ক্ষেত্রেও এই মুহূর্তে যেগুলি বিক্রি হচ্ছে বাজারে তা এতটাই বিরল যে দাম চোকাতে লাখপতিদেরও অবস্থা কাহিল। এই গাছের বেশ কিছু ঔষধি গুণ আছে। এই শ্বেত পলাশ থেকে বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ, যৌন শক্তি বর্ধক ওষুধ তৈরি করা হয়। তার ওপর প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে, দুই মিলিয়েই এতটা দামি এই পলাশ গাছ। এই গাছের রসে থাকে গ্যালিক ও ট্যানিক মনে দুই রকমের অ্যাসিড। এই রস থেকে ক্যান্সার সহ অনেক দূরারোগ্য ব্যাধি নিরাময় সম্ভব। এছাড়াও ত্বকের জেল্লা ফেরাতে সাদা পলাশের জুড়ি মেলা ভার। এই গাছের কচি পাতার রস মাত্র ৬ থেকে ৭ চামচ জলে মিশিয়ে খেলেই শরীরে লাবণ্য ফিরে আসে। তাই সব মিলিয়েই দেদার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই বিরল পলাশ। এবছরের দোলে মূল আকর্ষণ শ্বেত পলাশ।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?

ভুটানে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক, কী পরিস্তিতি এখন?

Bhutan Flash Flood: ভুটানের শিনতাফু হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো। বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে সংকোশ নদীর জলস্তর না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফেরে। পরিস্থিতি এখন কেমন?

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।

লুলার জয়ের পরেও কেন স্বস্তিতে নেই 'পৃথিবীর ফুসফুস' আমাজন?

lula's amazon policy: প্রথম পর্বে পিছিয়ে থাকার পর, কুড়ি দিনে এক কোটিরও বেশি ভোট বাড়িয়ে লুলা দা সিলভা চতুর্থবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লুলার আমলে, আমাজনের জঙ্গল উজাড় হওয়া ৭১% কমেছে, তবু আইনসভায় ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি হওয়ায়, আমাজনের সংকটজনক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেলই।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

রেকর্ড ভাঙা সমুদ্রের উষ্ণতা: কতটা বিপদের মুখে পৃথিবী?

super el nino 2026: অক্টোবরে নিনো ৩.৪ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্য, ২০১৫-১৬-র রেকর্ড ভেঙে ৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে চলেছে। ডব্লিউএমও বলছে, এই এল নিনো ২০২৭ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে। ভারতে বর্ষায় ১৩% ঘাটতি, ৩৯.৮% কৃষিজমিতে খরা, ফসল উৎপাদন ৪% কমার আশঙ্কা রয়েছে।