নির্বাচনে ডাহা ফেল বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল, এই মাস্টারস্ট্রোকেই ত্রিপুরায় বাজিমাত বিজেপির

Tripura Assembly Election 2023 : রাস্তায় রাস্তায় গেরুয়া আবির নিয়ে নেমে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিজেপি নেতা থেকে প্রার্থী, প্রত্যেকের মুখেই চওড়া হাসি।

inscript
২ মিনিট
নির্বাচনে ডাহা ফেল বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল, এই মাস্টারস্ট্রোকেই ত্রিপুরায় বাজিমাত বিজেপির

বিদ্রোহ, বিরোধিতা – ছিল অনেককিছুই। বিরোধীদের লাগাতার প্রচারও ছিল। গর্জন, পাল্টা গর্জনে ভোটের আগেই উত্তাপ বেড়েছিল উত্তর-পূর্বে। কিন্তু শেষমেশ হাসি ফুটল গেরুয়া শিবিরের মুখে। হাজার চিন্তা, অজস্র বিনিদ্র রজনী পেরিয়ে ফের একবার ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখল করল বিজেপি। রাস্তায় রাস্তায় গেরুয়া আবির নিয়ে নেমে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিজেপি নেতা থেকে প্রার্থী, প্রত্যেকের মুখেই চওড়া হাসি। বিজয়ীর সার্টিফিকেট নেওয়ার সময় সেই হাসির ঝলক দেখা গেল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার মুখেও।

আপাতদৃষ্টিতে ত্রিপুরার ছবি এটাই। প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও এই রাজ্যে বিজেপির মুখেই শেষ হাসি ফুটল। দীর্ঘ বহু বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবার ফিরে আসার হুংকার দিয়েছিল বামেরা। পশ্চিমবঙ্গের মতো ত্রিপুরাতেও বাম-কংগ্রেস জোট হয়েছিল। সেইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসও সমস্ত শক্তি দিয়ে ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে নেমেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে একের পর এক হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীরা প্রচারে এসেছেন। কিন্তু ত্রিপুরাবাসী যে এখনও বিজেপির ওপরেই ভরসা করে, সেটা বৃহস্পতিবার, ২ মার্চের ফলাফলেই বোঝা গেল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘নোটা’র কাছেও গো হারা হারল তৃণমূল! কেন ত্রিপুরায় এমন ভরাডুবি হল জোড়াফুলের?

Tripura assembly election 2023 results : ২০২১ সালের পুরভোটে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় প্রায় ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। সেবারের ভোটে জেতা প্রার্থীও ছিল জোড়া ফুলের। তবে কেন এমন পরিস্থিতি হল?

বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল, তিন বিরোধী শক্তিই কার্যত দাঁত ফোটাতে পারেনি। অথচ নির্বাচনের আগে থেকেই লাইমলাইটে ছিল ত্রিপুরা। কারণ? ত্রিপুরায় বিজেপির দলের ভেতরেই জোর কোন্দল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র হচ্ছিল, মন্ত্রিসভার ভেতরেও চলছিল বিভিন্ন উত্তপ্ত আলোচনা। সেইসঙ্গে জাতীয় বিভিন্ন ইস্যু তো ছিলই। তবুও ৬০টি আসনের মধ্যে ৩৪টি আসন জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখল বিজেপি। কীভাবে হল এই কাজ? কী স্ট্র্যাটেজি ছিল বিজেপির। সমস্ত কিছুর মূলে রয়েছে একটাই নাম – ডঃ মানিক সাহা।

বামেদের দীর্ঘদিনের রাজত্ব ভেঙে ত্রিপুরায় গেরুয়া ঝড় তুলেছিলেন বিপ্লব দেব। তিনিই ছিলেন ত্রিপুরা বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তারপরই একটু একটু করে দলের ভেতর অসন্তোষ বাড়ে। সেসব সামলাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিলেন বিপ্লব দেব। তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষ থেকে দলের নিচু কর্মী সবারই ক্ষোভ বাড়ছিল। একটু একটু করে ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছিল গেরুয়া শিবির। এমনই পরিস্থিতিতে বিপ্লব দেবকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সরানো হয়। সেখানে আনা হয় মানিক সাহাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটাই ছিল মাস্টারস্ট্রোক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১০ বছরের ঘাসফুল দুর্গে ভাঙন! সাগরদিঘিতে কোন মন্ত্রে তৃণমূলকে হারাল বাম-কংগ্রেস জোট?

Sagardighi Bypoll Election 2023 : পরিবর্তনের হাওয়া ঘুরে গেল একেবারে? বিজেপি নয়, বাম-কংগ্রেসকেই কি বেছে নিচ্ছে মানুষ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আরও বক্তব্য, মাত্র কয়েক মাস আগে গুজরাত নির্বাচনের আগেও মুখ্যমন্ত্রী বদল করেছিল বিজেপি। তারপর সেখানেই সমস্ত রেকর্ড ভেঙে জয়লাভ করে তারা। এখানেও কার্যত সেই ফর্মুলাই কাজ করে গেল। মানিক সাহা দায়িত্ব নেওয়ার পর ত্রিপুরায় বিজেপির ভেতরের দ্বন্দ্ব একটু একটু করে কমতে থাকে। কিন্তু গুজরাতের মতো ভোটের ‘সুনামি’ দেখল না ত্রিপুরা। বিজেপি সেরকম দাবি করলেও, ত্রিপুরার ফলাফলের ভেতর যে শঙ্কাও লুকিয়ে রয়েছে, সেটা বলাই বাহুল্য।

কেন এমন মত? ২০১৮ সালের ত্রিপুরা নির্বাচনের কথা ভাবুন। ৫১টি আসনে লড়াই করেছিল বিজেপি। জিতেছিল ৩৫টিতে। আর এবার সেটি কমে দাঁড়াল ৩৪। মানিক সাহা, জিষ্ণু দেববর্মার মতো হেভিওয়েট নেতারাও কম মার্জিনে জিতেছেন। বিপদটা যে একেবারে কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছে, সেটা মানছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারাও। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও, ভোটের সুনামির ধারেকাছেও নেই বিজেপি। যা দেখেছিল গুজরাত। সেইসঙ্গে ত্রিপুরার নতুন রাজনৈতিক দল তিপ্রা মথার উত্থান অন্যান্য বিরোধী দল ও বিজেপি – দুই পক্ষকেই এবার বিপদে ফেলেছে। বাম-কংগ্রেস ১৪টি আর তিপ্রা মথা ১২টি আসন পেয়েছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন, কিংবা পরবর্তী ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের জন্য যা একটু হলেও বিপদের সংকেত দিয়ে রাখল বিজেপির কাছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।