ইজরায়েলের জেলে প্যালেস্টাইনের বন্দিদের সঙ্গে কী ঘটেছে?
Palestinian Prisoners: গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইজরায়েল থেকে ফেরত পাওয়া বহু মৃত বন্দির দেহে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। কারও হাত-পা বাঁধা ছিল, কারও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।

ইজরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে আটক প্যালেস্টাইনের বন্দিদের উপর ভয়ংকর মারধর, মানসিক নির্যানের অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া বহু বন্দিরা তাঁদের উপর হওয়া নির্যাতনের গল্প, অপমান, খিদে ও অমানবিক আচরণের কথা জানিয়েছেন। আল জাজিরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু বন্দি মুক্তি পাওয়ার পর তাঁদের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। কেউ চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন, কারও শরীরে গভীর ক্ষত, আবার কারওর হাত-পাই অচল হয়ে গিয়েছে।
মুক্তি পাওয়া এক বন্দি বলেন, “আমাকে প্রায়ই চোখ বেঁধে রাখা হত, খাবার দেওয়া হত না। জিজ্ঞাসাবাদের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মারধর করত।” আরেকজন জানান, “জেলে ঢোকার সময় আমার ওজন ছিল ১২৭ কেজি, বেরোবার সময় তা কমে ৬৮ কেজি হয়ে গিয়েছে। ঠিক মতো ঘুমাতে দিত না, পানীয় জল ও খাবার কম দিত।” আরও অনেকে বলেছেন, কারাগারে তাঁদের উপর মানসিক চাপও দেওয়া হত। দিনের পর দিন একা রাখা, আলো-হাওয়ার থেকে দূরে রাখা হত, এমনকি পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হত না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza Ceasefire: যুদ্ধের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। গাজায় যুদ্ধের কারণে ইজরায়েলের সীমান্ত এলাকায় প্রচুর ঘর-বাড়ির ক্ষতি হয়েছে, ব্যবসা বন্ধ হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইজরায়েল থেকে ফেরত পাওয়া বহু মৃত বন্দির দেহে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। কারও হাত-পা বাঁধা ছিল, কারও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। অনেক দেহে পোড়ার দাগ ও চোখ বেঁধে রাখার চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। একজন চিকিৎসক আল জাজিরা-কে বলেন, “আমরা এমন অনেক দেহ দেখেছি যেগুলোতে দাঁত ভাঙা, পিঠে ও মাথায় মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন আছে। এসব স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।”
ইজরায়েলের মানবাধিকার সংগঠন B’Tselem ওই সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, দেশের কারাগার ব্যবস্থা এখন 'নির্যাতনের ঘাঁটি'তে পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, এসব বন্দিকে রাজনৈতিক কারণে আটক রাখা হয়েছে এবং যেভাবে তাঁদের সঙ্গে আচরণ করা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনভঙ্গ করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন বিভাগও বলেছে, বন্দিদের উপর এই আচরণকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza Ceasefire: যুদ্ধবিরতির পরও গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইজরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সব অঞ্চলগুলিতে মানুষ ফিরেও যেতে পারছে না।
আল জাজিরা জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৯,০০০ প্যালেস্টাইন এখনও ইজরায়েলের জেলে বন্দি আছেন। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধেই কোনো অভিযোগ নেই, বিচার ছাড়াই 'প্রশাসনিক আটক' নামের একটি ব্যবস্থার আওতায় কারাগারে রয়েছেন। এই বন্দিদের মধ্যে অন্যতম প্যালেস্টাইনের নেতা মারওয়ান বারঘুতি। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনিও কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে ইজরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বন্দিদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর আন্তর্জাতিক মহল স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়নি। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইজরায়েলের জেলগুলিতে যা ঘটছে, তার ন্যায়বিচার না হলে নির্যাতনের এই চক্র চলতেই থাকবে।







