যুদ্ধ শেষ! এখন কী পরিস্থিতি গাজায়?

Gaza Ceasefire: যুদ্ধবিরতির পরও গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইজরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সব অঞ্চলগুলিতে মানুষ ফিরেও যেতে পারছে না।

Tanvia Barua
২ মিনিট
যুদ্ধ শেষ! এখন কী পরিস্থিতি গাজায়?

গাজায় চলমান সংঘর্ষ ও মানবিক সংকট এখনও স্থিতিশীল হয়নি। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে, তারপরও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ইজরায়েলি সেনারা কিছু অংশে সরে গেলেও, গাজার অধিকাংশ এলাকা এখনও ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের নিজস্ব বাড়ি ফিরে যেতে পারছে না। খাদ্য, পানীয় জল ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল এবং ভাঙা ঘর-বাড়ি সব মিলিয়ে এখনও দিশেহারা ফিলিস্তিনিরা। ত্রাণ সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা শুরু হলেও, বাস্তবে তা যথেষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের জীবন এখনও সঙ্কটে।

যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী, গাজায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১৩৭ ট্রাক পৌঁছেছে। ত্রাণের মধ্যে জল এবং জ্বালানির সরবরাহ নেই। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, খাদ্য সংকট এখনও প্রকট, এবং মানুষ প্রতিদিন খাবারের জন্য সংগ্রাম করছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজায় প্রতি ৫২ মিনিটে একজন শিশুর মৃত্যু! সামনে এল যে তথ্য

Gaza Crisis: নিহতদের মধ্যে ১,০২৯ জনের বয়স এক বছরের নিচে, ৫,০৩১ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম, আর ৪২০ জন শিশু যুদ্ধের মাঝেই জন্ম নিয়ে মারা গিয়েছে। ১,১০২ জন শিশু যুদ্ধের কারণে হাত বা পা হারিয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরও গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইজরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সব অঞ্চলগুলিতে মানুষ ফিরেও যেতে পারছে না। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দিনে এই অঞ্চলে ইজরায়েলি গুলিতে নয় জন ফিলিস্তিনি নিহতও হয়েছেন। সুজাইয়া এলাকায়ও দুই ফিলিস্তিনির গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গাজা ২০০৭ সাল থেকে হামাসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরের ইজরায়েলি হামলার পরে হামাসের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমে যায়। যুদ্ধবিরতির পর কিছু এলাকা থেকে ইজরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ায় হামাস আবারও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। তবে, আইনশৃঙ্খলা এখনও ভঙ্গুর। হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছেই। অন্যদিকে, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলেও, আমরা তাদের অস্ত্রমুক্ত করব।” হামাস এখনও অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজায় গুলেন-বেরি সিনড্রোম! ইজরায়েলি হানাদারির মধ্যেই হু হু করে বাড়ছে এই রোগ

Syndrome in Gaza: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাস থেকে গাজায় জিবিএস-এর ৮৫টি সন্দেহজনক কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। এই রোগে আটটি মৃত্যুর ঘটনাও জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, মৃত ২৮ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। হামাস ইতোমধ্যে চারটি মরদেহ ইজরায়েলের হাতে দিয়েছে। তবে মরদেহ ফেরত দেওয়ার কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মরদেহ খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় শান্তি ফেরেনি। ত্রাণ সংকট, ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণ, হামাসের অস্ত্র সমর্পণ না করা, এবং মরদেহ ফেরতের সমস্যা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ আগেই বলেছিলেন, শুধু যুদ্ধবিরতি দিয়ে স্থায়ী শান্তি আসবে না। এর জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রচেষ্টা, মানবাধিকার রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান জরুরি।

গাজার মানুষ এখনও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনযাপন করছে। খাদ্য, জল, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ সবই এখনও অপ্রতুল। শিশুদের স্কুল বন্ধ, হাসপাতালেও সেবা সীমিত। এসব মানুষকে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তৎপর হতে হবে। শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়, মানবিক পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এরই মধ্যে আবার অনেক দেশ ইজরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আগেই ইজরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে সচেতনতা কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীত ভুলে গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে। তাই ইজরায়েলকে স্বাগত জানানোর আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক এবং দায়িত্বশীল হতে হবে।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।