যুদ্ধ শেষ! এখন কী পরিস্থিতি গাজায়?
Gaza Ceasefire: যুদ্ধবিরতির পরও গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইজরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সব অঞ্চলগুলিতে মানুষ ফিরেও যেতে পারছে না।

গাজায় চলমান সংঘর্ষ ও মানবিক সংকট এখনও স্থিতিশীল হয়নি। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে, তারপরও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ইজরায়েলি সেনারা কিছু অংশে সরে গেলেও, গাজার অধিকাংশ এলাকা এখনও ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের নিজস্ব বাড়ি ফিরে যেতে পারছে না। খাদ্য, পানীয় জল ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল এবং ভাঙা ঘর-বাড়ি সব মিলিয়ে এখনও দিশেহারা ফিলিস্তিনিরা। ত্রাণ সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা শুরু হলেও, বাস্তবে তা যথেষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের জীবন এখনও সঙ্কটে।
যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী, গাজায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১৩৭ ট্রাক পৌঁছেছে। ত্রাণের মধ্যে জল এবং জ্বালানির সরবরাহ নেই। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, খাদ্য সংকট এখনও প্রকট, এবং মানুষ প্রতিদিন খাবারের জন্য সংগ্রাম করছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza Crisis: নিহতদের মধ্যে ১,০২৯ জনের বয়স এক বছরের নিচে, ৫,০৩১ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম, আর ৪২০ জন শিশু যুদ্ধের মাঝেই জন্ম নিয়ে মারা গিয়েছে। ১,১০২ জন শিশু যুদ্ধের কারণে হাত বা পা হারিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরও গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইজরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সব অঞ্চলগুলিতে মানুষ ফিরেও যেতে পারছে না। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দিনে এই অঞ্চলে ইজরায়েলি গুলিতে নয় জন ফিলিস্তিনি নিহতও হয়েছেন। সুজাইয়া এলাকায়ও দুই ফিলিস্তিনির গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গাজা ২০০৭ সাল থেকে হামাসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরের ইজরায়েলি হামলার পরে হামাসের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমে যায়। যুদ্ধবিরতির পর কিছু এলাকা থেকে ইজরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ায় হামাস আবারও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। তবে, আইনশৃঙ্খলা এখনও ভঙ্গুর। হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছেই। অন্যদিকে, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলেও, আমরা তাদের অস্ত্রমুক্ত করব।” হামাস এখনও অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Syndrome in Gaza: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাস থেকে গাজায় জিবিএস-এর ৮৫টি সন্দেহজনক কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। এই রোগে আটটি মৃত্যুর ঘটনাও জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, মৃত ২৮ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। হামাস ইতোমধ্যে চারটি মরদেহ ইজরায়েলের হাতে দিয়েছে। তবে মরদেহ ফেরত দেওয়ার কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মরদেহ খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় শান্তি ফেরেনি। ত্রাণ সংকট, ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণ, হামাসের অস্ত্র সমর্পণ না করা, এবং মরদেহ ফেরতের সমস্যা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ আগেই বলেছিলেন, শুধু যুদ্ধবিরতি দিয়ে স্থায়ী শান্তি আসবে না। এর জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রচেষ্টা, মানবাধিকার রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান জরুরি।
গাজার মানুষ এখনও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনযাপন করছে। খাদ্য, জল, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ সবই এখনও অপ্রতুল। শিশুদের স্কুল বন্ধ, হাসপাতালেও সেবা সীমিত। এসব মানুষকে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তৎপর হতে হবে। শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়, মানবিক পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এরই মধ্যে আবার অনেক দেশ ইজরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আগেই ইজরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে সচেতনতা কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীত ভুলে গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে। তাই ইজরায়েলকে স্বাগত জানানোর আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক এবং দায়িত্বশীল হতে হবে।







