গাজায় যুদ্ধবিরতি নেতানিয়াহুকে নিঃসঙ্গ করে দিল?
Gaza Ceasefire: যুদ্ধের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। গাজায় যুদ্ধের কারণে ইজরায়েলের সীমান্ত এলাকায় প্রচুর ঘর-বাড়ির ক্ষতি হয়েছে, ব্যবসা বন্ধ হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে।

ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সমস্যাই যেন আরও বেড়েছে। যুদ্ধ শেষ হলেও এখন তাঁর সামনে একের পর এক রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামাজিক সংকট দেখা দিচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতি নেতানিয়াহুর জন্য কী কী সমস্যা তৈরি করেছে?
আন্তর্জাতিকভাবে একা হয়ে পড়া
গাজায় ইজরায়েলের হামলায় হাজার হাজার প্যালেস্টাইনির মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল, এমনকি শরণার্থী শিবিরও বোমায় ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা দেশগুলোও এখন চাপ দিচ্ছে, যেন ইজরায়েল মানবিক দায়বদ্ধতা মেনে চলে। ফলে নেতানিয়াহু আগের মতো আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছেন না। যুদ্ধবিরতির পর তিনি অনেকটাই একা হয়ে পড়েছেন।
নিজের জোটের ভেতর বিরোধ
নেতানিয়াহু-র সরকার মূলত ডানপন্থী ও ধর্মীয় চরমপন্থী দলগুলোর উপর নির্ভর করে চলছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে তাঁদের অনেকেই ক্ষুব্ধ। তাঁরা মনে করেন, হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করার আগেই যুদ্ধ থামানো ভুল হয়েছে। ফলে নেতানিয়াহু-র জোট ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza: প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন ইজরায়েলকে তাদের ক্লাউড ও এআই-এর বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে।
দুর্নীতি মামলা
যুদ্ধ চলাকালীন নেতানিয়াহু-র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তিনটি মামলা আদালতে ঝুলে ছিল। যুদ্ধের কারণে এসব বিষয় পিছিয়ে গিয়েছে। এখন যুদ্ধবিরতির পর আদালতের প্রক্রিয়া আবারও জোরদার হতে পারে। তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও এই সুযোগে নেতানিয়াহু-র বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পর এখন তাঁকে শুধু রাজনৈতিক নয়, আইনি লড়াইও লড়তে হবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমস্যা
যুদ্ধের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। গাজায় যুদ্ধের কারণে ইজরায়েলের সীমান্ত এলাকায় প্রচুর ঘর-বাড়ির ক্ষতি হয়েছে, ব্যবসা বন্ধ হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। এখন যুদ্ধবিরতির পর সরকারকে সেই ক্ষতি পূরণের দায় নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজও জরুরি। ফলে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে সরকার দিশেহারা।
চরমপন্থী গোষ্ঠীর ক্ষোভ
ইজরায়েলের ভেতরে অনেক র্যাডিক্যাল গোষ্ঠী মনে করছে, নেতানিয়াহু দুর্বল হয়ে গেছেন। তারা প্রকাশ্যে বলছে, যুদ্ধবিরতি মানে হামাসকে সময় দেওয়া। তাদের দাবি, যুদ্ধ থামানো মানে আত্মসমর্পণ। এই চরমপন্থীরা এখন রাস্তায় বিক্ষোভ করছে এবং নেতানিয়াহুর পদত্যাগও দাবি করছে। এতে তাঁর জনপ্রিয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইজরায়েলের ভাবমূর্তি সংকটে
যুদ্ধের সময় গাজায় শিশু ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ছবি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইজরায়েলকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিচ্ছে। যুদ্ধবিরতির পরও সেই ভাবমূর্তি এখনও বদলানো যায়নি। নেতানিয়াহু চাইছেন, ইজরায়েলকে ন্যায্য ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তা সহজ নয়।
একটা যুদ্ধবিরতি সাধারণত শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু ইজরায়েলের ক্ষেত্রে তা উল্টো হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলেও নেতানিয়াহুর সামনে এখন আরও জটিল পরিস্থিতি— জোটের ভাঙন, আন্তর্জাতিক চাপ, দুর্নীতি মামলা ও দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। তিনি যদি দ্রুত কোনো ইতিবাচক সমাধান না খুঁজে পান, তবে এই যুদ্ধবিরতিই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।






